© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ফ্রান্সের বিশ্ব সাহিত্য অভিধানে স্থান পেলেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম

শেয়ার করুন:
ফ্রান্সের বিশ্ব সাহিত্য অভিধানে স্থান পেলেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৪:১৭ পিএম | ১৫ জুন, ২০২৬
বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বদরবারে নতুন করে পরিচিত করার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সাক্ষী হলো বাংলাদেশ। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এবার স্থান পেয়েছেন ফ্রান্সের খ্যাতনামা বিশ্ব সাহিত্য অভিধানে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ফরাসি জ্ঞানকোষ ও অভিধান প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান লারুস তাদের বিশ্ব সাহিত্যভিত্তিক তথ্যভাণ্ডারে নজরুলকে অন্তর্ভুক্ত করেছে, যা বাংলা ভাষা ও সাহিত্যচর্চার জন্য এক গর্বের অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ফরাসি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানটির তথ্যভাণ্ডারে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলা ভাষার একজন গুরুত্বপূর্ণ কবি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে তার জন্মস্থান পশ্চিমবঙ্গের চুরুলিয়া এবং মৃত্যুর স্থান হিসেবে ঢাকার উল্লেখ রয়েছে। একই সঙ্গে তাকে ‘বিদ্রোহী কবি’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে, যে পরিচয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাংলা সাহিত্যজগতে সমাদৃত।

অভিধানে নজরুলের সাহিত্যকর্মকে দেশপ্রেম, সামাজিক চেতনা এবং মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ গীতিকাব্য হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তার সৃষ্টিশীলতার পরিচয় তুলে ধরতে উল্লেখ করা হয়েছে বহুল আলোচিত কাব্যগ্রন্থ ‘অগ্নিবীণা’ এবং ‘ভাঙার গান’-এর নামও।

নজরুল গবেষক ও প্যারিসভিত্তিক কাজী নজরুল ইসলাম সেন্টারের উপদেষ্টা খোরশেদ আলম পাটোয়ারীর মতে, ইউরোপের দীর্ঘদিনের স্বীকৃত একটি আন্তর্জাতিক সাহিত্যভিত্তিক জ্ঞানকোষে নজরুলের অন্তর্ভুক্তি নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। তার ভাষায়, এটি শুধু একজন কবির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নয়, বরং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য ঐতিহ্যের বৈশ্বিক উপস্থিতিরও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন।

একই সুর শোনা গেছে প্যারিসের কাজী নজরুল ইসলাম সেন্টারের সভাপতি কবি সোহেল আহমদের কণ্ঠেও। তিনি মনে করেন, নজরুল কেবল বাংলাদেশের কবি নন, তিনি বিশ্বমানবতার কণ্ঠস্বর। অন্যায়, বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে তার সাহিত্যিক উচ্চারণ আজও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের কাছে প্রাসঙ্গিক এবং অনুপ্রেরণার উৎস।

তিনি আরও জানান, ফরাসি সমাজে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে আরও পরিচিত করে তুলতে তাদের সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে আসছে। এই স্বীকৃতি সেই প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী করবে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্বজুড়ে সাহিত্য, সাহিত্যিক এবং বিভিন্ন সাহিত্যধারা নিয়ে বিস্তৃত তথ্য উপস্থাপনের জন্য পরিচিত ফ্রান্সের এই বিশ্ব সাহিত্য অভিধানে নজরুলের অন্তর্ভুক্তি নিঃসন্দেহে বাংলা ভাষাভাষী মানুষের জন্য আনন্দের সংবাদ। এটি শুধু একজন কবির অর্জন নয়, বরং বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিশ্বমঞ্চে আরও দৃঢ় অবস্থান তৈরির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

এসএ/এসএন


মন্তব্য করুন