© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ইরানেকে নিয়ে আমি যা চাইব, নেতানিয়াহু তাই করবে: ট্রাম্প

শেয়ার করুন:
ইরানেকে নিয়ে আমি যা চাইব, নেতানিয়াহু তাই করবে: ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১০:২৭ এএম | ২১ মে, ২০২৬
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে ইরান ইস্যুতে উত্তেজনাকর ফোনালাপের পর পরিস্থিতি নতুন মোড় নিয়েছে। ইরানের ওপর সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, নেতানিয়াহু তাঁর (ট্রাম্পের) ইচ্ছানুযায়ীই কাজ করবেন।

নেতানিয়াহুকে একজন 'অসাধারণ ব্যক্তি' এবং 'যুদ্ধকালীন প্রধানমন্ত্রী' হিসেবে আখ্যা দিলেও, ট্রাম্পের এমন মন্তব্য মূলত ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর ওপর মার্কিন প্রভাবেরই ইঙ্গিত দেয়। সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহু ইরানের শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করতে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার পক্ষে। তবে ট্রাম্প আরব ও মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর মধ্যস্থতায় একটি কূটনৈতিক চুক্তিতে পৌঁছানোর সুযোগ দিতে চান এবং তিনি জানিয়েছেন, চুক্তি চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে তাঁর কোনো তাড়াহুড়ো নেই।

ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। সংস্থাটি তাদের এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি পুনরায় আগ্রাসন চালায়, তবে তাদের 'বিধ্বংসী আঘাতে' আমেরিকান-জায়োনিস্ট শত্রু গুঁড়িয়ে যাবে। তারা আরও সতর্ক করেছে যে, পুনরায় হামলা হলে এই সংঘাত আর নির্দিষ্ট গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়বে। ইরানের দাবি, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দুটি বাহিনীর আক্রমণ সত্ত্বেও তারা এখনও নিজেদের পূর্ণ সক্ষমতা ব্যবহার করেনি।

সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি পর্দার আড়ালে জোরদার হয়েছে কূটনৈতিক তৎপরতা। আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব ও তুরস্ক একটি চুক্তির খসড়া নিয়ে কাজ করছে। প্রস্তাবনা অনুযায়ী, ওয়াশিংটন ও তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি 'অভিপ্রায় পত্রে' স্বাক্ষর করবে। এরপর হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে ৩০ দিনের একটি আলোচনা পর্ব শুরু হবে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি ইতিমধ্যে তেহরান সফর করে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও জানিয়েছেন যে, চুক্তিতে পৌঁছানোর প্রচেষ্টায় বেশ ভালো অগ্রগতি হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও উদ্বেগ বাড়ছে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলাপকালে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত শুরুর তীব্র বিরোধিতা করে অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে ন্যাটোর পদক্ষেপের অংশ হিসেবে জার্মানি আগামী জুন মাস থেকে তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ছয় মাসের জন্য একটি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করতে যাচ্ছে। এছাড়া জর্ডান তাদের আকাশসীমায় অজ্ঞাত উৎসের একটি ড্রোন ভূপাতিত করার ঘোষণা দিয়েছে, যা এই অঞ্চলে বিরাজমান চরম অস্থিতিশীল পরিস্থিতিরই সুস্পষ্ট প্রতিচ্ছবি।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

এবি/টিএ


মন্তব্য করুন