© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ সমাপ্ত করার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার: পানিসম্পদমন্ত্রী

শেয়ার করুন:
তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ সমাপ্ত করার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার: পানিসম্পদমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৪:৫২ পিএম | ২৩ মে, ২০২৬
পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী বলেছেন, ‘ফারাক্কা ব্যারেজের বিরূপ প্রভাবে বাংলাদেশের তিন ভাগের এক ভাগ অঞ্চল অর্থাৎ প্রায় ২৪ থেকে ২৬টি জেলা এবং ৭ কোটি মানুষ আজ মরুভূমির মতো চরম সংকটের মুখে পড়েছে। এই সংকট থেকে দেশকে উদ্ধার করতে বর্তমান সরকার পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়নে জোর দিয়েছে এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ সমাপ্ত করার লক্ষ্যে কাজ করছে।’

শনিবার (২৩ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবে নোঙর ট্রাস্ট আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, তিস্তা পাড়ের মানুষের স্বার্থ রক্ষা করা আমাদের অধিকার। বিগত তিন মাস মন্ত্রণালয়ে কাজ করতে গিয়ে দেখেছি, এই প্রকল্প নিয়ে যে প্রকৃত কাজ হওয়া দরকার ছিল, তা এখনো সমাপ্ত হয়নি। তাই আমাদের নতুনভাবে কাজ শুরু করতে হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের তিনটি সহযোগী সংস্থা– আইডব্লিউএম, সিইজিআইএস এবং ওয়ারপো গত তিন মাস ধরে তিস্তা অঞ্চলে মাঠপর্যায়ে কাজ করছে। বিশেষজ্ঞদের মতামত ও পর্যালোচনার ভিত্তিতে তিস্তা মহাপরিকল্পনা কোন প্রক্রিয়ায় বাস্তবায়ন করা হবে, তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং তিস্তা পাড়ের পাঁচ জেলার মানুষের উন্নয়নই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।

পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ২০০২ সালে তৎকালীন সরকারের আমলে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে পদ্মা ব্যারেজের প্রাথমিক সমীক্ষা শুরু হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় এটি স্থবির থাকার পর বর্তমান সরকার নতুন করে এর যাত্রা শুরু করেছে। কারিগরি ও বিশেষজ্ঞ দলের চুলচেরা বিশ্লেষণ শেষে দেশের স্বার্থ সমুন্নত রেখে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। 

তিনি আরো বলেন, চুক্তি অনুযায়ী ১০ দিন পর পর পানির প্রবাহ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। উজানে ও ভাটিতে পানির পরিমাপের ভারসাম্য বজায় রাখতে দুই দেশের যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) ও কারিগরি দল নিয়মিত কাজ করছে। গত পরশু দিনও বাংলাদেশের একটি বিশেষজ্ঞ দল ভারতের কলকাতায় গিয়ে ফারাক্কা ব্যারেজ সংলগ্ন এলাকা পরিদর্শন ও দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করেছে, যাদের রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের পর দেশ পুনর্গঠনে মাত্র তিন মাস সময় পর্যাপ্ত নয়। এই সময়ে সরকারকে সহযোগিতা না করে বিভিন্ন অশালীন বক্তব্য ও অপপ্রচার চালানো জাতি প্রত্যাশা করে না। রাজনীতিতে শৃঙ্খলা ও শালীনতা থাকা জরুরি। কথায় কথায় রাস্তা ব্লক বা অগণতান্ত্রিক উপায়ে দাবি আদায়ের সংস্কৃতি থেকে সবাইকে বেরিয়ে আসতে হবে। 

আরআই/টিকে

মন্তব্য করুন