অশ্রুসিক্ত চোখে রিয়াল মাদ্রিদকে কার্ভাহালের বিদায়
ছবি: সংগৃহীত
১০:৪১ এএম | ২৫ মে, ২০২৬
সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ের সবুজ গালিচায় যখন নামলেন দানি কার্ভাহাল, করতালিতে চারদিক মুখরিত করে তুললেন সবাই। অনেকটা সময় স্রেফ দাঁড়িয়ে রইলেন রিয়াল মাদ্রিদ ডিফেন্ডার। তার দুচোখ দিয়ে ঝরছিল অশ্রু। শুধু নিজেই কাঁদলেন না, বহু মানুষকে কাঁদিয়ে ইতি টানলেন সাফল্যমণ্ডিত এক অধ্যায়ের।
ঘরের মাঠে সমর্থকদের সামনে শনিবার রাতে রিয়ালের জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলতে নামেন ৩৪ বছর বয়সী কার্ভাহাল। আথলেতিক বিলবাওকে ৪-২ গোলে হারানো ম্যাচটিতে ৮১ মিনিট খেলেন তিনি। মাঠ ছাড়ার সময়ও কাঁদতে দেখা যায় তাকে। ওই সময় তাকে ‘গার্ড অব ওনার’ দেন দুই দলের খেলোয়াড়রা।
সেই ১০ বছর বয়সে মাদ্রিদের ক্লাবটিতে যোগ দেন কার্ভাহাল। বয়সভিত্তিক সব পর্যায়ের ফুটবল খেলে মূল দলে জায়গা করে নেন এই স্প্যানিয়ার্ড। সময়ের সঙ্গে দলটির অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠেন তিনি। দলটিকে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগও হয় তার। ক্যারিয়ারে সবশেষ ম্যাচটিও খেললেন অধিনায়ক হিসেবে।
পুরো ক্যারিয়ারে কেবল একটি মৌসুমে রিয়াল ছাড়া আরেক ক্লাব বায়ার লেভারকুজেনে খেলেন কার্ভাহাল। দুই মেয়াদে মাদ্রিদের ক্লাবটিতে ২৩ বছর কাটিয়ে মূল দলের হয়ে ৪৫১ ম্যাচে খেলেন তিনি। ১৪টি গোল করার পাশাপাশি ৬৬ গোলে রাখেন অবদান।

রিয়ালের হয়ে অনেক শিরোপা জেতেন কার্ভাহাল। যার মধ্যে রয়েছে ছয়টি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি, চারটি লা লিগা, পাঁচটি করে স্প্যানিশ সুপার কাপ ও ক্লাব বিশ্বকাপ।
চোটের ছোবলে যদিও অনেক দিন ধরে দলে অনিয়মিত ছিলেন কার্ভাহাল। চলতি মৌসুম পর্যন্ত তার সঙ্গে চুক্তি ছিল রিয়ালের, যা শেষ হলো বিলবাওয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে।
বিদায়ী বার্তায় কার্ভাহাল রিয়ালের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
“শুভ সন্ধ্যা, মাদ্রিদের সমর্থকরা। এই বিদায়ী মুহূর্তে কথা বলা আমার জন্য সহজ নয়, কারণ আমি ভীষণ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছি। প্রথমেই আমি আমাদের প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনোকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। তিনিই আমাকে জার্মানি থেকে ফিরিয়ে এনেছিলেন, আর আমরা একসঙ্গে অনেক চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছি। তবে একটা বিষয় বিশেষভাবে বলতে চাই, আমার হাঁটুতে চোট পাওয়ার তখন ২৪ ঘণ্টাও পেরোয়নি, ওই সময়ও তিনি আমার চুক্তি নবায়ন করতে দ্বিধা করেননি।”
“এরপর সতীর্থদের ধন্যবাদ জানাতে চাই। দুইটা মৌসুম আমাদের জন্য ভালো কাটেনি, কিন্তু আমি নিশ্চিত আমরা আবার জিতব। এটা রিয়াল মাদ্রিদ, আর আমাদের আবার ঘুরে দাঁড়াতেই হবে—ইতিহাস সেটাই বলে…”
এরপর রিয়াল মাদ্রিদের সমর্থকদের এবং নিজের পরিবারের সদস্যদেরও ধন্যবাদ জানান কার্ভাহাল। ‘সবকিছু পাওয়ার তৃপ্তি নিয়ে’ ক্লাব ছাড়ছেন তিনি।
“বিষয়টা এমন নয় যে, এটা কেবল আমার জীবনের (সবচেয়ে প্রিয়) কোনো ক্লাব, এটা আমার অস্তিত্ব। জন্ম থেকেই আমি রিয়াল মাদ্রিদের সমর্থক। এখানে ২৩ বছর ধরে আছি, সব পর্যায়ে খেলেছি, জেতার মতো সবকিছুই জিতেছি, এমনকি অধিনায়কত্বও করেছি…এর চেয়ে বেশি কিছু চাইতে পারতাম না। খুবই আনন্দ এবং তৃপ্তি নিয়ে বিদায় নিচ্ছি।”
“ছোটবেলায় যদি কেউ বলত আমার ক্যারিয়ার এমন হবে, কল্পনাও করতে পারতাম না। প্রথম থেকে শেষ দিন পর্যন্ত পুরো পথচলাটা ছিল দুর্দান্ত, চমৎকার। সাফল্য, কঠিন মুহূর্ত আমাকে পরিপক্ক হতে সাহায্য করেছে, অসাধারণ সব মানুষের সঙ্গে ড্রেসিং রুম ভাগাভাগি করেছি…এটা বিশ্বের সেরা ক্লাব। সবসময় সবার প্রতি সদয় হওয়ার করার চেষ্টা করেছি, এমনকি মাঠে বল হারালে কিংবা ভুল পাস দিলে যখন হতাশ হতাম তখনও। আশা করি, দানি কার্ভাহালকে সবাই ভালো স্মৃতির সঙ্গেই মনে রাখবে। ভবিষ্যতে আবার দেখা হবে।”
রিয়াল মাদ্রিদকে বিদায় বলাটা তার জন্য কতটা কঠিন, সেটাও তুলে ধরেন কার্ভাহাল। সঙ্গে আবারও রিয়ালে অন্য কোনো ভূমিকায় ফেরার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
“এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা খুব কঠিন। গতকাল অনুশীলনের মাঠ দেখে, আজ আমার জন্য বানানো ব্যানার আর দর্শকদের অভিবাদন দেখে.. আবেগপ্রবণ না হয়ে কীভাবে থাকি? চমৎকার এক অধ্যায় ও অবিস্মরণীয় এক ক্যারিয়ারের ইতি টানছি। ক্লাব ও সমর্থকদের প্রতি কেবল কৃতজ্ঞতাই প্রকাশ করার আছে। ধন্যবাদ, প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত একদম শিশুর মতো উপভোগ করেছি এবং আশা করি, অনুভূতিটা দুই পক্ষেরই একই ছিল। এই আঙিনায়, যেটা আমার কাছে নিজের বাড়ির মতো, অন্য কোনো ভূমিকায় আবারও ফিরে আসার আশা রাখি, যেভাবে পারি সবসময় সাহায্য করে যাব।”
আইকে/টিএ