মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর ছবি না থাকায় হট্টগোল, তোপের মুখে ফিরে গেলেন সেতুমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
০৯:৪১ পিএম | ১৯ মে, ২০২৬
পটুয়াখালীর বাউফলে লোহালিয়া নদীর ওপর প্রস্তাবিত ‘নবম চীন মৈত্রী বগা সেতু’ নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সংক্ষিপ্ত সুধী সভামঞ্চে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি না থাকায় বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। বিএনপি নেতাকর্মীরা ওই সভা বর্জন করে প্রায় ৪৫ মিনিট মন্ত্রীর বহর অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পরে সভা মঞ্চে না গিয়ে বগা ফেরিঘাট এলাকা ত্যাগ করেন মন্ত্রী।
মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে বগা ফেরিঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, মন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বগা ফেরিঘাটের অদূরে সভার আয়োজন করেন পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের জামায়াতের দলীয় সংসদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মো. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। ওই সভা মঞ্চের ব্যানারে প্রধানমন্ত্রীর ছবি না থাকায় বিএনপিদলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
দুপুর সোয়া ১টার দিকে মন্ত্রী বগা ফেরিঘাট এলাকায় পৌঁছে সভামঞ্চের দিকে রওনা হলে তার পথ অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের পাল্টাপাল্টি স্লোগানে পুরো ফেরিঘাট এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় ৪৫ মিনিট মন্ত্রীর পথ অবরুদ্ধ করে রাখেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। তাদের তোপের মুখে সভা মঞ্চে না গিয়ে একই ফেরিতে ফিরে যান মন্ত্রী।
ফেরার পথে সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। এ সময় তিনি বলেন, ‘অতিসম্প্রতি এক খুদে শিক্ষার্থী বগা সেতু বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি লিখেছেন। সেটি প্রধানমন্ত্রী নজরে এলে তিনি আমাকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কিভাবে দ্রুততম সময়ে সেতুটি নির্মাণ করা যায় সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
মন্ত্রী আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ-চীন বন্ধুত্বপূর্ণ সেতু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যা যা করণীয়, তা করছি। চীন ইতোমধ্যে নকশা চূড়ান্ত করেছে। বাস্তবায়ন চুক্তি এক মাসের মধ্যে হয়ে যাবে। চুক্তি সম্পন্ন হলেই এ বছরের শেষ দিকে অথবা আগামী বছরের শুরুতে নির্মাণকাজ শুরু হবে।’
মন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন পটুয়াখালী-১ আসনের বিএনপিদলীয় এমপি আলতাফ হোসেন চৌধুরী, পটুয়াখালী-২ আসনের জামায়াতদলীয় এমপি শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও পটুয়াখালী-২ আসনের বিএনপিদলীয় সাবেক এমপি শহিদুল আলম তালুকদার, জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশ সরকার কুট্টি, পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ শহীদ হোসেন চৌধুরী।
ব্যানারে প্রধানমন্ত্রীর ছবি না থাকা প্রসঙ্গে বাউফল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক (ভারপ্রাপ্ত) তসলিম তালুকদার বলেন, ‘সেতুটি আমাদের প্রাণের দাবি। যা বাস্তবায়নের জন্য বিএনপি সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। সার্বিক বিষয়ে খোঁজখবর নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সেতুমন্ত্রী এসেছেন। কিন্তু সেই সভা মঞ্চের ব্যানারে প্রধানমন্ত্রীর ছবি নেই। এটি এক ধরনের অপরাজনীতি। এ কাজটি জামায়াত এমপি মাসুদ ঠিক করেননি।’
এ বিষয়ে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মাওলানা ইসাহাক বলেন, ‘এটি কোনো রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ নয়। মন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে একটি সভা। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর ছবি না থাকা নিয়ে বিএনপির হট্টগোল করাটা অযৌক্তিক। তারা বিশৃঙ্খলা করে সভা পণ্ড করে দিয়েছেন। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাউফলের মানুষ।’
এমআই/টিএ