© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

৩০০ বছর পর নেদারল্যান্ডস থেকে তাম্রফলক ফেরত পাচ্ছে ভারত

শেয়ার করুন:
৩০০ বছর পর নেদারল্যান্ডস থেকে তাম্রফলক ফেরত পাচ্ছে ভারত

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১১:২৯ এএম | ১৭ মে, ২০২৬
উপনিবেশিক আমলে লুণ্ঠিত ঐতিহাসিক সম্পদ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টায় বড় সাফল্য পেয়েছে ভারত। তামিলনাড়ুর নাগাপত্তনম থেকে ৩০০ বছরেরও বেশি সময় আগে নিয়ে যাওয়া একাদশ শতাব্দীর চোল রাজবংশের ঐতিহাসিক তাম্রফলকগুলো (তামার প্লেট) ভারতকে ফেরত দিয়েছে নেদারল্যান্ডস।

শনিবার (১৬ মে) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভারত সফরকালে ডাচ প্রধানমন্ত্রী রব জেটেন আনুষ্ঠানিকভাবে এই চোল থালাগুলো হস্তান্তর করেন।
হস্তান্তর করা এই ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলোর মধ্যে দুটি সেট রয়েছে। প্রথম সেটে রয়েছে ২১টি বড় এবং ৩টি ছোট তামার প্লেট, যা একটি ব্রোঞ্জের আংটি দিয়ে একসঙ্গে আটকানো। এই প্লেটগুলোতে মূলত প্রাচীন তামিল ও সংস্কৃত ভাষায় খোদাই করে লেখা রয়েছে।

ইতিহাস অনুযায়ী, চোল বংশের মহান রাজা প্রথম রাজেন্দ্র চোল তার পিতা রাজা প্রথম রাজরাজের একটি মৌখিক প্রতিশ্রুতিকে রাষ্ট্রীয় দলিলে রূপ দিতে এই ফলকগুলো তৈরি করেছিলেন। এগুলো ‘আনাইমঙ্গলম তাম্রফলক’ নামেও পরিচিত, যাতে তৎকালীন একটি বৌদ্ধ তীর্থস্থান এবং কয়েকটি গ্রামের রাজস্বের অধিকার সংক্রান্ত চুক্তি লিপিবদ্ধ আছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ১৬৮৭ থেকে ১৭০০ সালের মধ্যে ডাচ ইস্ট ইন্ডিজ কোম্পানি যখন নাগাপত্তনম দখল করে দুর্গ নির্মাণ করছিল, তখন মাটি খুঁড়ে এই প্লেটগুলো বের করা হয়। ১৭১২ সালের দিকে এক ডাচ যাজক দম্পতি এগুলো নেদারল্যান্ডসে নিয়ে যান।

পরবর্তীতে ১৮৬২ সালে তাদের বংশধররা প্লেটগুলো নেদারল্যান্ডসের লাইডেন বিশ্ববিদ্যালয়কে দান করেন। তখন থেকেই এগুলো ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের দখলে ছিল।

২০২৩ সালে ভারতের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এই মূল্যবান পুরাকীর্তিগুলো ফেরত চেয়ে নেদারল্যান্ডস সরকারের কাছে আবেদন করে। ডাচ সরকারের জাতীয় উপনিবেশিক সংগ্রহ কমিটি তদন্ত করে দেখতে পায়, এই প্লেটগুলো চোল আমলের ভারতীয় সম্পদ এবং তৎকালীন স্থানীয় মানুষের সম্মতি ছাড়াই এগুলো জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এরপর কমিটি কোনো শর্ত ছাড়াই এগুলো ভারতকে ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করে।

বর্তমানে প্রতীকী হস্তান্তর হলেও আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে প্লেটগুলো স্থায়ীভাবে ভারতে এসে পৌঁছাবে। ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগ এগুলো গ্রহণ করবে এবং পরবর্তীতে সাধারণ মানুষের পরিদর্শনের জন্য এগুলো কোথায় রাখা হবে, সেই সিদ্ধান্ত তারা নেবে। ঐতিহাসিক এই সম্পদ ফেরত পাওয়ায় আনন্দ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক্স-এ (সাবেক টুইটার) একটি পোস্টে চোল রাজবংশের সামুদ্রিক দক্ষতা ও সংস্কৃতির প্রতি গর্ব প্রকাশ করেন এবং নেদারল্যান্ডস সরকার ও লাইডেন বিশ্ববিদ্যালয়কে ধন্যবাদ জানান।

সূত্র : দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

কেএন/টিকে

মন্তব্য করুন