আরাফাতের খুতবায় মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, সংযম ও হজের মর্যাদা রক্ষার আহ্বান
ছবি: সংগৃহীত
১১:৫৮ এএম | ২৭ মে, ২০২৬
পবিত্র হজ ইসলামের একটি অনন্য মৌলিক স্তম্ভ, যার মূল ভিত্তি হলো একত্ববাদ ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আনুগত্য। একই সঙ্গে এই পবিত্র মহাসমাবেশ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ, জাতি ও সংস্কৃতির মুসলমানদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি, সহযোগিতা এবং মজবুত ঐক্য গড়ে তোলার একটি প্রধান মাধ্যম।
মঙ্গলবার (২৬ মে) পবিত্র আরাফাতের ময়দানে অবস্থিত ঐতিহাসিক নামিরাহ মসজিদে হজের খুতবা দেওয়ার সময় এই কথা বলেন মসজিদে নববীর সম্মানিত ইমাম ও খতিব শায়খ আলী বিন আব্দুর রহমান আল-হুদাইফি। সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) বরাত দিয়ে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
হজের পবিত্রতা ও আধ্যাত্মিক আবহ বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে খুতবায় শায়খ আলী আল-হুদাইফি বলেন, ‘সঠিকভাবে হজ পালনের জন্য উত্তম আচরণ ও সত্যবাদিতা অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে হজের মতো পবিত্র ইবাদতকে সব ধরনের পাপ কাজ, পারস্পরিক বিরোধ এবং যেকোনো ধরনের দলীয় বা রাজনৈতিক স্লোগান থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত রাখতে হবে।’
খুতবায় তিনি ইসলামের মূল স্তম্ভসমূহ এবং মানবজীবনে আল্লাহভীতি বা তাকওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন। একই সঙ্গে মুমিনদের জন্য আল্লাহর সাহায্য লাভের অমোঘ বিধান নিয়ে আলোচনা করেন।
খুতবায় হাজিদের উদ্দেশ্যে হজের পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতার ধাপগুলো স্মরণ করিয়ে দেন খতিব। বিশেষ করে লাখ লাখ মানুষের এই সমাবেশে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে, অতিরিক্ত ভিড় এড়িয়ে চলতে এবং জননিরাপত্তা রক্ষার্থে সৌদি কর্তৃপক্ষের ভিড় ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সকল নিয়মকানুন কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য তিনি হাজিদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান।
খুতবার শেষ অংশে শায়খ আল-হুদাইফি মহান আল্লাহর দরবারে সমবেত হাজিদের হজের সমস্ত আচার-অনুষ্ঠান কবুল হওয়ার জন্য বিশেষ মোনাজাত করেন। একই সঙ্গে তিনি সমগ্র মুসলিম বিশ্বের ঐক্য, সমৃদ্ধি এবং পবিত্র দুই মসজিদের (হারামাইন শরিফাইন) নিরবচ্ছিন্ন সেবায় নিয়োজিত সৌদি আরবের নেতৃত্বের কল্যাণ কামনা করে দোয়া করেন।
ঐতিহাসিক এই খুতবা সমাপ্ত হওয়ার পর আল্লাহর সুন্নাহ অনুসরণ করে ময়দানে উপস্থিত হাজিরা জোহর ও আসরের নামাজ একসঙ্গে এবং সংক্ষিপ্ত আকারে (কসর) আদায় করেন।
এ সময় নামিরাহ মসজিদে সাধারণ হাজিদের পাশাপাশি মক্কার ডেপুটি গভর্নর প্রিন্স সৌদ বিন মিশআল, সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি শেখ সালেহ আল-ফাওজান, ইসলাম বিষয়ক মন্ত্রী শেখ আবদুল লতিফ আল-আশশাইখ এবং পবিত্র দুই মসজিদের ধর্ম বিষয়ক সভাপতি শেখ আবদুল রহমান আল-সুদাইসসহ উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কেএন/টিকে