© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

‘পুশব্যাক’ শুরুর ঘোষণা দিলেন শুভেন্দু অধিকারী

শেয়ার করুন:
‘পুশব্যাক’ শুরুর ঘোষণা দিলেন শুভেন্দু অধিকারী

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:২০ পিএম | ২০ মে, ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ‘পুশব্যাক’ প্রক্রিয়া কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।


বুধবার (২০ মে) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশকারীদের আটক করে প্রথমে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে তুলে দেবে পুলিশ। এরপর নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদের বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিবি) কাছে ফেরত পাঠানো হবে।

তিনি বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার দাবি, ২০২৫ সালে কেন্দ্রীয় সরকার এ বিষয়ে নির্দেশিকা দিলেও তৎকালীন রাজ্য সরকার তা কার্যকর করেনি। নতুন পরিস্থিতিতে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে ‘পুশব্যাক’ নীতি কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে পুলিশকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। যাদের বৈধ নথিপত্র নেই এবং নাগরিকত্ব প্রমাণ করা সম্ভব নয়, তাদের শনাক্ত করে আটক করা হবে এবং পরবর্তীতে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মাধ্যমে ফেরত পাঠানো হবে।

এ ঘোষণার পর পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে বহু বছর আগে আসা হিন্দু উদ্বাস্তু পরিবারগুলোর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, তারা এ অভিযানের আওতায় পড়তে পারেন।

তবে শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্টভাবে বলেন, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের আওতায় থাকা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। তিনি বলেন, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় নির্যাতনের শিকার হয়ে আসা ব্যক্তিরা নির্ধারিত নিয়মে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের আওতায় থাকা নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মানুষ যদি ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে ভারতে প্রবেশ করে থাকেন, তবে তাদের আটক বা হয়রানি করা হবে না। তবে এর বাইরে যারা থাকবেন, তাদের অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

এ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, এ ধরনের সিদ্ধান্ত মানবিক সংকট তৈরি করতে পারে এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলে দীর্ঘদিন বসবাসরত অনেক পরিবারের পরিচয় ও নাগরিকত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হবে।

অন্যদিকে বিজেপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশ একটি বড় সমস্যা। জাতীয় নিরাপত্তা, ভোটার তালিকা শুদ্ধিকরণ এবং সীমান্ত এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এসকে/টিএ

মন্তব্য করুন