© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

দীর্ঘ ব্ল্যাকআউটের পর ইরানে ফের ইন্টারনেট চালুর সিদ্ধান্ত

শেয়ার করুন:
দীর্ঘ ব্ল্যাকআউটের পর ইরানে ফের ইন্টারনেট চালুর সিদ্ধান্ত

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০১:২৩ এএম | ২৬ মে, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার পর দেশজুড়ে জারি করা দীর্ঘ তিন মাসের ইন্টারনেট ব্ল‍্যাকআউট বা অচলাবস্থা অবসানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান সরকার। সাইবার স্পেস নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত সরকারি কমিটির একাধিক বৈঠক এবং দেশী-বিদেশি মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তীব্র সমালোচনার মুখে সোমবার (২৫ মে) ইন্টারনেট পরিষেবা পুনর্বহালের এই অনুমোদন দেওয়া হয়।

ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি'র বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল দেশব্যাপী ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দিয়েছিল। সম্প্রতি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছালেও সাধারণ নাগরিকদের জন্য ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধই রাখা হয়েছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাইবার স্পেস নিয়ন্ত্রণ কমিটির চতুর্থ বৈঠকে ইন্টারনেট চালুর বিষয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কমিটির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, দেশব্যাপী ইন্টারনেট সংযোগ ফিরিয়ে দেওয়ার পক্ষে ৯ জন সদস্য ভোট দেন, বিপরীতে ৩ জন সদস্য এর বিরোধিতা করেন। সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতেই শেষ পর্যন্ত প্রস্তাবটি পাস হয়।

ইরানের যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের চূড়ান্ত অনুমোদনের পরপরই এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে।

দীর্ঘদিন ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় এমনিতেই বিপর্যস্ত ইরানের অর্থনীতি আরও গভীর সংকটে পড়ে। বিশেষ করে ফ্রিল্যান্সার, তথ্যপ্রযুক্তি খাতের কর্মী এবং অনলাইননির্ভর ব্যবসার সাথে জড়িত লাখ লাখ মানুষ জীবিকা হারিয়ে চরম বিপাকে পড়েন।

যদিও ইরান সরকার বারবার দাবি করে আসছিল যে এই ব্ল‍্যাকআউটের পেছনে তাদের কোনো হাত নেই এবং তারা দ্রুতই সংযোগ সচল করতে চায়। তবে মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে রক্ষণশীল কট্টরপন্থীদের চাপের মুখে সরকার সাইবার স্পেস রেগুলেশন কমিটি গঠন করতে বাধ্য হয়। মোহাম্মদ রেজা আরিফকে এই কমিটির চেয়ারম্যান এবং যোগাযোগ মন্ত্রী সাত্তার হাশেমীকে এর সেক্রেটারি করা হয়। পাশাপাশি দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন সাইবার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপককেও কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

স্থানীয় গণমাধ্যম এতেমাদ-এর রিপোর্টে বলা হয়েছে, মূলত কোন কোন মহল বা সংস্থা দেশে ইন্টারনেট নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখতে চাচ্ছিল, তা চিহ্ণিত করার জটিলতার কারণেই এই সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব হয়েছে।

গত জানুয়ারি মাসে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় প্রথম দফায় ইরানে ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়। পরবর্তীতে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে সংযোগ দেওয়া হলেও, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলার পর তা পুরোপুরি ব্ল‍্যাকআউট করে দেওয়া হয়। এই সময়ে সাধারণ ইরানিরা চড়া মূল্যে বিভিন্ন ভিপিএন ব্যবহার করে কোনোমতে বাইরের বিশ্বের সাথে যুক্ত থাকার চেষ্টা করছিলেন।

সূত্র: দ্য নিউ আরব

এসকে/টিকে

মন্তব্য করুন