© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

সরকারের ১০০ দিনঅর্থনৈতিক চাপ, বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেও সরকার জনমুখী উদ্যোগ নিয়েছে

শেয়ার করুন:
অর্থনৈতিক চাপ, বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেও সরকার জনমুখী উদ্যোগ নিয়েছে

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৪:৪৩ পিএম | ২৭ মে, ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম ১০০ দিন পার করেছে। সেই সময়ে মূলত দিকনির্ধারণ, প্রশাসনিক পুনর্গঠন এবং জনগণের আস্থা পুনর্গঠনের সময়। অর্থনৈতিক চাপ, বৈশ্বিক অস্থিরতা, জ্বালানি সংকট, কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতা এবং দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার মধ্যেও সরকার দ্রুত কিছু নীতিগত ও জনমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। 

সরকারের এই অগ্রযাত্রার উল্লেখযোগ্য অর্জন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম ও গৃহীত উদ্যোগ তুলে ধরে বুধবার (২৭ মে) সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে একটি ই-বুক প্রকাশ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে প্রকাশিত এই ই-বুকটি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিয়মিত হালনাগাদ করা হবে।

প্রকাশিত ই-বুকে বলা হয়, এই সময়ে সরকারের কার্যক্রমে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় সরাসরি প্রভাব ফেলে এমন সামাজিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা, প্রশাসনিক ও বিচারব্যবস্থায় ডিজিটাল ও কাঠামোগত সংস্কার এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত পরিকল্পনা।

এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে- ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, কৃষিঋণ মওকুফ, স্পোর্টস কার্ড, ই-হেলথ কার্ড, ডিজিটাল ভূমিসেবা, ই-বেইলবন্ড, খাল পুনঃখনন, ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় গুরুদের আর্থিক সম্মানী প্রদান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং শিক্ষা ও তরুণদের জন্য নতুন কর্মসূচি।

একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কিছু ব্যক্তিগত ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত সরকারের রাজনৈতিক বার্তাকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে। যেমন- রাষ্ট্রীয় প্রটোকল সীমিত রাখা, সরকারি ব্যয়ে সংযম, মাঠপর্যায়ের সমস্যা দ্রুত সমাধানের নির্দেশ এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা।

ই-বুকে আরও বলা হয়, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি নিরাপত্তা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার বাস্তবায়ন করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। তবুও প্রথম ১০০ দিনে সরকার একটি সক্রিয়, দ্রুত সিদ্ধান্তগ্রহণকারী এবং জনমুখী প্রশাসনের ইঙ্গিত দেওয়ার চেষ্টা করেছে।

এছাড়াও অনেক কর্মসূচি এখনো প্রাথমিক বাস্তবায়ন পর্যায়ে থাকলেও রাষ্ট্রকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর, জবাবদিহিমূলক এবং সেবামুখী করার অঙ্গীকার সামনে এনেছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের মতে, ‘নির্বাচনী মঞ্চে দেওয়া প্রতিশ্রুতি সাধারণত রাজনৈতিক ভাষণের অংশ হয়ে থাকে। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর সেই প্রতিশ্রুতিকে বাস্তব কর্মপরিকল্পনায় রূপ দেওয়ার মাধ্যমেই নেতৃত্বের মূল্যায়ন হয়। বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী অঙ্গীকার এবং তা দ্রুত বাস্তবায়নে তার প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক নির্দেশনা ও পদক্ষেপ এখন জাতীয় আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে।’

ই-বুকে উল্লেখ করা হয়, ‘গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বর্তমান সরকার বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকট, বিনিয়োগের স্থবিরতা, কর্মসংস্থানের ঘাটতি এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার মতো একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়।’

তবে প্রথম ১০০ দিনে নীতিনির্ধারণে দ্রুততা, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত, প্রশাসনিক কার্যক্রমে শৃঙ্খলা এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান পুনরুদ্ধারের ইতিবাচক প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশে এই প্রথম কোনো সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গেই দেশজুড়ে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। কারণ, এ সরকার বিশ্বাস করে দেশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে কাজ করাই নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রধান দায়িত্ব।

আরআই/টিকে

মন্তব্য করুন