আপন ২ ভাই অথচ বিশ্বকাপে খেলবেন আলাদা দেশের হয়ে
ছবি: সংগৃহীত
০৭:৪০ পিএম | ২৫ মে, ২০২৬
আসন্ন বিশ্বকাপের অন্যতম ব্যতিক্রমী ঘটনার জন্ম দিতে যাচ্ছেন দেজিরে দুয়ে এবং গেলা দুয়ে। এই দুই সহোদর ভাই বিশ্বকাপে আলাদা দুটি দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন। প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের (পিএসজি) অন্যতম সেরা তারকা দেজিরে দুয়ে এবারের আসরে ফ্রান্সের আক্রমণভাগের অন্যতম ভরসা। অন্যদিকে বড় ভাই গেলা দুয়ে প্রতিনিধিত্ব করবেন আফ্রিকার দেশ আইভরি কোস্টের।
দুয়ে ব্রাদার্সের দুজনেরই জন্ম ফ্রান্সের আনশেই শহরে। দেজিরে ইউরোপ চ্যাম্পিয়ন পিএসজির অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার। অন্যদিকে গেলা লিগ ওয়ানের আরেক ক্লাব আরসি স্ট্রাসবুর্গের নির্ভরযোগ্য রাইট-ব্যাক। জন্ম এক দেশে হলেও দুই ভাই বেছে নিয়েছেন ভিন্ন দুই জাতীয় দল; একজন মায়ের দেশ ফ্রান্স, অন্যজন বাবার দেশ আইভরি কোস্ট।

ঘটনাটি অনেকটাই মিলে যায় জেরোমি বোয়াটেং ও কেভিন-প্রিন্স বোয়াটেং ভাইদের গল্পের সঙ্গে। তবে পার্থক্য হলো, বোয়াটেং ভাইরা ছিলেন সৎ ভাই এবং বেড়েও উঠেছিলেন আলাদা পরিবেশে। অন্যদিকে দুয়ে ভাইরা ছোটবেলা থেকেই একসঙ্গে বেড়ে উঠেছেন এবং তাদের সম্পর্কও অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ।
বড় ভাই গেলা দুয়ের জন্ম ১৭ অক্টোবর ২০০২ সালে, আর ছোট ভাই দেজিরে দুয়ের জন্ম ৩ জুন ২০০৫ সালে। দুজনই স্তাদে রেনেঁর একাডেমি থেকে উঠে এসেছেন এবং এক সময় একই দলে খেলেছেনও। মজার বিষয় হলো, বড় ভাই গেলার আগে মাত্র ১৬ বছর বয়সে দেজিরের রেনের হয়ে অভিষেক হয়।
ফুটবল যেন দুয়ে পরিবারের রক্তেই মিশে আছে। তাদের কাজিন ইয়ান গবোহো বর্তমানে ফ্রান্সের আরেক বিখ্যাত ক্লাব তুলুসে খেলেন। আরেক কাজিন মার্ক-অলিভিয়ের দুয়ে খেলেছেন স্পেনের ক্লাব সিডি কাস্তেওনের হয়ে। এছাড়া আরেক কাজিন এডি দুয়ে বর্তমানে পর্তুগালের এস্ত্রেলা দা আমাদোরার খেলোয়াড়। তাদের চাচা নুমঁদিয়ে দেজিরে দুয়ে আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশনের রেফারিং প্রধান এবং ২০১৪ বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালন করা প্রথম আইভরিয়ান রেফারি।
দুই ভাই ক্লাব পর্যায়ে প্রথমবার অফিসিয়াল ম্যাচে একসঙ্গে মাঠে নামেন ২০২৩ সালের ১৩ আগস্ট। ম্যাচটিতে রেনেঁ ৫-১ গোলে হারায় এফসি মেসকে। যদিও তখন খুব অল্প সময়ের জন্য তারা একসঙ্গে খেলেছিলেন। পরে ২০২৪ সালের শুরুতে দুজনকে প্রায়ই একই ম্যাচে দেখা যেত। কিন্তু মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে পিএসজি দেজিরেকে ৫ কোটি ইউরোতে দলে ভিড়িয়ে নেয়। একই ট্রান্সফার উইন্ডোতে গেলা যোগ দেন আরসি স্ট্রাসবুর্গে।
মায়ের কারণে দুই ভাইয়েরই ফ্রান্সের হয়ে খেলার সুযোগ ছিল, আবার বাবার সূত্রে আইভরি কোস্টের হয়েও খেলতে পারতেন। গেলা কোনো দ্বিধা না করে আইভরি কোস্টকে বেছে নেন এবং ২০২৪ সালের মার্চে বেনিনের বিপক্ষে অভিষেক হয় তার। এখন পর্যন্ত তিনি ১৯ ম্যাচ খেলে দুটি গোল করেছেন। এমনকি সবশেষ আফ্রিকা কাপ অব নেশনসেও খেলেছেন, যেখানে আইভরি কোস্ট কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেয়। ২০২৬ বিশ্বকাপে আইভরি কোস্টের গ্রুপে রয়েছে জার্মানি, ইকুয়েডর ও কুরাসাও।
অন্যদিকে দেজিরে দুয়ে তারকায় ঠাঁসা ফ্রান্স দলে তুলনামূলক কম সুযোগ পেয়েছেন। গত বছরের মার্চে দিদিয়ের দেশামের অধীনে তার অভিষেক হয়। মাত্র ছয় ম্যাচ খেলেই তিনি বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা করে নিয়েছেন। ফ্রান্সের গ্রুপে রয়েছে সেনেগাল, নরওয়ে ও ইরাক।
সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ফ্রান্স ও আইভরি কোস্ট মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। তখন হয়তো বিশ্ব ফুটবল দেখতে পারে সেই বিরল দৃশ্য, যখন দুই ভাই, দুই দেশের জার্সিতে, একে অপরের বিপক্ষে লড়বে।
আরআই/টিকে