জ্বালানিমন্ত্রীকে নিয়ে মন্তব্যে অনড় অবস্থানে আমির হামজা
ছবি: সংগৃহীত
০৪:৫২ পিএম | ২০ মে, ২০২৬
জ্বালানি ও বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে দেওয়া ‘নাস্তিক’ মন্তব্যের অবস্থান থেকে সরে আসেননি কুষ্টিয়া-৩ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য আমির হামজা। তিনি বলেছেন, ইসলামকে আঘাত করা হলে তিনি কারো পরিচয় দেখেন না এবং ইসলামের প্রশ্নে আপস করবেন না।
সম্প্রতি দেশের একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে আমির হামজা বলেন, একটি রাজনৈতিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জ্বালানিমন্ত্রী এমন বক্তব্য দিয়েছিলেন, যেখানে বলা হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধ ইসলাম কায়েমের জন্য হয়নি। ওই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি মন্তব্য করেছিলেন।
তার ভাষায়, ‘তিনি ইসলামকে আঘাত করেছেন। এই কারণে আমি বলেছিলাম, এটা ইসলামবিদ্বেষী বা নাস্তিক ধরনের কথা। আমার কাছে আগে আল্লাহ, রাসুল ও ইসলাম, এরপর অন্য কেউ।’
আমির হামজা দাবি করেন, তিনি ব্যক্তিগত আক্রমণ করেননি বরং ইসলামের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সে আমার বাবা হলেও ইসলামকে আঘাত করলে তাকে সম্মান দেব না। মন্ত্রী না সাধারণ মানুষ, সেটা আমার দেখার বিষয় ছিল না।’
তিনি আরও বলেন, তার বক্তব্যের জেরে মানহানির মামলা করা হয়। তবে পরে তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। তার দাবি, আদালত প্রশ্ন তুলেছে- বাদী কীভাবে মামলা করার এখতিয়ার পেলেন।
জামায়াতের এই সংসদ সদস্য অভিযোগ করেন, সংসদ সদস্যকে গ্রেফতারের ক্ষেত্রে যেসব সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করার কথা, তা মানা হয়নি। তিনি বলেন, স্পিকারের অনুমতি ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনসহ বিভিন্ন বিষয় রয়েছে, যা অনুসরণ করা হয়নি বলে তার অভিযোগ।
সরকারি মন্ত্রীদের সমালোচনা করায় অতীতে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে আমির হামজা বলেন, সমালোচনার সুযোগ না থাকলে সরকার ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠতে পারে।
তার ভাষায়, ‘বিরোধী দলের কাজই হচ্ছে সরকারের সমালোচনা করে তাদের সঠিক পথে রাখার চেষ্টা করা। আমরা চাই আগের মতো পরিস্থিতি যেন আর তৈরি না হয়।’
তবে তিনি বলেন, কাউকে অযথা ট্রল বা অপমান করা উচিত নয়। তার দাবি, জ্বালানিমন্ত্রী সরাসরি ওই বক্তব্যের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তার ভিডিওও রয়েছে। এজন্যই তিনি ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন।
আমির হামজা আরও জানান, পরে সংসদের ভেতরে তিনি জ্বালানিমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং বিষয়টি সমাধান হয়ে যাবে বলেও জানিয়েছিলেন। কিন্তু এরপরও মামলা ও সমন জারি হয় বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে আমির হামজাকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
রোববার (১৭ মে) দুপুরে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সুমন কুমার কর্মকার এ আদেশ দেন।
মামলার বাদী ও সিরাজগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির কর্নেল গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এসকে/টিএ