© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

সমালোচনার মুখে আরও এক সিদ্ধান্ত বদলালেন বিজয়

শেয়ার করুন:
সমালোচনার মুখে আরও এক সিদ্ধান্ত বদলালেন বিজয়

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০১:২৫ পিএম | ২১ মে, ২০২৬
তামিলনাড়ুতে সরকারি একটি টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। বিরোধী দল দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাজাগামের (ডিএমকে) পক্ষ থেকে অনিয়মের অভিযোগ তোলার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে একটি সরকারি চুক্তি বাতিল করেছে থালাপতি বিজয়ের নেতৃত্বাধীন তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে) সরকার। খবর এনডিটিভি।

রাজ্যটির থুথুকুডি জেলার একটি গ্রামে ৩,০০০ লিটারের একটি ওভারহেড পানির ট্যাংক নির্মাণের জন্য ১৬.৮৩ লাখ রুপির এই দরপত্র প্রক্রিয়াটি গত ১৯ মে সম্পন্ন হয়েছিল। তবে এই টেন্ডারের অস্বাভাবিক সময়সীমা নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের বিতর্ক।

নিয়ম অনুযায়ী, ঠিকাদাররা গত ১৩ মে থেকেই টেন্ডার সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, গত ১৮ মে সকাল ৯টায় টেন্ডারটি উন্মুক্ত করা হয় এবং মাত্র ৬ ঘণ্টার মাথায়—বিকাল ৩টায় তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর পরদিনই বিকাল ৪টায় একটি নির্দিষ্ট সংস্থাকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর ব্যাপক সমালোচনা ও প্রতিবাদের মুখে ‘প্রশাসনিক কারণ’ দেখিয়ে টেন্ডারটি বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে তদন্তের স্বার্থে দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

গত মাসের নির্বাচনে টিভিকির কাছে ক্ষমতা হারানো ডিএমকে এই ঘটনা নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের ওপর তীব্র আক্রমণ চালিয়েছে। তাদের দাবি, একটি নির্দিষ্ট সংস্থাকে সুবিধা দেওয়ার জন্যই এই ত্রুটিপূর্ণ প্রক্রিয়া সাজানো হয়েছিল। ডিএমকের সিনিয়র নেতা আমুথারাসান প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘যেকোনো কোম্পানির পক্ষে মাত্র ৬ ঘণ্টার মধ্যে কীভাবে একটি বিস্তারিত প্রকল্প প্রতিবেদন (ডিপিআর) তৈরি করা এবং সব প্রাতিষ্ঠানিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা সম্ভব?’

তিনি আরও বলেন, ‘এটি কোনো প্রশাসনিক গতি নয়, এটি পূর্বপরিকল্পিত চুক্তির রাজনীতি! গ্রামীণ উন্নয়ন ও পানিসম্পদ মন্ত্রী এন আনন্দ প্রথম দিনেই কেন এত জরুরি পদক্ষেপ নিতে গেলেন? নাকি এটি আগে থেকে ঠিক করে রাখা চুক্তির ওপর ‘কর্তৃত্বের সিলমোহর’? টি নগর আসন থেকে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আপনি কি সততার রাজনীতির বদলে ‘ক্রাইসিস টেন্ডার’ (জরুরি অবস্থার অজুহাতে টেন্ডারবাজি) রাজনীতি করছেন?’

মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয়ের সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি তাদের দ্বিতীয় বড় ধরনের ধাক্কা। এর আগে একজন জ্যোতিষীকে স্পেশাল ডিউটি অফিসার হিসেবে নিয়োগ দিয়ে বিরোধীদের কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছিল এই নতুন সরকার। শুরুতে টিভিকে দাবি করেছিল যে, রাধান পন্ডিত ভেট্রিভেল নামের ওই জ্যোতিষীকে কেবল মুখপাত্র হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং তার পেশার সঙ্গে এই পদের কোনো সম্পর্ক নেই। তবে তীব্র সমালোচনার মুখে শেষ পর্যন্ত তাকে পদ থেকে সরিয়ে দিতে বাধ্য হয় দলটি।

অবশ্য বিতর্কের পাশাপাশি দায়িত্ব নেওয়ার শুরুর দিনগুলোতে প্রশংসাও কুঁড়িয়েছে বিজয়ের টিভিকি সরকার। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাস স্ট্যান্ড এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ের ৫০০ মিটারের মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ‘তাসমাক’ মদের দোকান বন্ধের নির্দেশ দিয়ে ব্যাপক সাধুবাদ পেয়েছে নতুন এই প্রশাসন।

এসএন 

মন্তব্য করুন