মালদ্বীপে উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে উদযাপিত ঈদুল আজহা
ছবি: সংগৃহীত
০৫:০৫ পিএম | ২৭ মে, ২০২৬
বিশ্বের অন্যতম পর্যটন গন্তব্য ও শতভাগ মুসলিম অধ্যুষিত দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, আনন্দ-উৎসব ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদের এ আনন্দঘন আয়োজনে অংশ নিয়েছেন দেশটিতে বসবাসরত হাজারো প্রবাসী বাংলাদেশিও।
বুধবার (২৭ মে) স্থানীয় সময় সকাল ৭টা থেকে রাজধানী মালে-সহ দেশটির বিভিন্ন দ্বীপে অবস্থিত মসজিদগুলোতে ঈদের একাধিক জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
রাজধানী মালে এবং পার্শ্ববর্তী হুলোমালেতে অনুষ্ঠিত হয় ঈদের সবচেয়ে বড় জামাত। নামাজ শেষে মুসল্লিরা পরস্পরের সঙ্গে কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন।
ঈদের জামাতে স্থানীয়দের পাশাপাশি দেশটিতে অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের মুসলিমদের ছাড়াও প্রবাসী বাংলাদেশিদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। দেশীয় ঐতিহ্যের প্রতীক পায়জামা-পাঞ্জাবি পরে দলবদ্ধভাবে তারা ঈদের নামাজে অংশ নেন। প্রবাসে অবস্থান করেও দেশের সংস্কৃতি ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের প্রতি তাদের গভীর টান স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে ঈদের আয়োজনজুড়ে।
অন্যদিকে, ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মালদ্বীপিয়ানদের মধ্যেও ছিল উৎসবের আমেজ। নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের আলোকে বর্ণিল সাজে সেজে ওঠে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদ উদযাপনে ব্যস্ত সময় পার করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. নাজমুল ইসলাম প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এছাড়া, বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতারা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, চিকিৎসক সমাজ ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারাও প্রবাসীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
প্রবাসী বাংলাদেশিরা জানান, পরিবারের সদস্যদের ছেড়ে দূর প্রবাসে ঈদ উদযাপন করা কষ্টের হলেও জীবিকার প্রয়োজনে সেই বাস্তবতা মেনে নিয়েই তারা এগিয়ে চলেছেন। প্রিয়জনদের মুখে হাসি ফোটানো এবং পরিবারের সুখ-সমৃদ্ধি নিশ্চিত করাই তাদের প্রবাস জীবনের সবচেয়ে বড় প্রেরণা।
তাদের মতে, প্রবাসের ব্যস্ততা ও সংগ্রামের মাঝেও পরিবার এবং মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসাই তাদের শক্তি জোগায়। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে বিশ্বের মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আশায় পশু কোরবানি করে থাকেন। সেই ধারাবাহিকতায় মালদ্বীপে স্থানীয়ভাবে পশুর সংকট থাকলেও বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা ছাগল কোরবানি করেন স্থানীয়রা।
আরআই/টিকে