ঈদ যাত্রাগাজীপুরের চন্দ্রা এলাকার অর্ধশতাধিক বাস কাউন্টার বন্ধের নির্দেশ
ছবি: সংগৃহীত
০৪:৪০ পিএম | ২৩ মে, ২০২৬
উত্তরের পথে ঈদ যাত্রায় ভোগান্তি কমাতে আগামী সোমবার (২৫ মে) থেকে গাজীপুরের চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় অর্ধশতাধিক বাস কাউন্টার বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। এতে ওই এলাকাটিতে যানবাহন ও ভাড়ার নৈরাজ্য অনেকটাই কমবে বলে ধারণা প্রশাসনের।
শনিবার (২৩ মে) দুপুরে দেশের একটি গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাজীপুর হাইওয়ে পুলিশ সুপার রহমত উল্লাহ। জানা গেছে, ঈদের কয়েকদিন আগেই যাত্রীবাহী বাসগুলোর আগাম টিকিট বিক্রি হয়ে যায়। এতে উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার চন্দ্রা বাস টার্মিনালে বিভিন্ন কোম্পানির অর্ধশতাধিক বাস কাউন্টারে ঈদের সময়ে কোনো টিকিট পাওয়া যায় না। এতে যাত্রীসীমাহীন ভোগান্তিতে পড়ে।
এদিকে এসব বাস কাউন্টারে ঈদের আগ মুহূর্তে অধিক মূল্যে টিকিট বিক্রি ও যাত্রী হয়রানির অভিযোগ উঠায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বাস কাউন্টারগুলো বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে।
এদিকে উত্তরাঞ্চলের অধিকাংশ যাত্রীবাহী বাস ঢাকার গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকেই যাত্রী নিয়ে চন্দ্রায় এসে পৌঁছায়। এসব বাসে সীমিত সংখ্যক আসন থাকায় পরিবহন সংকট সৃষ্টি হয়। তবে, চাপ সামাল দিতে কাউন্টারের বাইরেও বিভিন্ন যাত্রীবাহী বাস সার্ভিস চালু হয়। লাখ লাখ ঘরমুখী মানুষ চন্দ্রা টার্মিনাল থেকে উত্তরের ২৬ জেলায় প্রবেশে বাসের পাশাপাশি ট্রাক, পিকআপেও যাত্রা করে থাকে।
বাস কাউন্টার বন্ধের বিষয়ে চন্দ্রা এলাকায় হানিফ পরিবহন কাউন্টারের মালিক আব্দুল মান্নান বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে কাউন্টার খোলা থাকলে বাসগুলো রাস্তা বন্ধ করে দাঁড়িয়ে থাকে। এতে সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়। তাছাড়া ঈদের আগে কোনো টিকিট পাওয়া যায় না। যার ফলে কাউন্টারগুলো বন্ধ করে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ফজলুল ইসলাম নামে অরিন ট্রাভেলস কাউন্টার জানায়, ঈদের আগেই কাউন্টারগুলোতে আগাম টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। মূলত ঈদের সময় সব বাসগুলো কাউন্টারের বাইরে চলাচলের চেষ্টা করে। অনেকেই মনে করে, কাউন্টারের বাইরে চলাচলরত বাসের ভাড়া কম লাগবে। এই জন্য সবাই সড়কে দাঁড়িয়ে দরদাম করে বাসে উঠে।
গাজীপুর হাইওয়ে পুলিশ সুপার রহমত উল্লাহ বলেন, আমরা ইতোমধ্যেই সবরকম প্রস্তুতি নিয়েছি। আমাদের ৬ শতাধিক পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবী কাজ করবে। আগামীকাল থেকে যাত্রীদের চাপ বেড়ে যাবে। সড়কের যানজট নিরসনে আমাদের চেষ্টার কমতি থাকবে না। তবে, সড়কের অবকাঠামোগত সমস্যা নিয়ে আমরা কিছু করতে পারব না। এটা সড়ক বিভাগের বিষয়।
তিনি আরও বলেন, ঈদ উদযাপন করতে যারা গ্রামে যাবে, তাদের ভাড়া ও যানবাহনের হয়রানির বিষয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে সরাসরি আমাদের পুলিশ বক্সে জানানোর অনুরোধ জানাচ্ছি, আমরা ব্যবস্থা নেব।
আরআই/টিকে