© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

চীনের বিরুদ্ধে অরুণাচলে ভূখণ্ড দখলের অভিযোগ ভারতের

শেয়ার করুন:
চীনের বিরুদ্ধে অরুণাচলে ভূখণ্ড দখলের অভিযোগ ভারতের

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৭:৪২ পিএম | ১৯ আগস্ট, ২০২৬
ভারতের সেভেন সিস্টার্সের অন্তর্গত অরুণাচল প্রদেশের কিছু ভূখণ্ড দখল করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চীনের বিরুদ্ধে। চীনা সেনাবাহিনীর বাধার মুখে নিজেদের সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি টহল পয়েন্টে প্রবেশ করতে পারছে না ভারতীয় সেনাবাহিনী। 

সম্প্রতি এমনটাই দাবি করা হয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিজেপি সরকারের মিত্র আঞ্চলিক রাজনীতিবিদদের একটি অনুসন্ধানী দলের প্রতিবেদনে। খবর ইন্ডিয়া টুডে’র।

অনুসন্ধানী দলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের সীমান্তবর্তী অরুণাচল প্রদেশের কিছু ভূখণ্ড দখল করে নিয়েছে চীন এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীকে সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি টহল পয়েন্টে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না চীনা সেনারা।

এই প্রতিবেদন প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে নয়াদিল্লির রাজনীতিতে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় চীনের কথিত ভূখণ্ড দখলের বিষয়ে নীরব থাকার জন্য মোদি সরকারের কঠোর সমালোচনা করছে বিরোধী দলগুলো।

এই প্রতিবেদন এমন এক সময় সামনে এলো, যখন আসন্ন ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন ঘিরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ভারত সফরের বিষয়ে আলোচনা চলছে দুদেশের শীর্ষ পর্যায়ে।

চীনের সঙ্গে ৩ হাজার ৪৮৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে ভারতের। দেশটির উত্তর ও পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তজুড়ে জম্মু ও কাশ্মীর, লাদাখ, সিকিম এবং অরুণাচল প্রদেশের মতো অঞ্চল দিয়ে বিস্তৃত এই সীমান্ত। সীমান্তের বড় একটি অংশই অবশ্য বিতর্কিত।

এমনকি প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা কোথায়— তা নিয়েও ভারত ও চীনের মধ্যে মতানৈক্য রয়েছে। এই রেখাটিকে দুই দেশের নিয়ন্ত্রণাধীন ভূখণ্ডের মধ্যে ধারণাগত বিভাজনরেখা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

এদিকে চীনা বাহিনীর ভারতীয় ভূখণ্ড দখল নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো ‘ভুল এবং সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। তবে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব অভিযোগ নাকচ করার ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে কম দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাংবাদিকদের বলেন, নয়াদিল্লি সবসময় চীনা পক্ষের সঙ্গে আলোচনায় জোর দিয়ে এসেছে যে, সীমান্তসংক্রান্ত বিষয়গুলোকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করি এবং এসব এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। আমরা এটিও বলেছি যে, সীমান্ত পরিস্থিতি আমাদের বৃহত্তর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অবস্থার ওপর প্রভাব ফেলবে।

নয়াদিল্লির মতো সতর্কতার সঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বেইজিংও। নতুন করে সীমান্তে কোনো উত্তেজনার বিষয়টি তারা স্বীকারও করেনি, আবার অস্বীকারও করেনি।

বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেন, এই মুহূর্তে চীন-ভারত সীমান্ত পরিস্থিতি মোটামুটি স্থিতিশীল। গত সপ্তাহে দুই দেশ চীন-ভারত সীমান্তবিষয়ক ৩৬তম বৈঠক করেছে। দুই পক্ষ কূটনৈতিক ও সামরিক যোগাযোগের মাধ্যমে যোগাযোগ বজায় রাখতে এবং সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা যৌথভাবে রক্ষা করতে সম্মত হয়েছে।

এর আগে, চীনের কথিত ভূখণ্ড দখলের বিষয়ে প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর চার সদস্যের একটি অনুসন্ধানী দলকে রাজ্যের প্রত্যন্ত ওই এলাকায় পাঠায় পিপলস পার্টি অব অরুণাচল। এই পিপলস পার্টি অব অরুণাচল বিজেপির নেতৃত্বাধীন আঞ্চলিক জোট নর্থ ইস্ট ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্সের অংশ।

ওই এলাকা পরিদর্শনের পর অনুসন্ধানী দলটি জানায়, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত রাজ্যের তাসিং এলাকায় ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী টহল দিতে পারে না। এই সময়ে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা, বর্ষার আগের ও বর্ষাকালের প্রবল বৃষ্টিপাত এবং এর ফলে সৃষ্ট ভূমিধস পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তোলে। অন্যদিকে, এই সময়জুড়ে সীমান্ত এলাকায় বেশি সক্রিয় থাকে চীনা বাহিনী। এর ফলে সম্ভাব্য আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বজায় রাখতে ভারতীয় পক্ষের অবকাঠামো কতটা প্রস্তুত, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

পিপলস পার্টি অব অরুণাচলের সহসভাপতি কালিং জেরাংয়ের প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দারা অনুসন্ধানী দলকে জানিয়েছেন, ২০২৩ সালে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির সঙ্গে সংঘর্ষের পর ভারতীয় বাহিনী সীমান্তের একটি টহল পয়েন্ট শেরা-৫ ছেড়ে দেয়।

জেরাং বলেন, পূর্বপুরুষদের সময় থেকে ব্যবহার করে আসা শিকারের জমি হারানোর ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ। মাঠপর্যায়ের এসব অনুপ্রবেশের ঘটনা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। এসব ভূখণ্ড দখল নতুন বা হঠাৎ করে ঘটেনি; বরং বছরের পর বছর ধরে ধীরে ধীরে এর বিস্তার ঘটেছে।

তিনি আরও বলেন, কেন্দ্র ও রাজ্যে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সরকারগুলো সীমান্ত এলাকার মানুষকে পিঠ দেখাচ্ছে।

গত মাসে স্থানীয় একটি উপজাতীয় সংগঠন নাহ ওয়েলফেয়ার সোসাইটিও সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে একটি চিঠি দেয়। তাতে সংগঠনটি জানায়, চীনের ভূখণ্ড দখল বহুগুণ বেড়েছে এবং যতটা সম্ভব বেশি জমি দখলের উদ্দেশ্যেই তা করা হচ্ছে।

এমআই/টিএ


মন্তব্য করুন