© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

২৪ ঘণ্টার মধ্যেই শিক্ষার্থী আন্দোলনের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলো মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি

শেয়ার করুন:
২৪ ঘণ্টার মধ্যেই শিক্ষার্থী আন্দোলনের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলো মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৩:৫৪ পিএম | ১৯ আগস্ট, ২০২৬
সিনেমার পর্দা থেকে রাজনীতির মাঠে এসে ঈর্ষণীয় সফলতা দেখালেও, প্রথমবার পিছু হটতে বাধ্য হলেন ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয় থালাপতি। ব্যাপক সমালোচনা এবং আইনি বার্তার মুখে নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত বদলে বাধ্য হলেন তিনি! বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কোনো ধরনের প্রতিবাদ বা আন্দোলন কর্মসূচিতে অংশ না নেয়ার জন্য জারি করা বিতর্কিত নির্দেশিকা মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহার করে নিয়েছে তামিলনাড়ুর বিজয় নেতৃত্বাধীন সরকার।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কলেজ শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে জারি করা নিষেধাজ্ঞাটি মূলত বামপন্থী দলসমূহ এবং 'তামিলনাড়ু ককরোচ জনতা পার্টি'র উদ্যোগে আয়োজিত বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিবাদের বিরোধিতা করার উদ্দেশ্যে কার্যকর করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। স্কুল শিক্ষা বিভাগ, উচ্চশিক্ষা বিভাগ, পুলিশ প্রশাসন এবং জেলা প্রশাসনকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রতিহত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। তবে নির্দেশিকা জারির পর মুহূর্তেই দেশজুড়ে প্রতিক্রিয়া শুরু হলে তড়িঘড়ি তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

নির্দেশিকা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের নেপথ্যে ভারতের উচ্চ আদালতের কঠোর বার্তাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। গত সপ্তাহেই প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত শিক্ষার্থী রাজনীতির গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়ে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ করার অধিকার একটি মৌলিক অধিকার। তাঁদের মতামত ভিন্ন কিংবা ভুল হলেও সেই গণতান্ত্রিক অধিকারকে হরণ করা যায় না।

এই প্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার কলেজ শিক্ষা অধিদপ্তরের যুগ্ম পরিচালক সিনথিয়া সেলভি পির সই করা এক নতুন আদেশে জানানো হয়, ১৭ আগস্টের পূর্ববর্তী নির্দেশিকাটি সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হলো। রাজ্যের সকল সরকারি কলা ও বিজ্ঞান কলেজের অধ্যক্ষদের কাছে ইতিমধ্যেই এই নির্দেশ পৌঁছানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, ককরোচ জনতা পার্টি গত ১৫ আগস্ট থেকে সারা ভারত জুড়ে 'স্কুল ঠিক করো' শীর্ষক একটি বিশেষ অভিযান শুরু করেছে। এর অংশ হিসেবে ‘জেন অ্যালফা’ প্রজন্মের খুদে শিক্ষার্থীরা একাধিক দাবি-দাওয়া নিয়ে বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিবাদ গড়ে তোলে।

মূলত এই আন্দোলনের প্রভাব এড়াতেই প্রশাসনিক স্তরে তড়িঘড়ি জারি করা হয়েছিল সেই বিতর্কিত ‘নো-প্রোটেস্ট’ অর্ডার। তবে শেষ পর্যন্ত আইনি বাধ্যবাধকতা এবং রাজনৈতিক চাপের মুখে নতিস্বীকার করে বিজয় সরকার তাদের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে বাধ্য হলো।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

আরআই/টিএ

মন্তব্য করুন