© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

মার্কিন যুগ শেষ, ভবিষ্যৎ মুসলিম উম্মাহর: মোজতবা খামেনি

শেয়ার করুন:
মার্কিন যুগ শেষ, ভবিষ্যৎ মুসলিম উম্মাহর: মোজতবা খামেনি

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১০:১৯ পিএম | ২৬ মে, ২০২৬
মার্কিন আধিপত্যের বাইরে গিয়ে একটি নতুন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য মুসলিম দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামি বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ মোজতব খামেনি।

মঙ্গলবার (২৬ মে) এক বার্তায় আয়াতুল্লাহ খামেনি লিখেছেন, বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ এবং এই অঞ্চলের দেশগুলোর অনেক যৌথ সক্ষমতা ও অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে, যা এই অঞ্চল ও বিশ্বের নতুন ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যৎ কাঠামো গঠন করবে।

পবিত্র হজ পালনের দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ পবিত্র আরাফাহ দিবস উপলক্ষে দেওয়া এই বার্তায় বলা হয়েছে, মুসলিম দেশগুলো এমন এক ঐতিহাসিক পর্যায়ে প্রবেশ করছে যেখানে আঞ্চলিক বাস্তবতা অপরিবর্তনীয়ভাবে বদলে যাচ্ছে এবং মার্কিন সামরিক প্রভাব ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে।

তিনি আরও যোগ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে তাদের অপতৎপরতা চালানো এবং সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের জন্য আর কোনো নিরাপদ আশ্রয় পাবে না এবং দিন দিন তারা তাদের অতীত অবস্থান থেকে আরও দূরে সরে যাচ্ছে। তিনি দৃঢ়তার সাথে জানান, ভবিষ্যৎ মুসলিম উম্মাহ এবং নতুন ইসলামি সভ্যতার।

বার্তায় আঞ্চলিক প্রতিরোধ ফ্রন্ট (রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট)-এর ভূমিকার ওপর আলোকপাত করে এটিকে একটি ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা ইরান থেকে লেবানন ও ফিলিস্তিন এবং ইরাক ও সিরিয়া, আফ্রিকা ও ইয়েমেন থেকে শুরু করে আফগানিস্তান ও পাকিস্তান পর্যন্ত বিস্তৃত।
কীভাবে এই বাহিনীগুলো মার্কিন প্রভাবের মোকাবিলা করেছে, ইসরাইলি দখলদারিত্বকে চ্যালেঞ্জ করেছে এবং দায়েশ (আইএস) তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই করেছে- তা এই বার্তায় বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে, আয়াতুল্লাহ খামেনি ইসরাইলি শাসকগোষ্ঠীকে একটি ক্যান্সারের টিউমার এবং একটি অস্থিতিশীল শাসকগোষ্ঠী হিসেবে চিহ্ণিত করেছেন, যা তার অভিশপ্ত জীবনের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। এতে ইসলামি বিপ্লবের শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলী খামেনির একটি পূর্বাভাসেরও পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে, যিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে এই শাসকগোষ্ঠী আগামী ২৫ বছরও টিকবে না।

বার্তার অন্য অংশে, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি শাসকগোষ্ঠীর সাম্প্রতিক উস্কানিবিহীন আগ্রাসনের সময় তাদের ওপর ইরানের নির্ণায়ক আঘাতের প্রশংসা করেন সর্বোচ্চ নেতা।

বার্তায় বলা হয়, ইসলামি প্রজাতন্ত্র তার প্রবল আঘাতেই ইহুদিবাদী শাসকগোষ্ঠীকে অসহায় করে তুলতে, আগ্রাসী আমেরিকাকে কড়া চড় মারতে এবং ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার শত্রুর লক্ষ্য নস্যাৎ করতে সফল হয়েছে।

আয়াতুল্লাহ খামেনি ইরানি সশস্ত্র বাহিনী এবং বিশেষ করে লেবাননের মিত্র প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর প্রশংসা করেন, যারা সম্পূর্ণরূপে সজ্জিত আমেরিকান-জায়নবাদী সন্ত্রাসী বাহিনীর চালানো আগ্রাসনের মুখে অসাধারণ বিজয় অর্জন করেছে।

বার্তায় বারা'আত বা শত্রু ও নিপীড়কদের বর্জনের ধারণার ওপর জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, এই নীতি কেবল হজের আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনেও এর বিস্তৃতি রয়েছে।

কেএন/টিকে

মন্তব্য করুন