© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

আল জাজিরা ফিচারতরুণদের ‘তেলাপোকা’ বলে মন্তব্য ভারতের প্রধান বিচারপতির, ক্ষোভে যুবক বানালো 'ককরোচ জনতা পার্টি'

শেয়ার করুন:
তরুণদের ‘তেলাপোকা’ বলে মন্তব্য ভারতের প্রধান বিচারপতির, ক্ষোভে যুবক বানালো 'ককরোচ জনতা পার্টি'

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০১:৪২ পিএম | ২০ মে, ২০২৬
ভারতের প্রধান বিচারপতির এক মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক, ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ আর অনলাইন প্রতিবাদের ঝড়। 'ককরোচ জনতা পার্টি' নামে একটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলনে ইতোমধ্যে যোগ দিয়েছেন লাখো তরুণ।

ঘটনার সূত্রপাত গত শুক্রবার। ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুরিয়া কান্ত এক শুনানিতে মন্তব্য করেন, কিছু তরুণ 'তেলাপোকার মতো', যারা কাজ পায় না, কোনো পেশায় জায়গা করতে পারে না, পরে তারা মিডিয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অধিকারকর্মী হয়ে 'সবাইকে আক্রমণ' শুরু করে।

তার এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দেয়, বিশেষ করে জেন-জি তরুণদের মধ্যে। পরে বিচারপতি তোপের মুখে ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, তিনি মূলত ভুয়া ডিগ্রিধারীদের নিয়ে কথা বলেছেন, দেশের তরুণদের নয়। তরুণদের তিনি 'উন্নত ভারতের স্তম্ভ' বলেও উল্লেখ করেন।

তবে ততক্ষণে বিষয়টি ভাইরাল হয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটি থেকে সদ্য পাস করা ৩০ বছর বয়সী অভিজিৎ দিপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেন, 'যদি সব তেলাপোকা এক হয়ে যায়?'

এরপরই তিনি তৈরি করেন 'ককরোচ জনতা পার্টি' নামে একটি ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট। নামটি ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি বা ভারতীয় জনতা পার্টির নামের সঙ্গে মিল রেখে তৈরি করা হয়েছে।

দিপকে বলেন, 'ক্ষমতাসীনরা যদি নাগরিকদের তেলাপোকা আর পরজীবী মনে করে, তাহলে তাদের বুঝতে হবে, তেলাপোকা জন্ম নেয় পচা জায়গায়। আর আজকের ভারত ঠিক সেরকমই।' 

মাত্র তিন দিনে 'ককরোচ জনতা পার্টি'র ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার সংখ্যা ৩০ লাখ ছাড়িয়েছে। গুগল ফর্মের মাধ্যমে সদস্য হয়েছেন সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ। বিরোধী দলের কয়েকজন পরিচিত রাজনীতিকও এতে যোগ দিয়েছেন।

দেশটির সাবেক আমলা অশীষ যোশী বলেন, 'দেশে ভয় আর ঘৃণার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মানুষ কথা বলতে ভয় পায়। ককরোচ জনতা পার্টি যেন এক টুকরো স্বস্তির বাতাস।'

বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের তরুণদের বেকারত্ব, মূল্যস্ফীতি এবং সামাজিক বিভাজনের হতাশা এই আন্দোলনকে দ্রুত জনপ্রিয় করে তুলেছে। বর্তমানে ভারতে প্রতি বছর ৮০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী স্নাতক হলেও তাদের মধ্যে বেকারত্বের হার প্রায় ২৯ শতাংশ।

এদিকে মানবাধিকারকর্মী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ বলেন, প্রধান বিচারপতির মন্তব্য তরুণ ও অধিকারকর্মীদের প্রতি গভীর বিরূপ মনোভাবেরই প্রতিফলন।

আরআই/এসএন

মন্তব্য করুন