© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

৩০ মণের ‘নোয়াখালীর বস’ দাম ১০ লাখ টাকা

শেয়ার করুন:
৩০ মণের ‘নোয়াখালীর বস’ দাম ১০ লাখ টাকা

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০২:২৭ পিএম | ২১ মে, ২০২৬
রাজধানীর সরকারি বাংলা কলেজ থেকে অনার্স-মাস্টার্স শেষ করে ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় আমেরিকায় পাড়ি জমিয়েছিলেন মোস্তফা আমির ফয়সাল। প্রবাসে থাকলেও ভুলে যাননি নিজের দেশে গড়ে তোলা স্বপ্নের গরুর খামারকে। দূর পরবাসে থেকেই অর্থায়ন ও দিকনির্দেশনা দিয়ে চার বছর ধরে লালন-পালন করে তৈরি করেছেন বিশাল আকৃতির এক গরু, যার নাম রাখা হয়েছে ‘নোয়াখালীর বস’।

হলস্টেইন ফ্রিজিয়ান জাতের ধবধবে সাদা রঙের এই গরুটির ওজন প্রায় ৩০ মণ। কুরবানি ঈদকে সামনে রেখে বিশাল আকৃতির এই ‘নোয়াখালীর বস’-এর দাম হাঁকা হচ্ছে ১০ লাখ টাকা।

জানা গেছে, আমেরিকা প্রবাসী আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহের অর্থায়নে নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার নোয়াখলা ইউনিয়নে গরুটি লালন-পালন করা হচ্ছে। খামারটির সার্বিক দেখভাল করছেন স্থানীয় কয়েকজন কর্মী। খামারটির পরিচালনাকারী মো. শাহরিয়ার জানান, চার বছর ধরে গরুটিকে কোনও ধরনের ক্ষতিকর ওষুধ বা মোটাতাজাকরণ ইনজেকশন ছাড়াই সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে বড় করা হয়েছে। নিয়মিত খড়, সবুজ ঘাস, ভুসি ও ভুট্টা খাইয়ে যত্ন নেয়ায় গরুটির ওজন এখন প্রায় ৩০ মণে পৌঁছেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এসে ভিড় করছেন বিশাল আকৃতির গরুটি দেখতে। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন। শিশু-কিশোরদের মধ্যেও দেখা গেছে বাড়তি আগ্রহ। অনেকেই গরুটিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইভ ও ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এলাকায় এত বড় গরু আগে খুব একটা দেখা যায়নি। তাই প্রতিদিনই মানুষ ভিড় করছেন। বিশেষ করে বিকেলের দিকে খামারে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বেড়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল কাদের বলেন, এত বড় গরু জীবনে খুব কম দেখছি। দূর থেকে দেখলে মনে হয় ছোট একটা পাহাড় দাঁড়িয়ে আছে। এলাকার মানুষ প্রতিদিন ভিড় করছে।

খামারটির পরিচালনাকারী মো. শাহরিয়ার বলেন, চার বছর ধরে গরুটিকে খুব যত্নে লালন-পালন করা হয়েছে। কোনও ধরনের ক্ষতিকর ওষুধ বা মোটাতাজাকরণ ইনজেকশন ব্যবহার করা হয়নি। খড়, ঘাস, ভুসি, ভুট্টা ও প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে বড় করা হয়েছে। গরুটির ওজন প্রায় ৩০ মণ হয়েছে।

গরু দেখতে আসা মো. আবু হানিফ বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও দেখে এখানে এসেছি। কাছে এসে দেখে সত্যিই অবাক হয়েছি। এত বড় গরু সচরাচর দেখা যায় না। যদি ন্যায্যমূল্য পায় তাহলে খামারির মুখে হাসি ফুটবে।
চাটখিল উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, খামারিরা এখন বাণিজ্যিকভাবে বড় গরু লালন-পালনে আগ্রহী হচ্ছেন। ‘নোয়াখালীর বস’ গরুটি প্রাকৃতিক উপায়ে লালন-পালন করা হয়েছে বলে আমরা জেনেছি। কুরবানির ঈদ সামনে রেখে এমন বড় গরু ক্রেতাদেরও আকর্ষণ করছে।

এবি/টিএ

মন্তব্য করুন