© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

এক বিশ্বকাপ ফাইনালে দুই বল!

শেয়ার করুন:
এক বিশ্বকাপ ফাইনালে দুই বল!

ছবি: সংগৃহীত

মোঃ তারিক কায়সার বাপ্পী
১২:৪৫ পিএম | ২৭ মে, ২০২৬
১৯৩০ সালের ৩০ জুলাই। উরুগুয়ের রাজধানী মন্টেভিডিওর এস্তাদিও সেন্টেনারিও স্টেডিয়ামে বসেছিল ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এক লড়াই। প্রথমবারের মতো আয়োজিত বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিবেশী উরুগুয়ে ও আর্জেন্টিনা।

সেই সময় ফুটবল বিশ্বে দুর্দান্ত এক শক্তিতে পরিণত হয়েছিল উরুগুয়ে। ১৯২৪ ও ১৯২৮ সালের অলিম্পিকে টানা দুটি স্বর্ণপদক জিতে তারা পার করছিল নিজেদের সোনালি সময়। অন্যদিকে আর্জেন্টিনাও ছিল দারুণ ছন্দে। ১৯২৭ ও ১৯২৯ সালের দক্ষিণ আমেরিকা শ্রেষ্ঠত্বের আসর জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে তারা নেমেছিল বিশ্বকাপের মঞ্চে। তবে ১৯২৮ সালের অলিম্পিকের ফাইনালে উরুগুয়ের কাছে হারার কষ্ট তখনও ভুলতে পারেনি আর্জেন্টিনা। তাই প্রথম বিশ্বকাপের ফাইনাল তাদের কাছে ছিল প্রতিশোধ নেওয়ার বড় সুযোগ।

কিন্তু খেলা শুরুর আগেই তৈরি হয় এক অদ্ভুত পরিস্থিতি। কোন বল দিয়ে ম্যাচ হবে, তা নিয়েই একমত হতে পারছিল না দুই দল। আর্জেন্টিনা চেয়েছিল নিজেদের আনা বল দিয়ে পুরো ম্যাচ খেলতে। স্বাগতিক উরুগুয়েও নিজেদের বল ব্যবহারের দাবিতে অনড় ছিল।

শেষ পর্যন্ত বেলজিয়ামের রেফারি জঁ ল্যাঙ্গেনাস এক অভিনব সিদ্ধান্ত নেন। তিনি ঠিক করেন, প্রথমার্ধ হবে আর্জেন্টিনার বল দিয়ে আর দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবহার করা হবে উরুগুয়ের বল।

ম্যাচের শুরুতেই নিজেদের পরিচিত বলের সুবিধা কাজে লাগায় আর্জেন্টিনা। আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে প্রথমার্ধ শেষ করে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে। মনে হচ্ছিল, প্রতিশোধের মিশন বুঝি সফল হতে চলেছে।

কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে যখন মাঠে আসে উরুগুয়ের বল, তখন যেন বদলে যায় পুরো ম্যাচের গল্প। নিজেদের পরিচিত বলে স্বাগতিকরা ফিরে পায় আত্মবিশ্বাস ও গতি। একের পর এক আক্রমণে চাপে পড়ে যায় আর্জেন্টিনা।

পেদ্রো সেয়া সমতা ফেরানোর পর ভিক্টোরিয়ানো সান্তোস ইরিয়ার্তে এগিয়ে নেন উরুগুয়েকে। শেষ মুহূর্তে হেক্টর কাস্ত্রোর গোলে নিশ্চিত হয় জয়। ৪-২ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে ফুটবল ইতিহাসের প্রথম বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে উরুগুয়ে।

বিশ্বকাপের সেই প্রথম ফাইনাল শুধু একটি ম্যাচ ছিল না, ছিল নাটক, প্রতিদ্বন্দ্বিতা আর ইতিহাস তৈরির এক অনন্য গল্প। আর সেই গল্পের সবচেয়ে বিস্ময়কর অধ্যায় হয়ে আছে দুই অর্ধে দুই দেশের বল ব্যবহারের ঘটনা।

টিকে/

মন্তব্য করুন