কুয়েতে ২৪০ টন খাদ্য সহায়তা পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ
ছবি: সংগৃহীত
০৮:৩০ এএম | ২৫ মে, ২০২৬
পশ্চিম এশিয়ার চলমান আঞ্চলিক সংকট এবং হরমুজ প্রণালির দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থার প্রেক্ষাপটে ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ কুয়েতের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। কৌশলগত খাদ্য মজুত শক্তিশালী করতে কুয়েতকে প্রতীকীভাবে খাদ্যসামগ্রীর চালান হস্তান্তর করেছে বাংলাদেশ।
রোববার (২৫ মে) কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কুয়েত সফররত প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত ও পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির কুয়েতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ জাররাহ জাবের আল-আহমাদ আল-সাবাহর কাছে খাদ্যসামগ্রীর প্রতীকী চালান হস্তান্তর করেন।
সরকার জানিয়েছে, এটি বৃহত্তর সহায়তা কার্যক্রমের অংশ। এর আওতায় বাংলাদেশ থেকে মোট ২৪০ টন খাদ্যসামগ্রী একাধিক ফ্লাইটে পর্যায়ক্রমে কুয়েতে পৌঁছাবে। চলমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার কারণে কুয়েতের সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর যে চাপ সৃষ্টি হয়েছে, তা মোকাবিলায় এই সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে হুমায়ুন কবির বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে কুয়েতের আমির শেখ মেশাল আল-আহমাদ আল-জাবের আল-সাবাহ বরাবর পাঠানো একটি পত্রও আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন। পত্রে কুয়েতের জনগণের শান্তি, নিরাপত্তা ও কল্যাণ কামনার পাশাপাশি দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
কুয়েত সফররত বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রাশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (পশ্চিম এশিয়া)। এছাড়া কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল সৈয়দ তারেক হোসেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
সফরকালে উভয় পক্ষের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, আঞ্চলিক পরিস্থিতি, মানবিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশ ও কুয়েত পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও বন্ধুত্বের ভিত্তিতে বিদ্যমান সম্পর্ক আরও জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
একই সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জনশক্তি, খাদ্য নিরাপত্তা ও বেসামরিক বিমান চলাচলসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও উভয় দেশ একমত হয়।
পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় কুয়েতের প্রতি এই শুভেচ্ছা সহায়তা দুই দেশের গভীর ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন এবং সংকটময় সময়ে বন্ধুপ্রতিম দেশের পাশে থাকার বাংলাদেশের অঙ্গীকারের বহিঃপ্রকাশ।
টিজে/টিকে