© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

'যে টাকা আনবে সে নম্বর পাবে, যে আনবে না নম্বর পাবে না'

শেয়ার করুন:
'যে টাকা আনবে সে নম্বর পাবে, যে আনবে না নম্বর পাবে না'

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৪:৪০ পিএম | ২০ মে, ২০২৬
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার থানাহাট পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ট্রেড ইন্সট্রাক্টর মোর্শেদা বেগমের একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ ভাইরাল হয়েছে।

অডিওতে মোর্শেদা বেগমকে বলতে শোনা যায়, যে টাকা আনবে সে নম্বর পাবে, আর যে টাকা আনবে না সে নম্বর পাবে না। এখানে টাকার বিষয়ে যেসব কথা হলো, সেটা যদি কোনো অভিভাবক বা অন্য কেউ জানে- তাহলে তোমাদের খবর আছে।

সম্প্রতি থানাহাট এইউ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষা কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। চলমান এসএসসি ভোকেশনালের ব্যবহারিক পরীক্ষায় দায়িত্বে থাকা অবস্থায় পরীক্ষা রুমে ছাত্রীদের উদ্দেশে প্রকাশ্যে এমন হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

অডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, এখন তোমরা গুলি করো, হাইকোর্ট করো, ঢাকা যাও। এখানে ৫০০ টাকার কথা হলো; সেটা বাইরে যদি যায়, যদি কোনো অভিভাবক, কোনো স্যার অভিযোগ দেয়, তাহলে অবস্থা খারাপ আছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষার্থীরা জানায়, ব্যবহারিক পরীক্ষার প্রথমদিন টাকা দিতে হবে বললেও দ্বিতীয়দিন ওই আপা সবাইকে বলেন ‘৫০০ টাকা করে দিতে হবে। যদি না দাও তাহলে তোমরা নম্বর পাবে না। এ কথা বাইরে যায় তাহলে তোমাদের অবস্থা খারাপ আছে।’ তাই আমরা বাধ্য হয়ে টাকা দিয়েছি।

এ বিষয়ে এক অভিভাবক বলেন, শিক্ষকরা যদি এভাবে প্রকাশ্যে শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে ঘুসের পাঠ শেখান এবং ব্ল্যাকমেইল করেন, তবে সন্তানরা কার কাছে নিরাপদ?

বিষয়টি জানতে শিক্ষিকা র্মোশেদা বেগমের মোবাইলে কল দিলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় শুনে বলেন, আমি খুব ব্যস্ত আছি। এক সেকেন্ড কথা বলার সুযোগ নেই।

এ বিষয়ে থানাহাট পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. তৈয়ব আলী বলেন, বিষয়টি আপনার কাছে শুনলাম। ঘটনাটি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরীক্ষাকেন্দ্র সচিব রেজাউল করিম বলেন, কেন্দ্রে ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যদি কেউ ব্যক্তিগতভাবে টাকা দাবি করে থাকেন, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদুল হাসান জানান, পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ব্যবহারিক পরীক্ষায় টাকা আদায় সম্পূর্ণ অবৈধ। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসকে/টিএ

মন্তব্য করুন