বৈশ্বিক বিনিয়োগ গন্তব্যে পরিণত হচ্ছে বাংলাদেশ: অর্থমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
০১:৫১ এএম | ১৯ মে, ২০২৬
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সরকারের সংস্কার উদ্যোগ, নেতৃত্বের দৃঢ়তা, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং উচ্চাভিলাষী উন্নয়ন কর্মসূচির কারণে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে বিশ্বের পরবর্তী বড় বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে।
সোমবার (১৮ মে) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি)’র সভা শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতিকে ভঙ্গুর অবস্থা থেকে বের করে আনতে ৩ লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) গ্রহণ করা হয়েছে, যা বড় আকারের বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করবে।
তিনি বলেন, বিগত বছরগুলোর প্রতিবন্ধকতা ও স্থবিরতা কাটিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে বিনিয়োগ অপরিহার্য। বিনিয়োগ ছাড়া কোনো প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান বা উন্নয়ন হবে না। নির্বাচিত সরকারের অধীনে শক্তিশালী রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং প্রশাসনিক দক্ষতার কারণে এই বৃহৎ উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকার আত্মবিশ্বাসী। এটি অঙ্গীকারের বিষয়। আমরা মাত্র তিন মাসের মধ্যেই দেখিয়ে দিয়েছি, আমরা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে এবং তা বাস্তবায়ন করতে পারি।
একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সত্ত্বেও সরকার কেন একটি বৃহৎ এডিপি বেছে নিয়েছে, তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মন্ত্রী একটি নলকূপের উপমা ব্যবহার করে বলেন, যখন একটি নলকূপের পানির স্তর নেমে যায়, তখন আবার পানি আসা শুরু করার আগে তাতে পানি ঢালতে হয়। একইভাবে বিনিয়োগ না করলে একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের কোনো উপায় নেই।
অর্থমন্ত্রী দাবি করেন, সরকারের বর্তমান অর্থনৈতিক কৌশল আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছে। বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগকারী, ফান্ড ম্যানেজার ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো এখন বাংলাদেশকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সাম্প্রতিক আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, জেপি মর্গানের কর্মকর্তারা বাংলাদেশের নেতৃত্বের দিকনির্দেশনা দেখে দেশে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তারা আমাদের বলেছেন, তারা ৬৬টি দেশে কার্যক্রম পরিচালনা করলেও বাংলাদেশের নেতৃত্ব কোন দিকে যাচ্ছে তা পর্যবেক্ষণ করার কারণেই তারা এখানে আসছেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, নেতৃত্বের দৃঢ়তা, গতিশীলতা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াই বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করছে। বাংলাদেশ এখন বিশ্বে একটি গ্রহণযোগ্য বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।
রাজস্ব আদায় সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী স্বীকার করেন, বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত বিশ্বে সর্বনিম্নগুলোর মধ্যে অন্যতম। আমরা যদি একটি শক্তিশালী অর্থনীতি হতে চাই, তাহলে এ পরিস্থিতি চলতে দেয়া যাবে না।
তিনি জানান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) সংস্কার কার্যক্রম চলছে এবং কর নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা হচ্ছে, যাতে আরও মানুষ কর ব্যবস্থার আওতায় আসে। দীর্ঘদিন ধরে একই করদাতারা বোঝা বহন করেছে, কিন্তু কর নেটওয়ার্ক সম্প্রসারিত হয়নি। আমরা এখন তা সম্প্রসারণ করছি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আরও বেশি মানুষকে করের আওতায় আনলে উন্নত সরকারি পরিষেবা এবং সামাজিক সুরক্ষার মাধ্যমে নাগরিকরা উপকৃত হবেন। আগে সুবিধাগুলো কিছু নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর পকেটে যেত। এখন সুবিধাগুলো বাংলাদেশের জনগণের কাছে পৌঁছাবে।
বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি ভিন্ন ভিন্ন গোষ্ঠীর জন্য- একথা উল্লেখ করে তিনি সামাজিক সুরক্ষা ও সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা কর্মসূচিতে বরাদ্দ বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের সপক্ষে যুক্তি দেন।
তিনি বলেন, যে কৃষক ‘কৃষক কার্ড’ পাচ্ছেন, তিনি আর ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পাওয়া ব্যক্তি এক নন। এগুলো আলাদা আলাদা উপকারভোগীদের জন্য গৃহীত সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক কর্মসূচি।
এসকে/টিএ