প্রথম এশিয়ান হিসেবে বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ার পথে জাপানের নাগাতোমো
ছবি: সংগৃহীত
১০:১১ পিএম | ২১ মে, ২০২৬
জাপানের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার ইউতো নাগাতোমো আবারও বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে নিজের নাম লিখতে যাচ্ছেন। ৩৯ বছর বয়সী এই লেফট-ব্যাক ২০২৬ বিশ্বকাপে মাঠে নামলে প্রথম এশিয়ান ফুটবলার হিসেবে টানা পাঁচটি বিশ্বকাপে খেলার অনন্য কীর্তি গড়বেন।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের জন্য গত ১৫ মে দল ঘোষণা করেছে জাপান। স্কোয়াডে ওয়াতারু এন্দো, তাকেফুসা কুবো, তাকেহিরো তোমিয়াসু কিংবা জিয়ন সুজুকির মতো ইউরোপে পরিচিত তারকাদের উপস্থিতি থাকলেও সবচেয়ে বেশি আলো কেড়েছেন নাগাতোমো।
ইন্টার মিলানে সাত বছর এবং ইউরোপে এক দশকের বেশি সময় কাটানো নাগাতোমো এখনও জাপানের নির্ভরতার প্রতীক। প্রায় ১৫ বছর আগে বিশ্বকাপ মঞ্চে যাত্রা শুরু করা এই ডিফেন্ডার বয়সকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এখনও সমান গতিতে ছুটছেন মাঠজুড়ে। টোকিও এফসির এই মিডফিল্ডার-ডিফেন্ডারের পঞ্চম বিশ্বকাপ যাত্রা এখন জাপান তো বটেই, পুরো এশিয়ান ফুটবলের জন্যই অনুপ্রেরণার গল্প।
২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপ দিয়ে শুরু হয়েছিল নাগাতোমোর বিশ্বকাপ যাত্রা। এরপর ব্রাজিল ২০১৪, রাশিয়া ২০১৮ এবং কাতার ২০২২; প্রতিটি আসরেই জাপানের নির্ভরতার প্রতীক হয়ে ছিলেন তিনি। চারটি বিশ্বকাপ মিলিয়ে এখন পর্যন্ত খেলেছেন ১৪টি ম্যাচ।
দক্ষিণ আফ্রিকায় নিজের প্রথম বিশ্বকাপে খেলেছিলেন চার ম্যাচ। এরপর ২০১৪ সালে তিনটি, ২০১৮ সালে চারটি এবং ২০২২ সালে আরও তিনটি ম্যাচে মাঠে নামেন এই অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার। বিশ্ব ফুটবলের পরাশক্তি ইউরোপ কিংবা দক্ষিণ আমেরিকার খেলোয়াড়দের মধ্যেও এমন ধারাবাহিকতা খুব কমই দেখা যায়।

তবে নাগাতোমোর কীর্তি শুধুই সংখ্যার গল্প নয়। দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিজেকে ধরে রাখার পেছনে রয়েছে তার অসাধারণ শৃঙ্খলা, পরিশ্রম এবং মানসিক দৃঢ়তা। জাপান দলে তিনি শুধু একজন ফুটবলার নন, বরং নেতৃত্ব ও অভিজ্ঞতার অন্যতম বড় প্রতীক।
সমর্থকদের কাছে নাগাতোমো নির্ভরতার নাম। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলের পাশে দাঁড়ানো এই ডিফেন্ডার সতীর্থদের কাছেও অনুপ্রেরণার উৎস। বয়স বাড়লেও তার ফিটনেস, গতি ও আত্মনিবেদন এখনও তরুণদের জন্য উদাহরণ হয়ে আছে।
নাগাতোমোর এই পঞ্চম বিশ্বকাপ শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, এশিয়ান ফুটবলের জন্যও একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। তিনি প্রমাণ করেছেন, এশিয়ার একজন ফুটবলারও বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে দীর্ঘ সময় নিজের ছাপ রেখে যেতে পারেন।
জাপানের ফুটবল যখন ধারাবাহিকভাবে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে, তখন নাগাতোমো হয়ে উঠেছেন দলটির অভিজ্ঞতার প্রতিচ্ছবি। তার সম্ভাব্য পঞ্চম বিশ্বকাপ তাই একদিকে যেমন ব্যক্তিগত মহিমার প্রতীক, অন্যদিকে এশিয়ান ফুটবলের অনুপ্রেরণার গল্পও। বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজের নাম ইতোমধ্যেই বিশেষভাবে লিখিয়েছেন ইউতো নাগাতোমো। ২০২৬ সালে মাঠে নামতে পারলে সেই নাম আরও উজ্জ্বল হয়ে থাকবে এশিয়ার ফুটবল ইতিহাসে।
এসকে/টিকে