সীমান্তে কড়া নজরদারির পরিকল্পনা ভারতের
ছবি: সংগৃহীত
০১:০৬ পিএম | ২৩ মে, ২০২৬
বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সীমান্তকে আরও কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় আনতে বড় পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি বলেছেন, ‘আগামী এক বছরের মধ্যে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সীমান্তে এমন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে যাতে সীমান্ত অভেদ্য হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে সীমান্তপথে অনুপ্রবেশ ঠেকানো এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলের জনবিন্যাস পরিবর্তনের যে কোনো প্রচেষ্টা রুখে দেওয়া হবে।’
শুক্রবার নয়াদিল্লিতে দেশটির সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর এক স্মারক বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
অমিত শাহ বলেন, ‘সীমান্ত নিরাপত্তা শক্তিশালী করতে সরকার নতুন প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে। আগামী বছরে সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর প্রতিষ্ঠার ৬০ বছর পূর্তির সময় বিশেষ এই সীমান্ত নিরাপত্তা প্রকল্প কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এই উদ্যোগের আওতায় সীমান্ত এলাকায় উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হবে। নজরদারিতে থাকবে আকাশপথের যন্ত্র, দূরপাল্লার পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং আধুনিক চিত্রগ্রহণ প্রযুক্তি। এসবের মাধ্যমে সীমান্তের প্রতিটি গতিবিধির ওপর নজরদারি চালানো হবে।’
অমিত শাহ বলেন, ‘সীমান্ত এলাকায় ভারতের জনবিন্যাস কৃত্রিমভাবে পরিবর্তনের যে কোনো প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিতে হবে। সীমান্ত রক্ষী বাহিনীকে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে আরও কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে। ভারতে অবস্থানরত প্রতিটি অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করে দেশের বাইরে পাঠাতে হবে। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। জনবিন্যাসসংক্রান্ত একটি উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচি শিগগিরই কেন্দ্রীয় সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবে।’
ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ও আসামের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করবে। এসব রাজ্যের নিরাপত্তা এবং অনুপ্রবেশ রোধে সমন্বিত পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হবে।’
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, সীমান্ত নিরাপত্তা প্রশ্নে কেন্দ্রীয় সরকারের এই অবস্থান ভবিষ্যতে রাজনৈতিক আলোচনাকেও আরও তীব্র করতে পারে। কারণ সীমান্ত নিরাপত্তা, জনবিন্যাস এবং অনুপ্রবেশের মতো বিষয়গুলো ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই সংবেদনশীল ইস্যু হিসাবে বিবেচিত হয়ে আসছে। তবে ভারত সরকারের বক্তব্য হলো, সীমান্ত সুরক্ষা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
টিজে/টিএ