© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে তীব্র দাবদাহ, হিটস্ট্রোকে প্রাণ গেল ১৬ জনের

শেয়ার করুন:
ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে তীব্র দাবদাহ, হিটস্ট্রোকে প্রাণ গেল ১৬ জনের

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১১:২৫ পিএম | ২৪ মে, ২০২৬
ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে তীব্র দাবদাহে এ পর্যন্ত অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

রবিবার (২৪ মে) দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তীব্র গরমের কারণে ইতোমধ্যে দেশজুড়ে আনুষ্ঠানিক স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

ভারতে গ্রীষ্মকালে তীব্র গরম নতুন কিছু নয়। তবে বহু বছরের বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশটিতে তাপপ্রবাহ দিন দিন দীর্ঘতর, ঘন ঘন এবং আরও তীব্র রূপ ধারণ করছে। ১৪০ কোটি মানুষের এই দেশটিতে সম্প্রতি বেশ কয়েকটি শহরের তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে।

হিটস্ট্রোকে মৃত্যুর এই ঘটনাগুলো ঘটেছে প্রধানত দক্ষিণের রাজ্য তেলেঙ্গানায়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাজ্যজুড়ে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন তেলেঙ্গানার রাজস্ব মন্ত্রী পঙ্গুলেটি শ্রীনিবাস রেড্ডি।

মন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এবারের গরমের তীব্রতা নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে। একই সাথে তাপপ্রবাহ চলাকালীন কী কী সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, সে বিষয়ে জনগণকে আগেভাগেই সচেতন করতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে বয়স্ক, শিশু এবং গর্ভবতী নারীদের জরুরি প্রয়োজন ছাড়া দিনের বেলা বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে তেলেঙ্গানার স্থানীয় সরকার।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, চরম তাপমাত্রা শরীরে মারাত্মক পানিশূন্যতা তৈরি করতে পারে। এর ফলে রক্ত ঘন হয়ে যায় এবং পরিস্থিতি জটিল হলে মানুষের শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কাজ করা বন্ধ করে দিতে পারে (অর্গান ফেইলিউর)।

ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর (আইএমডি) চলতি সপ্তাহের শুরুতেই দেশের বেশ কয়েকটি অংশে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা এবং তীব্র তাপপ্রবাহের পূর্বাভাস দিয়েছিল। রাজধানী নয়াদিল্লি এবং এর আশপাশের শহরগুলোতে পুরো সপ্তাহ জুড়েই তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে রয়েছে। তীব্র গরমের কারণে দেশটিতে বিদ্যুৎ ব্যবহারের চাহিদাও অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

দিনের বেলার তীব্র রোদের পাশাপাশি রাতেও তাপমাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বেশি থাকছে। ফলে সাধারণ মানুষ রাতের বেলাতেও স্বস্তি পাচ্ছে না।

বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারত গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনে বিশ্বে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। দেশটিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য এখনও ব্যাপকভাবে কয়লার ওপর নির্ভর করা হয়। তবে ভারত ২০৭০ সালের মধ্যে তাদের অর্থনীতিকে সম্পূর্ণ কার্বন-মুক্ত (নেট-জিরো এমিশন) করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যা পশ্চিমা উন্নত দেশগুলোর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দুই দশক পিছিয়ে।

উল্লেখ্য, ভারতের ইতিহাসে এ পর্যন্ত রেকর্ডকৃত সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৫১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ২০১৬ সালে রাজস্থানের ফালোদিতে পরিমাপ করা হয়েছিল।

সূত্র: ডন

এসকে/টিকে

মন্তব্য করুন