© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

নেইমারকে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা দিয়ে তোপের মুখে আনচেলত্তি

শেয়ার করুন:
নেইমারকে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা দিয়ে তোপের মুখে আনচেলত্তি

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৭:৩০ পিএম | ২৫ মে, ২০২৬
২০২৬ বিশ্বকাপের খেলা মাঠে গড়ানোর আগেই চাপের মুখে ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াডে চোট জর্জরিত নেইমার জুনিয়রকে রাখায় এই ইতালিয়ান কোচের তীব্র সমালোচনা করেছেন ব্রাজিলের সাবেক গোলরক্ষক ওয়াগনার ফার্নান্দো ভেলোসো। তার মতে, সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় নেইমারের দলে থাকা ‘অযৌক্তিক’।

‘নোভাব্রাসিল এম কম্পো’ অনুষ্ঠানে কথা বলতে গিয়ে ভেলোসো আনচেলত্তির স্কোয়াড নির্বাচন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ব্রাজিল জাতীয় দলের জার্সিতে একটি ম্যাচ খেলা এই গোলরক্ষক বলেন, ‘আমি হলে বিশ্বকাপ দলে নেইমারকে নিতাম না। নেইমারকে নিতে গিয়ে জোয়াও পেদ্রোকে বাদ দেওয়া ফুটবলের সবচেয়ে হাস্যকর সিদ্ধান্তগুলোর একটি। পেদ্রো সব জায়গায় গোল করে যাচ্ছে, আর নেইমার তো রেকোলেতার বিপক্ষেও ঠিকমতো খেলতে পারে না, অথচ সে বিশ্বকাপ দলে।’



এখানেই থামেননি ভেলোসো। তার অভিযোগ, নেইমার নিজের সুবিধামতো ম্যাচ বেছে খেলেছেন। তার ভাষায়, ‘নেইমার ম্যাচ বেছে খেলেছে। সে পালমেইরাস, ফ্লামেঙ্গো কিংবা বাহিয়ার বিপক্ষে খেলেনি। কিন্তু রেকোলেতা বা রেড বুল ব্রাগান্তিনোর মতো দুর্বল দলের বিপক্ষে খেলেছে, যাতে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। কিন্তু সেখানেও পারেনি।’

তবে সমালোচনার মাঝেও নেইমারকে দলে নেওয়ার পেছনে আনচেলত্তির যুক্তি থাকতে পারে বলেও মনে করেন ভেলোসো। তার মতে, বর্তমান ব্রাজিল দলে নেতৃত্ব, ব্যক্তিত্ব এবং ক্যারিশমার ঘাটতি রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এই জাতীয় দলে কোনো পরিচয় নেই, ক্যারিশমা নেই, নেতা নেই। তাই নেইমারের ডাক সমর্থকদের মধ্যে অন্তত কিছু আশা ফিরিয়েছে। আমি বলছি না যে নেইমার বিশ্বকাপে পার্থক্য গড়ে দেবে। কিন্তু বর্তমান দলটা দুর্বল মানসিকতার খেলোয়াড়ে ভরা। দলে কোনো নেতা নেই। নেইমারও হয়তো আদর্শ নেতা নয়, তবে অন্তত টেকনিক্যালি সে নেতৃত্ব দিতে পারে, আগে দিয়েছে।’

বাইরের সমালোচনা চললেও জাতীয় দলে ফেরার সুযোগে নেইমার নিজে  আবেগাপ্লুত। নিজের শারীরিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও ব্রাজিল দলে ফেরাটা তার জন্য কতটা কঠিন ছিল, সেটি খোলাখুলিই জানিয়েছেন বার্সেলোনা ও পিএসজির সাবেক এই তারকা।

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে নেইমার বলেন, ‘সেদিন আমি ভোর সাড়ে ছয়টা বা সাতটা পর্যন্ত জেগে ছিলাম, সব ভিডিও দেখছিলাম। পুরো রাত কান্না থামাতে পারিনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি তখন স্ত্রী আর মেয়েদের সঙ্গে একই বিছানায় ছিলাম। তারা ঘুমাচ্ছিল, আর আমি ভিডিও দেখতে দেখতে কাঁদছিলাম। কারণ পথটা সহজ ছিল না।’

বিশ্বকাপ যত ঘনিয়ে আসবে, নেইমারকে ঘিরে বিতর্কও তত বাড়বে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। ফিটনেস ও ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও, তরুণ ব্রাজিল দলকে পথ দেখাতে তার অভিজ্ঞতার ওপরই ভরসা রেখেছেন আনচেলত্তি।

তবে নেইমার নিজের অবস্থানে অটল। দেশের জার্সির জন্য সর্বোচ্চটা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি। তার ভাষায়, ‘এটা কঠিন ছিল, খুব কঠিন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সবকিছু সার্থক হয়েছে। এই ভালোবাসা, এই আবেগ, ব্রাজিলিয়ান হিসেবে এই অনুভূতি আর বিশ্বকাপে আপনাদের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ; সবকিছুই সার্থক।’

আরআই/টিএ

মন্তব্য করুন