© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ফ্রান্সে বিদেশিদের প্রশাসনিক আটক ২১০ দিন করার প্রস্তাব অনুমোদন

শেয়ার করুন:
ফ্রান্সে বিদেশিদের প্রশাসনিক আটক ২১০ দিন করার প্রস্তাব অনুমোদন

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১০:৩৬ এএম | ২৫ মে, ২০২৬
ফ্রান্সে অনিয়মিতভাবে অবস্থান করা এবং জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত বিদেশিদের দীর্ঘ সময় প্রশাসনিক আটক কেন্দ্রে রাখার পথ আরো প্রশস্ত হচ্ছে। দেশটির উচ্চকক্ষ সিনেট এমন একটি বিল অনুমোদন করেছে, যার মাধ্যমে বিশেষ ক্ষেত্রে বিদেশিদের আটকের সর্বোচ্চ সময়সীমা বাড়িয়ে ২১০ দিন করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

সরকার বলছে, সন্ত্রাসবাদ ও জননিরাপত্তা মোকাবিলায় এই পদক্ষেপ জরুরি। তবে মানবাধিকার সংগঠন ও বিরোধীরা একে ‘অতিরিক্ত নিরাপত্তাকেন্দ্রিক’ উদ্যোগ হিসেবে সমালোচনা করেছে।

বুধবার (২০ মে) সিনেটে ভোটাভুটির মাধ্যমে বিলটি পাস হয়। এর আগে ফরাসি পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিও বিলটির পক্ষে ভোট দেয়।

তবে দুই কক্ষে অনুমোদিত সংস্করণে কিছু পার্থক্য থাকায় এখন সংসদ সদস্য ও সিনেটরদের সমন্বয়ে একটি যৌথ কমিশন চূড়ান্ত খসড়া নির্ধারণ করবে।

প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, ফ্রান্স ছাড়ার নির্দেশ পাওয়া এবং জননিরাপত্তার জন্য “বাস্তব, বর্তমান ও গুরুতর” হুমকি হিসেবে চিহ্নিত বিদেশিদের প্রশাসনিক আটক কেন্দ্র (সিআরএ)-এ সর্বোচ্চ সাত মাস বা ২১০ দিন পর্যন্ত রাখা যাবে। বর্তমানে সাধারণ ক্ষেত্রে এই সময়সীমা ৯০ দিন। আর সন্ত্রাসবাদে দণ্ডিত বিদেশিদের জন্য তা ১৮০ দিন পর্যন্ত সীমাবদ্ধ।

নতুন আইনে সেই সীমাও বাড়িয়ে ২১০ দিন করার কথা বলা হয়েছে।

তবে কারা এই বিশেষ বিধানের আওতায় পড়বেন, তা নিয়ে এখনও মতভেদ রয়েছে। সরকার ও ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির সদস্যরা চান, হামলাসহ গুরুতর অপরাধে অন্তত তিন বছরের কারাদণ্ড পাওয়া বিদেশিদেরও এই আইনের আওতায় আনা হোক। অন্যদিকে সিনেটের অবস্থান তুলনামূলক কঠোর হলেও সীমিত—তারা অন্তত পাঁচ বছরের সাজাযোগ্য গুরুতর অপরাধীদের অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে।

ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরো ন্যুনেজ বিলটির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, ২০১৭ সাল থেকে ফ্রান্সে ৩৪টি সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে।

এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে রাষ্ট্রকে আরো কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

সিনেটে অনুমোদিত খসড়ায় একই ব্যক্তিকে বারবার প্রশাসনিক আটকে রাখার ক্ষেত্রেও নতুন সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। সাধারণ ক্ষেত্রে মোট ৩৬০ দিন এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ ৫৪০ দিন পর্যন্ত আটকে রাখার বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

এ ছাড়া বিলে সন্ত্রাসবাদবিরোধী আরো কিছু ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে আচরণগত সমস্যাযুক্ত উগ্রপন্থি ব্যক্তিদের জন্য বাধ্যতামূলক মনোরোগ মূল্যায়নের প্রস্তাবও রয়েছে।

ফ্রান্সে প্রশাসনিক আটক কেন্দ্র বা সিআরএ নিয়ে বিতর্ক নতুন করে সামনে আসে ২০২৪ সালে শিক্ষার্থী ফিলিপিন হত্যাকাণ্ডের পর। ওই ঘটনায় সন্দেহভাজন এক মরক্কোর নাগরিককে ঘটনার কিছুদিন আগে সিআরএ থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে ফ্রান্স ছাড়ার নির্দেশও কার্যকর ছিল।

এদিকে বামপন্থি দল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো বিলটির তীব্র সমালোচনা করেছে। ফরাসি সোশ্যালিস্ট পার্টির সিনেটর ক্রিস্তফ শাইয়ুর ভাষায়, ‘আটকের সময় বাড়ালেই যে বহিষ্কারের হার বাড়বে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।’

অন্যদিকে রিপাবলিকান (এলআর) দলের সিনেটর ও বিলটির প্রতিবেদক এরভে রেনো বলেন, ‘জননিরাপত্তার জন্য হুমকি এমন বিদেশিদের বহিষ্কারে প্রশাসনিক আটকই সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি। এজন্য কিছু কঠোরতা মেনে নিতেই হবে।’

মানবাধিকার সংস্থা লা সিমাদসহ কয়েকটি সংগঠনের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ফ্রান্সের মূল ভূখণ্ডে প্রায় ১৬ হাজার ৫০০ বিদেশিকে প্রশাসনিক আটক কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ১৬ হাজার ২২৮। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আটক ব্যক্তিদের ৬০ শতাংশের বেশি শেষ পর্যন্ত আদালতের সিদ্ধান্তে মুক্তি পেয়েছেন।

সংগঠনগুলোর দাবি, প্রশাসনিক আটক কেন্দ্রগুলো এখন দ্রুত বহিষ্কারের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি আটকের স্থানে পরিণত হচ্ছে। তাদের মতে, যত বেশি সময় ধরে আটক রাখা হয়, বহিষ্কার কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনাও তত কমে যায়।

টিজে/টিকে 

মন্তব্য করুন