জরুরি বৈঠক ডেকেছেন মোদি, সব মন্ত্রীকে দিল্লিতে থাকার নির্দেশ
ছবি: সংগৃহীত
০৩:৪৫ পিএম | ২১ মে, ২০২৬
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৈঠককে কেন্দ্র করে সব কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে রাজধানীতে অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাত, তার সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব এবং মন্ত্রিসভায় রদবদলের গুঞ্জন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তুঙ্গে উঠেছে।
সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেল ৪টায় দিল্লির ‘সেবা তীর্থ’-এ প্রধানমন্ত্রী মোদির সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে। ‘সেবা তীর্থ’ হলো ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নতুন কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ভবনগুলোর সমন্বয়ে গঠিত অত্যাধুনিক কমপ্লেক্স। সরকারের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নানা বিষয়ে আলোচনা জোরদার হওয়ায় প্রেক্ষাপটে সব কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে বৈঠকের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দিল্লিতে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।
মূলত মোদির বিদেশ সফর শেষে ফেরার পরপরই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সব সদস্য, স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রীরা উপস্থিত থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাত এবং এর জেরে ভারতের অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব কী হতে পারে সেটাই আজকের বৈঠকের আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে। আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যে তেলের দাম, জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগের বিষয়গুলো সরকার ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
বেশ কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, বিদেশ সফর শেষে ফিরে প্রধানমন্ত্রী মোদি এ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে পারেন। ইতোমধ্যে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং সম্ভাব্য সংকট থেকে ভারতকে সুরক্ষার উপায় বের করতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বে মন্ত্রীদের উচ্চপর্যায়ের একটি অনানুষ্ঠানিক গ্রুপ গঠন করেছে সরকার। এই দলে রয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এবং জ্বালানিমন্ত্রী হারদীপ সিং পুরি।
সম্প্রতি রাজনাথ সিং বলেন, সরকার পরিস্থিতি ‘২৪ ঘণ্টা নজরদারিতে’ রাখছে। তিনি বলেন, ‘অপরিশোধিত তেল, জ্বালানি কিংবা এলপিজিসহ সব ক্ষেত্রেই আমাদের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। এখন পর্যন্ত বিশেষ কোনও সমস্যা নেই।’
এদিকে আগামী ১০ জুন মোদি সরকারের তৃতীয় মেয়াদের প্রথম বর্ষপূর্তি ঘিরে সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ ও রদবদলের জল্পনা চলছে। এতে করে আজকের বৈঠকটি বেশ রাজনৈতিক গুরুত্ব পেয়েছে।
গত সপ্তাহে বেশ কয়েকটি সরকারি সূত্র জানিয়েছিল, মন্ত্রিসভায় রদবদল ও সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা জোরদার হয়েছে এবং জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আসতে পারে।
সূত্রগুলো আরও জানায়, সম্ভাব্য এই রদবদলের আগে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম ও সাংগঠনিক পারফরম্যান্স পর্যালোচনা করছে সরকার।
এমআর/টিএ