দৈনিক ৮০ কেজি ঘাস খায় ‘রাজাবাবু ডন’
ছবি: সংগৃহীত
০৭:৩৫ পিএম | ১৮ মে, ২০২৬
শেরপুরে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে নালিতাবাড়ী উপজেলার কাপাশিয়া পশ্চিমপাড়া এলাকার বিশাল আকৃতির ষাঁড় ‘রাজাবাবু ডন’।
১১ ফুট লম্বা ও ৬ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার ‘ফ্রিজিয়ান’ জাতের এ ষাঁড়টির ওজন প্রায় ৩৩ মণ। বিশাল আকৃতির কারণে ইতোমধ্যে এলাকায় ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।
কাপাশিয়া পশ্চিমপাড়ার ‘আলিফ লাম ডেইরি অ্যান্ড এগ্রোর’ মালিক মাসুদ পারভেজ মাসুম প্রায় তিন বছর আগে পাশের নকলা উপজেলা থেকে ১ লাখ ৬ হাজার টাকায় বাছুর অবস্থায় ষাঁড়টি কিনেছিলেন।
এরপর খৈল, খড়, ভুসি ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে যত্নে বড় করা হয় তাকে। খামারের কর্মীরাই আদর করে নাম রাখেন ‘রাজাবাবু ডন’।
‘আলিফ লাম এগ্রোর’ ম্যানেজার রফিক মিয়া বলেন, “আমাদের খামারে অনেক গরু আছে, তবে রাজাবাবু ডনের মতো আর একটিও নেই। এবার পুরো শেরপুর জেলার মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে।
“এটা কেজি হিসেবে বিক্রি করলেও দাম আসবে ১৪ থেকে ১৫ লাখ টাকা। তবে মালিকপক্ষ নিজেরা এবার এই বিশাল আকৃতির ষাড়টি কোররবানি করবেন।
তিনি বলেন, “আমাদের খামারে ১০টি বড় গরু আছে। অন্যগুলা ওজনে ২০ থেকে ২৫ মণের মধ্যে হবে। প্রতিদিন রাজাবাবু ডনের অনেক যত্ন নিতে হয়। তিন-চার বার গোসল করানো হয়। দিনে ঘাস খায় ৮০ কেজি। সঙ্গে অন্যান্য খাবার তো আছেই।”
খামারের শ্রমিক হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, “এত বড় ষাঁড় পালন করা সহজ না। আমরা আমাদের পরিবারের সদস্যের মতো রাজাবাবু ডনের যত্ন নিয়েছি। ফার্মের মালিক এখানে সব সময় থাকতে পারেন না।
“তাই তিনি আমাদের কাছে প্রতিদিন রাজাবাবু ডনের কথা জানতে চান। ফার্মে সব গরুর থেকে তার প্রতি আমাদের আলাদা মহব্বত কাজ করে। আমরাই আদর করে তার নাম রেখেছি রাজাবাবু ডন।”
দর্শনার্থী ফেরদৌস আলী বলছিলেন, “দেখতে অনেকটা হাতির মতো লাগছে। বড় গরুর কথা শুনে এক নজর দেখতে এসেছি। এ ধরনের বড় ষাঁড় সাধারণত অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় দেখা যায়।”
আনিসুর রহমান ও আবুল হাশিম বলছিলেন, বাংলাদেশেও এমন বিশাল আকৃতির গরু দেখে তাদের খুব ভালো লাগছে। ‘রাজাবাবু ডন’ নামটিও ষাঁড়টির সঙ্গে যথার্থ মানিয়েছে বলে মনে হয়েছে।
শেরপুর জেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রেজুয়ানুল হক ভূঁইয়া বলেন, “শেরপুরে গবাদিপশুর জাত উন্নয়নের সুফল হিসেবে বর্তমানে ‘ফ্রিজিয়ান’ ও ‘শাহিয়াল’ জাতের বড় বড় গরু আমাদের খামারিরা প্রস্তুত করেছেন। আসন্ন কোরবানির হাটে শেরপুরের বড় গরুগুলো চাঞ্চল্য সৃষ্টি করবে।
তিনি বলেন, “প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে খামারিদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে গরুগুলো সুস্থ ও নিরাপদভাবে বিক্রি করতে পারেন। আমাদের নিয়মিত মনিটরিং ব্যবস্থা চলমান রয়েছে।
জেলায় এবার ৯১হাজার ৭৩৮টি কোরবানির পশু প্রস্তুত রয়েছে। আভ্যন্তরীণ চাহিদা রয়েছে ৬৩ হাজার ৭৪০টি। উদ্বৃত্ত রয়েছে ২৭ হাজার ৯৯৮টি।

আলিফ লাম ডেইরি অ্যান্ড এগ্রোর মালিক মাসুদ পারভেজ মাসুম বলেন, “আমাদের খামারে মোট ৭০টি গরু রয়েছে। এর মধ্যে ৬০টি এবার কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। ‘রাজাবাবু ডন’-এর কাছাকাছি আরও চারটি থাকলেও রাজাবাবু ডনই সেরা।”
তিনি বলেন, “বাংলার ডন খুবই শান্ত স্বভাবের গরু। প্রতিদিন ২০ কেজি দানাদার খাদ্যের পাশাপাশি খড়, ঘাস, ভূষিসহ বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক খাবার দেওয়া হয়।
“শুধু খাবারের পেছনেই প্রতি মাসে প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। গরুটিকে তিন বছর ধরে লালন-পালন করা হচ্ছে।”
এসএন