লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখরিত মিনা উপত্যকা, ১৫ লাখ হজযাত্রীর সমাবেশ
ছবি: সংগৃহীত
০৬:২২ পিএম | ২৫ মে, ২০২৬
লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক ধ্বনিতে এখন মুখরিত পবিত্র মিনা উপত্যকা। সোমবার হজের ‘ইয়াওমুত তারবিয়াহ’ বা তারবিয়াহ দিবসে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ১৫ লাখেরও বেশি ধর্মপ্রাণ মুসল্লি তাঁবুর শহর মিনায় সমবেত হয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে শুরু হলো ২০২৬ সালের পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা।
সোমবার জিলহজ মাসের ৮ তারিখ ভোর থেকেই হজের নিয়তে ইহরাম বেঁধে হাজিরা দলে দলে মিনার দিকে যাত্রা শুরু করেন। কেউ বাসে, কেউ বা পায়ে হেঁটে মক্কায় কাবা শরিফ থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত এই উপত্যকায় পৌঁছান। আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে হাজিদের এই অবিরাম পথচলা পুরো মিনা এলাকায় এক আধ্যাত্মিক আবহ তৈরি করেছে। মুসল্লিরা এখানে নিজ নিজ নির্ধারিত তাঁবুতে অবস্থান করে ইবাদত-বন্দেগি ও তওবা-ইস্তিগফারের মাধ্যমে দিন অতিবাহিত করছেন।
মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র সুন্নাহ অনুসরণ করে হাজিরা সোমবার সারা দিন এবং রাত মিনায় অবস্থান করবেন। নিয়ম অনুযায়ী হাজিরা এখানে জোহর, আসর, মাগরিব, এশা এবং পরদিন অর্থাৎ মঙ্গলবার ফজর নামাজ আদায় করবেন। হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রোকন ‘আরাফার ময়দানে অবস্থান’-এর পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে এই সময়টুকু হাজিরা প্রার্থনা ও আত্মিক শুদ্ধিতে নিমগ্ন থাকেন।
লাখো মানুষের এই মহাসম্মিলন নির্বিঘ্ন করতে সৌদি আরব ব্যাপক নিরাপত্তা ও সেবামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। চিকিৎসা, খাদ্য সরবরাহ ও যাতায়াত নিশ্চিত করতে মিনা ও এর আশপাশে হাজার হাজার কর্মী নিয়োজিত রয়েছেন। সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হাজিদের আবাসস্থল থেকে মিনা পর্যন্ত পরিবহনের সকল প্রস্তুতি আগেই সম্পন্ন করা হয়েছে। তাঁবুগুলোতে হাজিদের আরামদায়ক অবস্থান নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ চালানো হচ্ছে।
আগামীকাল মঙ্গলবার (৯ জিলহজ) সূর্যোদয়ের পর হাজিরা মিনা থেকে ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানের দিকে রওনা হবেন। হজের মূল কার্যক্রম হলো আরাফার ময়দানে অবস্থান করা। সেখানে দিনভর অবস্থান শেষে হাজিরা মুজদালিফায় গিয়ে রাত যাপন করবেন এবং পাথর সংগ্রহ করবেন।
এ বছর বিদেশের ১৫ লাখ হজযাত্রীর সঙ্গে যোগ দিয়েছেন সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ হাজার হাজার হাজি। গত রোববার যারা মক্কায় পৌঁছেছেন, তারা কাবা শরিফে তাওয়াফে কুদুম সম্পন্ন করে মিনার দিকে যাত্রা করেন।
আরআই/টিএ