‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখর আরাফাত ময়দান
ছবি: সংগৃহীত
১১:৫৬ এএম | ২৬ মে, ২০২৬
‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠেছে আরাফাতের ময়দান। ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের জন্য হজের সবচেয়ে পবিত্র ও আধ্যাত্মিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ পর্ব ‘উকুফে আরাফা’ (আরাফার খুতবা) পালনে মঙ্গলবার (২৬ মে) ময়দানে সমবেত হয়েছেন ১৬ লাখের বেশি হাজি।গভীর ভক্তি, দোয়া ও ইবাদতের আবহে তারা এদিন আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করবেন।
সৌদি প্রেস এজেন্সি আরব নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জিলহজ মাসের নবম দিন ভোর থেকে হাজিরা আরাফাতের ময়দানে প্রবেশ করতে থাকেন। সূর্যাস্ত পর্যন্ত পবিত্র স্থানের নির্ধারিত সীমানার মধ্যে থেকে তারা ইবাদত, কোরআন তিলাওয়াত, আল্লাহর জিকির ও দোয়ায় সময় কাটান।ইসলামী ঐতিহ্যে আরাফাতে অবস্থানকে হজের চূড়ান্ত ও কেন্দ্রীয় পর্ব হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই অবস্থান উকুফে আরাফা নামে পরিচিত।
মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘হজ মানেই আরাফা’, যা এই সমাবেশের অপরিহার্যতা তুলে ধরে।
আলেমরা দিনটিকে ইসলামী বর্ষপঞ্জির অন্যতম পবিত্র দিন হিসেবে বর্ণনা করেন। তাদের মতে, এটি রহমত, ক্ষমা ও আত্মশুদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত একটি মুহূর্ত।
আরাফার দিন মুসলিমদের শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর বিদায় হজের স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত। এ ছাড়া, ইসলামী ঐতিহ্য অনুযায়ী, স্থানটি পৃথিবীতে আদম ও হাওয়ার পুনর্মিলনের ঘটনার সঙ্গেও যুক্ত। এ কারণে আরাফাত বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের কাছে গভীর প্রতীকী তাৎপর্য বহন করে।
৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে তিনি আরাফাত পর্বতে জীবদ্দশার শেষ ভাষণ দেন, যেখানে ন্যায়বিচার, সমতা এবং জীবন ও সম্পদের পবিত্রতার নীতিগুলো তুলে ধরা হয়।
সেই প্রচলন মেনে এরপর থেকে প্রতি আরাফার দিন দুপুরে হাজিদের উদ্দেশে আরাফার খুতবা দেওয়া হয়। এতে দিনের মর্যাদা নিয়ে ধর্মীয় দিকনির্দেশনা ও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়। এরপর হাজিরা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর সুন্নাহ অনুযায়ী জোহর ও আসরের নামাজ একসঙ্গে এবং সংক্ষিপ্তভাবে আদায় করেন।
মক্কা থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত আরাফাত একটি খোলা সমতলভূমি। সেখানে জাবালে রহমত বা রহমতের পাহাড় প্রধান স্থাপত্যিক বৈশিষ্ট্য হিসেবে পরিচিত। অধিকাংশ হাজি সেখানে দোয়া ও ভাবনায় মগ্ন হন।
আরাফাতে যাত্রার আগে হাজিরা সোমবার (২৫ মে) মিনায় তারবিয়ার দিন কাটান। সেখানে তারা হজের সবচেয়ে কঠিন পর্বের জন্য আধ্যাত্মিক ও শারীরিক প্রস্তুতি নেন।
আরব নিউজের খবরে বলা হয়, পবিত্র স্থানগুলোতে হাজিদের চলাচল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি কর্তৃপক্ষ সব ধরনের প্রস্তুতি রেখেছে।জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, চিকিৎসা সেবা, পরিবহন নেটওয়ার্ক এবং জরুরি সাড়া ইউনিট এই নিরাপত্তা বলয়ের মূল ভিত্তি।
মক্কায় এ সময় তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ায় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থা নিয়েছে। সৌদি আরবের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হজযাত্রীদের সূর্যের তাপ থেকে সুরক্ষায় সঠিকভাবে ছাতা ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছে। সেইসঙ্গে হাজিদের পর্যাপ্ত পানি পান করতে এবং দীর্ঘ সময় সরাসরি রোদের মধ্যে না থাকতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সূর্যাস্তের পর হাজিরা আরাফাত ছেড়ে মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে তারা একসঙ্গে ও সংক্ষিপ্তভাবে মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করবেন। এরপরদিন শয়তানকে প্রতীকী পাথর নিক্ষেপের আনুষ্ঠানিকতা শেষে কোরবানির মাধ্যমে হজ শেষ করবেন।
এমআর/টিকে