© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

কী কারণে ইরানের সঙ্গে নতুন যুদ্ধের পাঁয়তারা করছেন নেতানিয়াহু?

শেয়ার করুন:
কী কারণে ইরানের সঙ্গে নতুন যুদ্ধের পাঁয়তারা করছেন নেতানিয়াহু?

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:৩০ পিএম | ২১ মে, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক সমঝোতার দিকে অগ্রসর হচ্ছে, তখন ইসরায়েলের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা মহলে আবারও যুদ্ধ শুরুর চাপ বাড়ছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটনের অনুমতি ছাড়া তেলআবিবের জন্য নতুন সামরিক অভিযান শুরু করা কঠিন হবে।

ইসরায়েলের একটি ডানপন্থী টেলিভিশন চ্যানেলের উপস্থাপক শিমোন রিকলিন সম্প্রতি সম্ভাব্য ইরান হামলার পরিকল্পনা নিয়ে মন্তব্য করে বিতর্ক তৈরি করেন।

তিনি কথিতভাবে তেহরানের একটি ইউরেনিয়াম সংরক্ষণাগারের অবস্থান সম্পর্কেও ইঙ্গিত দেন। পরে পার্লামেন্ট সদস্যদের সমালোচনার মুখে তিনি দাবি করেন, তার মন্তব্য ছিল ‘কাল্পনিক’।

তবে ইসরায়েলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইতোমধ্যে নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার একাধিক বৈঠকে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরুর বিষয়টি আলোচনা করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিলিয়ন ডলারের হামলার পরও ইরান সরকার টিকে আছে- এ বিষয়টি ইসরায়েলের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি করেছে।

অন্যদিকে, এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ইসরায়েলের সরাসরি অংশগ্রহণ না থাকায় দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অঙ্গনে নেতানিয়াহু ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন। বিরোধী নেতা ইয়ার লাপিদ এই যুদ্ধবিরতিকে ইসরায়েলের ইতিহাসে অন্যতম বড় ‘রাজনৈতিক ব্যর্থতা’ বলে অভিহিত করেছেন।

বেন-গুরিয়ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হাগাই রাম বলেন, ইরানকে ঘিরে ইসরায়েলি সমাজে দীর্ঘদিন ধরে ইরানোফোবিয়া (ইরানভীতি) গড়ে উঠেছে, যার ফলে জনগণ যুদ্ধকে প্রায় অবশ্যম্ভাবী হিসেবে দেখছে।
তিনি বলেন, “ইসরায়েলি জনগণ ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে বহু বছর ধরে শেখানো হয়েছে যে, ইরানই তাদের প্রধান শত্রু।”

বিশ্লেষকদের মতে, এই মনোভাবের কারণে সামরিক উত্তেজনার পরও ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ জনসমর্থন তুলনামূলকভাবে যুদ্ধপন্থী অবস্থানেই রয়েছে।

সাবেক ইসরায়েলি কূটনীতিক আলন পিঙ্কাস বলেন, নেতানিয়াহু রাজনৈতিকভাবে নতুন যুদ্ধকে একটি সুযোগ হিসেবে দেখতে পারেন। তার মতে, ইরান ইস্যুতে সামরিক সাফল্য নেতানিয়াহুকে আসন্ন নির্বাচনের আগে রাজনৈতিকভাবে সুবিধা দিতে পারে।

তবে অন্যদিকে সাবেক উপদেষ্টা ড্যানিয়েল লেভি সতর্ক করে বলেন, ইসরায়েলি নেতৃত্ব যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চাইলেও বাস্তবে এর সীমা নির্ধারণ করবে যুক্তরাষ্ট্র। তার ভাষায়, “এ যুদ্ধ তখনই থামে, যখন ওয়াশিংটন বলে এটি থামতে হবে।”

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা, আঞ্চলিক অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রভাবের কারণে যুক্তরাষ্ট্রও নতুন করে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে জড়াতে অনাগ্রহী। ফলে ইসরায়েলের যুদ্ধ-আকাঙ্ক্ষা থাকলেও বাস্তব রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতা তা নিয়ন্ত্রণে রাখছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক ফোনালাপ নিয়েও কূটনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। ট্রাম্পের মন্তব্য- নেতানিয়াহু ‘আমি যা বলি তাই করবেন’- ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্র এখনও ওয়াশিংটনেই কেন্দ্রীভূত।

বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েল-ইরান উত্তেজনা নতুন করে বাড়লেও, এর ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সিদ্ধান্তের ওপর।

সূত্র: আল-জাজিরা

এসকে/টিকে

মন্তব্য করুন