© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

দুই সাংবাদিক গ্রেপ্তারে অ্যামনেস্টির হস্তক্ষেপ উচিত নয় : চিফ প্রসিকিউটর

শেয়ার করুন:
দুই সাংবাদিক গ্রেপ্তারে অ্যামনেস্টির হস্তক্ষেপ উচিত নয় : চিফ প্রসিকিউটর

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০১:৩০ পিএম | ২৫ মে, ২০২৬
রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজত ইসলামের সমাবেশে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দুই সাংবাদিক গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বা হিউম্যান রাইটসের হস্তক্ষেপ করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

রবিবার (২৪) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি এসব কথা বলেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, দুই সাংবাদিককে (ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবু) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলায় শ্যোন এরেস্ট দেখানো হয়েছে। তদন্ত সংস্থার পক্ষ থেকে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হতে পারে।

তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা এ মামলার তদন্ত করছে। তাদের কাজ করতে দেওয়া উচিত। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বা অন্য কোনো মানবাধিকার সংগঠন কী প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, তা আমরা দেখিনি। আমাদের একটি চলমান বিচারপ্রক্রিয়ায় তাদের হস্তক্ষেপ করা উচিত হবে না। আইনগত সুযোগও নেই।

এ মামলায় আরো কোনো সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখানো হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে আমিনুল ইসলাম বলেন, আমাদের তদন্ত চলমান। যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে, তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে। তবে অহেতুক কোনো নির্দোষ ব্যক্তিকে হয়রানির জন্য বিচারের মুখোমুখি করা হবে না।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, গত ১৪ বছরেও সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলার আলোর মুখ দেখতে পাচ্ছি না। এ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত এত বছরেও শেষ না হওয়া দুঃখজনক। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, একটা হত্যা মামলার তদন্ত আজীবন চলতে পারে না।

কোরবানির ঈদের পরে জুলাই মানবতাবিরোধী অপরাধের দুটি মামলার রায় ঘোষণা হবে বলে প্রত্যাশা করেছেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে ২২টি মামলার বিচার চলমান রয়েছে। রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ আছে দুটি মামলা। আশা করছি, ঈদের পরই এসব মামলার রায় হবে।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ৩১টি মামলার তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। এ ছাড়া অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আমরা গুম-খুন এবং ক্রসফায়ারের ১৫০টি মামলার তদন্ত হাতে নিয়েছি। ইতিমধ্যে এসব কাজ শুরু হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ট্রাইব্যুনালে যোগ দেওয়ার পর ৭টি মামলা পুনরায় তদন্তে পাঠানো হয়েছে। সেগুলো ঈদের পর চার্জশিট দাখিল করা হবে।

জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারে (জেআইসি) গুম সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের এক মামলায় পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের ক্যাশিয়ার হিসেবে খ্যাত আওয়ামী লীগ নেতা রিফাত নিলয় জোয়ার্দারকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৩ জুলাই দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল-১।

এদিন কারাগার থেকে রিফাত নিলয়কে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। গত ১৯ মে তার বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট চায় প্রসিকিউশন। রিফাত ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ধানমন্ডি থানা আওয়ামী লীগের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের ৩ নম্বর ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক। ধানমন্ডি থানায় হওয়া অন্য মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন তিনি।

এমআর/টিকে  

মন্তব্য করুন