জুনেই বাড়ছে বিদ্যুতের দাম, চলতি সপ্তাহে গণশুনানি
ছবি: সংগৃহীত
১১:৫৫ এএম | ১৭ মে, ২০২৬
আগামী মাসেই বাড়ছে বিদ্যুতের দাম। নিয়ন্ত্রক সংস্থা এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন বলছে, চলতি সপ্তাহে গণশুনানি শেষ করে মে মাসেই নতুন দাম চূড়ান্ত করবে তারা। সেটি হলে জুন থেকে গ্রাহকদের গুনতে হবে নতুন দাম। জ্বালানি তেল, এলপি গ্যাসের পর বিদ্যুতের দাম বাড়লে তা মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হবে বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ। আর অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দাম বাড়ানোর নেতিবাচক প্রভাব কেবল জনজীবনে নয়, পড়বে অর্থনীতিতেও। তবে বাধ্য হয়েই দাম বাড়াতে হচ্ছে বলেও মনে করেন তারা।
ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের জেরে দেশেও বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। আর তার প্রভাব পড়েছে গণপরিবহন থেকে নিত্যপণ্য পরিবহনেও। একই কারণে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে বোতলজাত এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের দামও।
এমন পরিস্থিতিতে টানাপড়েনে রয়েছেন নিম্নবিত্ত, খেটে খাওয়া ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষজন। এরই মধ্যে চলছে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর তোড়জোড়। এক লাফে ২৯ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়ানোর প্রস্তাব সরকারি কোম্পানিগুলোর। সেই প্রস্তাব যাচাই-বাছাই করে আসছে বুধবার ও বৃহস্পতিবার গণশুনানি করতে যাচ্ছে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন।
এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) এবং বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) অধীনস্থ সঞ্চালন কোম্পানি ও বিতরণ কোম্পানি প্রস্তাব পাঠিয়েছে। পাইকারি, খুচরা এবং সঞ্চালন ব্যয় বৃদ্ধির জন্য। গণশুনানির পর মতামতের ভিত্তিতে আমরা দ্রুতই এর মূল্য নির্ধারণ করবো।
বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর এমন আভাসে চিন্তায় সাধারণ মানুষ। তারা জানান, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকতেই বিল বাড়ানোর সিদ্ধান্ত তাদের জন্য নতুন চাপ তৈরি করবে। আয় না বাড়লেও নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে বলে অভিযোগ তাদের। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে সংসার চালানো আরও কঠিন হয়ে পড়বে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা।
এদিকে, সরকার বলছে, গত অর্থবছরে বিদ্যুতে ২ হাজার ৬৩৮ কোটি টাকা লোকসান দিতে হয়েছে। দাম না বাড়ালে ২০২৬ সালে এই ঘাটতি দাঁড়াবে ৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকারও বেশি। তবে দাম বাড়লে এর নেতিবাচক প্রভাব অপরিহার্য।
সিপিডি অতিরিক্ত পরিচালক (গবেষণা) তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, জনগণের জন্য এটা নিঃসন্দেহে চাপের হবে। এটা শুধুমাত্র বিদ্যুতের দাম বা বিল কতটা বাড়বে, সেই বিষয় নয়। সার্বিকভাবেই অর্থনীতিতে দ্রব্যমূল্য বাড়ার একটি প্রবণতা দেখা যেতে পারে। সরকারের পক্ষে ভর্তুকি পুরোপুরি দেওয়া হয়তো সম্ভব হবে না। সুতরাং তারা কতটা সমন্বয় করতে পারবেন, সে বিষয়ে একটি পরিষ্কার ও স্বচ্ছ ধারণা থাকা দরকার।
দেশের প্রায় ৫ কোটি গ্রাহকের মধ্যে যারা ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহার করবেন, তাদের লাইফলাইন অর্থাৎ কম দামের সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব সরকারের। আগে এটি ৫০ ইউনিট থাকলেও ২০০ ইউনিট পর্যন্ত গ্রাহকরা কম দামের সুবিধা পেতেন। এবার সেই সুবিধা তুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্তকেও গুনতে হবে উচ্চ হারের বিল।
কেএন/টিকে