মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র আর নিরাপদ আশ্রয় পাবে না : মোজতবা খামেনি
ছবি: সংগৃহীত
০৪:২২ পিএম | ২৬ মে, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মধ্যপ্রাচ্য ষড়যন্ত্র পরিচালনা কিংবা সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে অবশিষ্ট থাকবে না এবং দেশটি প্রতিদিনই তার আগের অবস্থান থেকে আরও দূরে সরে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।
মঙ্গলবার (২৬ মে) হজ উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, এই অঞ্চল ঘাঁটিগুলোর জন্য ঢাল হিসেবে কাজ করবে না এবং যুক্তরাষ্ট্রও আর নিরাপদ আশ্রয় পাবে না। মুসলিম দেশগুলো এমন এক ঐতিহাসিক পর্যায়ে প্রবেশ করছে, যেখানে আঞ্চলিক বাস্তবতা অপরিবর্তনীয়ভাবে বদলে যাচ্ছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রভাব ক্রমাগত কমে আসছে।
বার্তায় তিনি আঞ্চলিক প্রতিরোধ অক্ষের ভূমিকাকে বিশেষভাবে তুলে ধরেন। খামেনি বলেন, আগামীর ভবিষ্যৎ মুসলিম উম্মাহর এবং নতুন ইসলামী সভ্যতার। ইরান, লেবানন, ফিলিস্তিন, ইরাক, সিরিয়া, আফ্রিকা, ইয়েমেন, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানজুড়ে বিস্তৃত এই প্রতিরোধ শক্তি একটি ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।
এদিকে গত এপ্রিল থেকে আরোপিত যুদ্ধবিরতিকে উপেক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্র গতকাল ইরানের ওপর রাতভর হামলা চালিয়েছে। যুদ্ধ শেষ করার সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার জন্য ইরানের শীর্ষ আলোচক ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি কাতারে থাকাকালীন এই হামলাগুলো চালানো হয়।
দক্ষিণ ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন হামলায় ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)’র ৪ সদস্যের নিহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (২৬ মে) ইরান থেকে প্রাপ্ত অসমর্থিত সূত্রের বরাতে টাইমস অব ইসরায়েল বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
সেন্টকম হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছে, তারা নিজেদের বাহিনীকে রক্ষা করতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে। এটি একটি প্রতিরক্ষামূলক অভিযান ছিল বলে দাবি করে সংস্থাটি। দক্ষিণ ইরানে মাইন বসানোর কাজে ব্যবহৃত নৌযান এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণস্থলসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধবিরতি নিয়ে চলমান আলোচনার মধ্যেই এই হামলার ঘটনাটি ঘটল।
সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান
এবি/টিএ