আবারো প্রভাকরণের সঙ্গে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম বিজয়ের
ছবি: সংগৃহীত
০৫:১০ পিএম | ১৯ মে, ২০২৬
শ্রীলঙ্কার তামিলদের প্রতি সংহতি জানাতে গিয়ে ফের এলটিটিই নেতা ভেলুপিল্লাই প্রভাকরণের প্রসঙ্গ তুলে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিলেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়। সমাজমাধ্যমে তার সাম্প্রতিক বার্তাকে কেন্দ্র করে এখন তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, তামিল আবেগকে আরও শক্তিশালী করতেই এই অবস্থান নিয়েছেন বিজয়। তবে সমালোচকদের দাবি, এই ধরনের বার্তা ভারত ও শ্রীলঙ্কার কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।
সোমবার (১৮ মে) সমাজমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বিজয় লেখেন, মুল্লিভাইক্কালের স্মৃতি এখনও হৃদয়ে বহন করে চলেছেন তারা। একই সঙ্গে তিনি জানান, সমুদ্রের ওপারে থাকা তামিল আত্মীয়দের অধিকার রক্ষায় সবসময় পাশে থাকবে তার সরকার। এই বক্তব্য সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা।
প্রসঙ্গত, দীর্ঘ প্রায় তিন দশকের গৃহযুদ্ধের পর শ্রীলঙ্কার উপকূলবর্তী মুল্লিভাইক্কাল এলাকায় চূড়ান্তভাবে ভেঙে পড়ে এলটিটিই। সেই সময় শ্রীলঙ্কার সেনাবাহিনীর অভিযানে নিহত হন সংগঠনের প্রধান ভেলুপিল্লাই প্রভাকরণ। প্রতি বছর ১৮ মে দিনটিকে শ্রীলঙ্কার তামিল জনগোষ্ঠীর একাংশ মুল্লিভাইক্কাল দিবস হিসেবে পালন করে থাকে।
ঘটনাচক্রে, সেই দিনেই তামিল সংহতির বার্তা দিলেন বিজয়। শ্রীলঙ্কায় তামিলদের উপর দীর্ঘদিন ধরে অত্যাচারের অভিযোগ তুলে পৃথক রাষ্ট্রের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছিল এলটিটিই। পরে সেই আন্দোলন গৃহযুদ্ধের রূপ নেয়।
তবে ভারতের কাছে এই প্রসঙ্গ অত্যন্ত সংবেদনশীল। কারণ ১৯৯১ সালে আত্মঘাতী বিস্ফোরণে নিহত হন ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী। ওই হত্যাকাণ্ডের মূল ষড়যন্ত্রী হিসেবে উঠে আসে প্রভাকরণের নাম। এরপরই ভারতে নিষিদ্ধ সংগঠনের তালিকায় স্থান পায় এলটিটিই।
এই কারণেই এতদিন তামিল আবেগের বিষয়টি সামনে থাকলেও ডিএমকে এবং এডিএমকে-র মতো বড় রাজনৈতিক দলগুলো সাধারণত এই প্রসঙ্গে সতর্ক অবস্থান নিয়েছিল। কিন্তু বিজয়ের সাম্প্রতিক মন্তব্যে সেই রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, তামিলনাড়ুতে নিজের রাজনৈতিক জমি আরও শক্ত করতে তামিল জাতীয়তাবাদী আবেগকে সামনে আনছেন বিজয়। বিশেষ করে তার নেতৃত্বাধীন সরকারের অন্যতম শরিক ভিসিকে বরাবরই এলটিটিই-র প্রতি সহানুভূতিশীল অবস্থানের জন্য পরিচিত। ফলে তামিল আবেগকে কেন্দ্র করে বৃহত্তর সমর্থন গড়ে তুলতেই এই বার্তা দেওয়া হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
অবশ্য এর আগেও একাধিকবার প্রভাকরণ সম্পর্কে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন বিজয়। গত বছর নাগাপট্টিনমের এক সভায় তিনি বলেছিলেন, প্রভাকরণ ছিলেন শ্রীলঙ্কার তামিলদের কণ্ঠস্বর। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছিলেন, ইলম তামিলদের সঙ্গে তামিলনাড়ুর মানুষের আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে।
তবে বিরোধীদের অভিযোগ, আবেগের রাজনীতি করতে গিয়ে অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি বিষয়কে সামনে আনা হচ্ছে। তাদের মতে, ভারতে নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠনের নেতাকে ঘিরে বারবার সহানুভূতির সুর তোলা রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। পাশাপাশি এর প্রভাব ভারত-শ্রীলঙ্কা সম্পর্কেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।
বিশ্লেষকদের মতে, তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে ভাষা, সংস্কৃতি এবং জাতিগত পরিচয়ের প্রশ্ন বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। সেই জায়গা থেকেই বিজয় আবেগঘন রাজনৈতিক বার্তা দিতে চাইছেন। তবে এই অবস্থান ভবিষ্যতে জাতীয় রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েও এখন শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা।
এসএ/টিএ