© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ট্রেনে চড়ে ঢাকার পথে কোরবানির গরু

শেয়ার করুন:
ট্রেনে চড়ে ঢাকার পথে কোরবানির গরু

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৭:৩৯ এএম | ২৩ মে, ২০২৬
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে জামালপুরের ইসলামপুর বাজার স্টেশন থেকে রাজধানী ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছে প্রথম ‘ক্যাটল স্পেশাল’ বা কোরবানির পশু পরিবাহী বিশেষ ট্রেন। ট্রাকে পশু পরিবহনের চেয়ে খরচ কয়েক গুণ কম হওয়া এবং পথে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা ঝামেলার ভয় না থাকায় খামারি ও পশু ব্যবসায়ীদের মাঝে এই ট্রেন নিয়ে ব্যাপক সাড়া জেগেছে।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবার জামালপুর থেকে মোট তিনটি বিশেষ ট্রেনে ১ হাজার ২০০ গরু ঢাকায় নেওয়া হবে। এর মধ্যে গতকাল শুক্রবার (২২ মে) দুটি ট্রেনে ৮০০টি গরু নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া হয়েছে। প্রথম ট্রেনটি গতকাল বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে ইসলামপুর বাজার স্টেশন ছাড়ে। বাকি ৪০০ গরু নিয়ে আজ শনিবার (২৩ মে) আরেকটি বিশেষ ট্রেন ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবে।

ইসলামপুর রেলওয়ে স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি বিশেষ ট্রেনে ২৫টি করে ওয়াগন (পশু বহনের বিশেষ বগি) রয়েছে। এক একটি ওয়াগনে ১৬টি করে গরু নেওয়া যায়। রেলওয়ে প্রতি ওয়াগনের ভাড়া নির্ধারণ করেছে ৮ হাজার টাকা। সেই হিসাবে মাত্র ৫০০ টাকা খরচে একটি গরু নিরাপদে ঢাকায় পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। সাশ্রয়ী এই সুবিধার কারণে এবার তিনটি ট্রেনের সব কটি ওয়াগনই আগেভাগে বুকিং হয়ে গেছে।

ইসলামপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার শাহীন মিয়া বলেন, 'শুরুর দিকে মাত্র ১৫টি ওয়াগন দিয়ে এই সেবা চালু হয়েছিল। এখন ব্যবসায়ীদের চাহিদা ব্যাপক বেড়েছে। তবে কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে আমরা চাহিদা অনুযায়ী আরও বেশি ট্রেন দিতে পারছি না। ট্রেনে পশুর মালিক ও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তার জন্য সার্বক্ষণিক রেলওয়ে পুলিশ নিয়োজিত রয়েছে।'

রেলওয়ে কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, করোনাকালীন সংকটের মধ্যে ২০২০ সাল থেকে কোরবানির ঈদ উপলক্ষে ঢাকার বাজারগুলোতে কম খরচে ও নিরাপদে পশু নেওয়ার জন্য এই ‘ক্যাটল স্পেশাল ট্রেন’ চালু করা হয়। এরপর থেকে প্রতি বছরই এটি খামারিদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

ট্রেনে গরু নিয়ে ঢাকার বাজারে যাওয়া ইসলামপুরের পশু ব্যবসায়ী রফিক মিয়া বলেন, 'আমি গত তিন বছর ধরে কোরবানির ঈদে ট্রেনেই গরু নিয়ে ঢাকা যাচ্ছি। এবার ৪টি গরু নিয়ে রওনা হয়েছি। অল্প খরচে সরকার আমাদের বড় সুবিধা করে দিয়েছে। ট্রেনের জার্নিতে কোনো ঝামেলা নেই, গরুও সুস্থ থাকে।'

আমিনুল নামের আরেক খামারি স্বস্তি প্রকাশ করে বলেন, 'ট্রাকে করে ঢাকা নিতে গেলে যেখানে ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা লাগতো, সেখানে ট্রেনে খরচ হচ্ছে নামমাত্র। তার ওপর ট্রাকে নিলে ঘাটে ঘাটে চাঁদা দিতে হতো। ট্রেনের কারণে এখন আর সেই চাঁদাবাজ বা ডাকাতের ভয় নেই। ট্রাকে অনেক সময় ঝাঁকুনিতে গরুর পা ভেঙে যায়, ট্রেনে সেই ঝুঁকিও নেই।'

কেএন/টিএ

মন্তব্য করুন