কে সেই ফুটবলার? যার এক ভাষণেই থেমেছিল ৫ বছরের গৃহযুদ্ধ!
ছবি: সংগৃহীত
০১:২৩ পিএম | ২৪ মে, ২০২৬
২০০৫ সালে ড্রেসিংরুমের এক আবেগঘন মুহূর্ত বদলে দিয়েছিল একটি দেশের ভাগ্য। যুদ্ধবিধ্বস্ত আইভরি কোস্টে যখন চলছিল বিভাজন, সহিংসতা আর অনিশ্চয়তা , তখন ফুটবল মাঠ থেকে শান্তির বার্তা নিয়ে সামনে আসেন দেশটির তারকা ফুটবলার দিদিয়ের দ্রগবা। কেবল একজন অধিনায়ক হিসেবেই নয়, তিনি সেদিন নিজেকে প্রমাণ করেছিলেন পুরো জাতির নেতা হিসেবে।
২০০২ সালে আইভরি কোস্ট ভয়াবহ গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। বিদ্রোহী গোষ্ঠী দেশের উত্তরাঞ্চলের বড় অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়, অন্যদিকে রাজধানী আবিদজানসহ কিছু এলাকায় কর্তৃত্ব বজায় রাখে সরকারি বাহিনী। কয়েক বছর ধরে চলতে থাকা এই সংঘাতে সাধারণ মানুষের জীবন হয়ে ওঠে দুর্বিষহ।
এমন অস্থির সময়েই আসে একটি আশার খবর। ২০০৫ সালের অক্টোবরে প্রথমবারের মতো জার্মানিতে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে আইভরি কোস্ট। ঐতিহাসিক এই সাফল্যে কিছু সময়ের জন্য হলেও যুদ্ধ আর বিভক্তির কষ্ট ভুলে আনন্দে মেতে ওঠে পুরো দেশ।
এই মুহূর্তটিকেই শান্তির আহ্বানের সুযোগ হিসেবে বেছে নেন দলটির অধিনায়ক দিদিয়ের দ্রগবা। বিশ্বকাপ নিশ্চিত হওয়ার পর ড্রেসিংরুমে সংবাদমাধ্যম ও ক্যামেরার সামনে হাঁটু গেড়ে আবেগপূর্ণ এক বার্তা দেন তিনি। দেশের সব মানুষকে এক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে দ্রগবা বলেন, নারী-পুরুষ, উত্তর-দক্ষিণ কিংবা পূর্ব-পশ্চিম— সবাই যেন বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়। একই সঙ্গে তিনি যুদ্ধরত পক্ষগুলোর প্রতি অস্ত্র নামিয়ে রেখে জনগণের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়ার অনুরোধ জানান।
মাত্র এক মিনিটের সেই বক্তব্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পুরো দেশে। টেলিভিশন ও রেডিওতে বারবার প্রচারিত হতে থাকে দ্রগবার শান্তির বার্তা। পরিস্থিতিতে নাটকীয় পরিবর্তন আসে; সরকার ও বিদ্রোহী গোষ্ঠী আলোচনায় বসতে আগ্রহী হয়। পরবর্তীতে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে বড় অগ্রগতি দেখা যায়, আর সেই যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন দিদিয়ের দ্রগবা।
ফুটবল মাঠে অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য যেমন তিনি পরিচিত, তেমনি নিজের দেশের সংকটময় সময়ে মানুষের ঐক্যের প্রতীক হিসেবেও ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছেন এই কিংবদন্তি ফুটবলার।
এবি/টিকে
এবি/টিকে