© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

বিশ্বকাপে ডাক পেয়েই পেলে-রোনালদোদের পাশে নাম লেখালেন নেইমার

শেয়ার করুন:
বিশ্বকাপে ডাক পেয়েই পেলে-রোনালদোদের পাশে নাম লেখালেন নেইমার

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৪:১৮ এএম | ১৯ মে, ২০২৬
নানা সন্দেহ, সংশয় আর একগাদা প্রশ্ন ঘিরেই রেখেছিল ২০২৬ বিশ্বকাপে নেইমারের ডাক পাওয়াকে। বিশেষ করে ইতালীয় কোচ কার্লো আনচেলত্তি সেলেসাওদের দায়িত্ব নেওয়ার পর একবারও দলে জায়গা পাননি তিনি। তবে সব জল্পনা-কালের অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত ২০২৬ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত স্কোয়াডে জায়গা করে নিয়েছেন এই তারকা।

২০২৬ বিশ্বকাপের মাধ্যমে নেইমার ব্রাজিলের ইতিহাসের অনন্য এক ক্লাবে নাম লেখালেন। পেলেসহ ব্রাজিলের আরও সাত কিংবদন্তি চারটি করে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছেন। সেই অভিজাত তালিকায় যুক্ত হওয়া অষ্টম ব্রাজিলীয় তারকা নেইমার। সেই সাত কিংবদন্তির সংক্ষিপ্ত প্রোফাইল তুলে ধরা হলো:

পেলে

ফুটবলের রাজা এবং ব্রাজিলের হয়ে তিনবারের বিশ্বজয়ী এই কিংবদন্তি ১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৬৬ এবং ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপে অংশ নেন। ১৯৫৮ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে সেলেসাওদের হয়ে বিশ্বকাপে অভিষেক ঘটে তাঁর এবং সুইডেনের বিপক্ষে ফাইনালে জোড়া গোল করেন। ১৯৬২ বিশ্বকাপে চোটের কারণে চেকোস্লোভাকিয়ার বিপক্ষে ফাইনালে খেলতে না পারলেও, ১৯৭০ বিশ্বকাপ ফাইনালে ইতালির বিপক্ষে ৪-১ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে প্রথম গোলটি করেছিলেন তিনি; যা ব্রাজিলকে এনে দেয় জুলে রিমে ট্রফি নিজেদের করে নেওয়ার গৌরব।

দালমা সান্তোস

পালমেইরাসের এই রাইটব্যাক ক্লাবটির হয়ে রেকর্ড ৪৯৮ ম্যাচ খেলেছেন। ১৯৫৪, ১৯৫৮, ১৯৬২ এবং ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপের দলে থাকা দালমার নামের পাশে আছে দুবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার তকমা। পুরো ক্যারিয়ারে কোনো লাল কার্ড না দেখার অনন্য রেকর্ড রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। ১৯৯৭ ও ২০০০ সালে ফিফা কর্তৃক সর্বকালের সেরা রাইটব্যাক হিসেবে নির্বাচিত হন তিনি।



কাস্তিলহো

ফ্লুমিনেন্সের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি (৬৯৮) ম্যাচ খেলা এই গোলরক্ষক ১৯৫০, ১৯৫৪, ১৯৫৮ এবং ১৯৬২ সালের বিশ্বকাপের দলে ডাক পেয়েছিলেন। তবে তিনি কেবল ১৯৫৪ সালের বিশ্বকাপে শুরুর একাদশে মূল গোলরক্ষক ছিলেন। বাকি আসরগুলোতে—১৯৫০ সালে বারবোসা এবং ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে জিলমারের ব্যাকআপ হিসেবে বেঞ্চে ছিলেন তিনি।

নিলতন সান্তোস

কিংবদন্তি এই লেফটব্যাক ১৯৫০, ১৯৫৪, ১৯৫৮ এবং ১৯৬২ সালের বিশ্বকাপে খেলেছিলেন। ২০০০ সালে ফিফা কর্তৃক সর্বকালের সেরা লেফটব্যাক হিসেবে স্বীকৃতি পান তিনি।

এমেেরসন লেয়াও

পালমেইরাসের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ (৬২১ট) ম্যাচ খেলা এই গোলরক্ষক ১৯৭০, ১৯৭৪, ১৯৭৮ এবং ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের দলে ডাক পেয়েছিলেন। ১৯৭০ সালে ব্রাজিল যখন তৃতীয়বারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়, তখন লেয়াওয়ের বয়স ছিল মাত্র ২০ বছর। সেবার তিনি ছিলেন ফেলিক্স মিয়েল্লির বিকল্প। তবে ১৯৭৪ এবং ১৯৭৮ সালের বিশ্বকাপে তিনি ব্রাজিলের এক নম্বর গোলরক্ষক হিসেবে মূল একাদশে খেলেন।

কাফু

চারটি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি কাফু ইতিহাসের একমাত্র খেলোয়াড় যিনি টানা তিনটি বিশ্বকাপের ফাইনাল (১৯৯৪, ১৯৯৮ এবং ২০০২) খেলার অনন্য কীর্তি গড়েছেন। ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কও তিনি। এরপর ২০০৬ সালের বিশ্বকাপেও তিনি দলের নেতৃত্ব দেন, যেখানে কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের কাছে হেরে বিদায় নেয় ব্রাজিল।

রোনালদো

ব্রাজিলের কিংবদন্তি এই স্ট্রাইকার ১৯৯৪, ১৯৯৮, ২০০২ এবং ২০০৬ সালের বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিলেন। ব্রাজিলের পঞ্চম বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম নায়ক ছিলেন তিনি। আসরে সর্বোচ্চ ৮গোল করে জিতে নেন গোল্ডেন বুটও।। ২০১৪ বিশ্বকাপ পর্যন্ত এককভাবে সর্বোচ্চ গোলের (১৫টি) মালিক ছিলেন রোনালদো।

আরআই/টিকে

মন্তব্য করুন