© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

লিটনের সঙ্গে তর্কে জড়ালেন রিজওয়ান, কী করলেন আম্পায়ার?

শেয়ার করুন:
লিটনের সঙ্গে তর্কে জড়ালেন রিজওয়ান, কী করলেন আম্পায়ার?

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৫:৩৭ পিএম | ১৯ মে, ২০২৬
মিরপুর টেস্টে উইকেটের পেছন থেকে মোহাম্মদ রিজওয়ানকে বলা লিটন দাসের একটা কথা বেশ ছড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সৌজন্য সে কথা নিশ্চয়ই রিজওয়ানের কাছেও পৌঁছেছে। রিজওয়ানের সঙ্গে মনস্তাত্ত্বিক খেলায় খেলতে লিটন কি আজও কিছু বলেছেন? নইলে রিজওয়ান ওভাবে কেন তর্ক জড়াবেন লিটনের সঙ্গে। দুজনের তর্ক থামাতে শেষ পর্যন্ত এগিয়ে আসতে হয়েছে আম্পায়ারকে।

সিলেটে আজ চতুর্থ দিনের চা পানের বিরতির আগে পাকিস্তান ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে। অর্ধেক ব্যাটার ড্রেসিংরুমে ফেরার পর বাংলাদেশের গলার কাঁটা হয়ে আসেন সফরকারীদের দুই মিডল অর্ডার ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আলী আঘা। কিছুতেই যখন সফরকারীদের উইকেট ফেলা যাচ্ছে না, তখন লিটন মনোঃসংযোগে ব্যাঘাত ঘটাতে উইকেটের পেছনে কথা বলেই চলেছেন। ইনিংসের ৭২তম ওভারের চতুর্থ বলের পর রিজওয়ানের সঙ্গে তর্কযুদ্ধ হয় লিটনের। পরিস্থিতি বেশি উত্তপ্ত হওয়ার আগেই মাঠের আম্পায়ার আলাহউদ্দিন পালেকের এসেছেন। আম্পায়ারকে হয়তো কিছু একটা বোঝাতে চাচ্ছিলেন রিজওয়ান। লিটন-রিজওয়ানের এই কথা-কাটাকাটি অবশ্য বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।

৪৩৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আজ চতুর্থ দিনে শূন্য থেকেই শুরু করে পাকিস্তান। তাদের সফরকারীদের নামের পাশে কেবল ২ ওভার। দুই ওপেনারের দ্রুত বিদায়ে সফরকারীরা ১৬ ওভারে ২ উইকেটে ৪১ রানে পরিণত হয়। প্রথম দুই উইকেটেই অবদান রেখেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। যেখানে ১১তম ওভারের দ্বিতীয় বলে নাহিদ রানাকে কাট করতে যান আব্দুল্লাহ ফজল (২)। পয়েন্টে ডাইভ দিয়ে দুর্দান্ত ক্যাচ ধরেন মিরাজ। আরেক ওপেনার আজান আওয়াইসকে (২১) ১৬তম ওভারের শেষ বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন মিরাজ।

দুই ওপেনারের বিদায়ের পর পাকিস্তানের হাল ধরেন অধিনায়ক শান মাসুদ ও বাবর আজম। তাঁরা (মাসুদ-বাবর) খেলেছেন টেস্ট-ওয়ানডের মিশেলে। ভালো বলকে সমীহ করেছেন। বাজে বল পেলে সেটাকে বাউন্ডারিতে পরিণত করেছেন। তৃতীয় উইকেটে ১১৫ বলে ৯২ রানের জুটি গড়েন বাবর-মাসুদ।



৩৫তম ওভারের প্রথম বলে বাবরকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন তাইজুল। গ্ল্যান্স করতে গিয়ে উইকেটরক্ষক লিটন দাসের তালুবন্দী হয়েছেন বাবর (৪৭)। পাকিস্তানের তারকা ব্যাটার বুঝতেও পারেননি কী করতে গিয়ে তিনি উইকেট হারিয়েছেন। এখান থেকেই তাইজুল-রানা পর্যায়ক্রমে উইকেট নিতে থাকেন। বাঁহাতি মিডল অর্ডার ব্যাটার সৌদ শাকিলকে (৬) ফেরান রানা। এবারও ক্যাচ ধরেন লিটন।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা তাইজুল দিয়েছেন ৪৫তম ওভারের তৃতীয় বলে। তাতে মাহমুদুল হাসান জয়ের কৃতিত্বই বেশি। মাসুদের ব্যাটের কানায় লেগে যাওয়া বল ফরোয়ার্ড শর্ট লেগে ডাইভ দিয়ে দারুণভাবে ধরেন জয়। পাকিস্তানি অধিনায়কও বিশ্বাস করতে পারেননি কীভাবে জয় ক্যাচটা ধরেছেন। সপ্তম টেস্ট সেঞ্চুরি থেকে ২৯ রান দূরে থাকতে আউট হয়েছেন মাসুদ। ১১৬ বলে ৮ চারে করেন ৭১ রান। পাকিস্তান অধিনায়কের এটা টেস্টে ১৪তম ফিফটি।

মাসুদের বিদায়ে পাকিস্তানের স্কোর হয়ে যায় ৪৪.৩ ওভারে ৫ উইকেটে ১৬২ রান। মুড়ি-মুড়কির মতো উইকেট পতন যেখানে পাকিস্তানের ক্রিকেটে নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে, তাতে বাংলাদেশের ভক্ত-সমর্থকেরা আশায় বুক বাঁধছিলেন কখন শেষ হবে খেলা। কিন্তু টেস্ট খেলা যে এমনই। সেই খেলায় স্বাগতিকদের ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছেন সালমান-রিজওয়ান। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৭৩ ওভারে ৫ উইকেটে ২৬৬ রান করেছে পাকিস্তান। রিজওয়ান ও সালমান ৫৭ ও ৪৯ রানে ব্যাটিং করছেন। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে তাঁরা (রিজওয়ান-সালমান) ১০৩ রানের অবিচ্ছেদ্য জুটি গড়েন।

২০০৩ সালে অ্যান্টিগায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪১৮ রান তাড়া করে জিতেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। টেস্টে চতুর্থ ইনিংসে এখন পর্যন্ত এটাই সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড। ২৩ বছর পর পাকিস্তানের সামনে নতুন বিশ্ব রেকর্ড গড়ার সুযোগ। সিলেটে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাদের সামনে ৪৩৭ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছে বাংলাদেশ।

এমআই/টিএ

মন্তব্য করুন