© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মামলা

শেয়ার করুন:
পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মামলা

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৫:১৫ পিএম | ২৭ মে, ২০২৬
পুলিশ শুরুতে এই ‘হাই-প্রোফাইল’ মামলাটি নিতে চায়নি বলে দাবি করেছেন ওই আইনজীবী। তিনি জানান, থানায় কয়েক দফা যোগাযোগের পর অবশেষে পুলিশ এফআইআর দায়ের করতে বাধ্য হয়।
ঈদ উপলক্ষে কলকাতার রেড রোডে আয়োজিত সমাবেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং উসকানিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গত ২০ মে শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেন রিংকি চট্টোপাধ্যায় সিং নামের এক আইনজীবী।

পুলিশ শুরুতে এই 'হাই-প্রোফাইল' মামলাটি নিতে চায়নি বলে দাবি করেছেন ওই আইনজীবী। তিনি জানান, থানায় কয়েক দফা যোগাযোগের পর অবশেষে পুলিশ এফআইআর দায়ের করতে বাধ্য হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৫১ (অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন), ৩৫২ (শান্তিভঙ্গের উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে অপমান), ৩৫৩ (ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর বিবৃতি ছড়ানো) এবং ২৯৯ (কোনো ধর্মীয় বিশ্বাস বা ভাবাবেগকে ইচ্ছাকৃত ও বিদ্বেষমূলকভাবে আঘাত করা) ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।

এ বিষয়ে শিলিগুড়ি পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর নিয়ম মেনেই শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, এফআইআরে যেসব বিষয়ের উল্লেখ রয়েছে, তার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তপ্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে।

অভিযোগপত্রে ওই আইনজীবী দাবি করেছেন, সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর দুটি মন্তব্যে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে। এর মধ্যে একটি মন্তব্য তিনি করেছিলেন ২০২৫ সালের ঈদের সময়। আর অপর মন্তব্যটি করেছিলেন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ধর্মতলার একটি ধর্নামঞ্চ থেকে।

মামলা দায়েরের পর বার্তা সংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইনজীবী রিংকি চট্টোপাধ্যায় বলেন, 'মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালে তিনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) হিজাব পরে রেড রোডে ঈদের নামাজে যোগ দিয়েছিলেন এবং পরে হিন্দুধর্মকে "নোংরা ধর্ম" বলে অভিহিত করেছিলেন।'

উল্লেখ্য, ওই বক্তব্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতিপক্ষকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, 'দেখুন রামকৃষ্ণ কী বলেছেন, বিবেকানন্দ কী বলেছেন? আমি রামকৃষ্ণের ধর্ম মানি, স্বামী বিবেকানন্দের ধর্ম মানি। কিন্তু আমি জেনে শুনে একটা নোংরা ধর্ম, যেটা এই জুমলা পার্টিরা বানিয়েছে, সেটা মানি না। ওটা হিন্দু ধর্ম বিরোধী।'

মূলত হিন্দিতে বক্তৃতা দেয়ার সময় তার ব্যবহৃত 'গন্দা ধর্ম' (নোংরা ধর্ম) শব্দটিই সে সময় বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। মামলা নেওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশের অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে ওই আইনজীবী বলেন, 'আমি যখন সাইবার শাখায় এফআইআর করতে যাই, তখন তা গ্রহণ করা হয়নি। আমি শারীরিক ও মানসিক হয়রানির শিকার হয়েছি এবং আমার অভিযোগ নথিভুক্ত না করে দিনের পর দিন ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল।'

রিংকি চট্টোপাধ্যায় আরও বলেন, 'পরে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ধর্মতলায় হিন্দু ভোটারদের হুমকি দিয়ে আরও বক্তব্য দেওয়া হয়েছিল। একজন হিন্দু এবং সমাজকর্মী হিসেবে আমার মনে হয়েছিল, আমি বিপদের মধ্যে আছি। আমি আক্রমণের ভয় পাচ্ছিলাম।'

তিনি বলেন, 'আমি উসকানি, সহিংসতায় প্ররোচনা এবং ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ দায়ের করেছিলাম। প্রথমে পুলিশ ব্যবস্থা নিতে অস্বীকার করলেও পরে আমার অভিযোগ গৃহীত হয় এবং ধারাগুলো প্রয়োগ করা হয়। আমি বিশ্বাস করি, বাকস্বাধীনতারও একটা সীমা আছে।'

সংবাদসংস্থা এএনআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আইনজীবী রিংকি বলেন, 'মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন উনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) হিজাব পরে রেড রোডে ইদের নমাজে যোগ দিয়েছিলেন এবং পরে হিন্দুধর্মকে গন্ধা ধর্ম বলে অভিহিত করেছিলেন। আমি যখন সাইবার শাখায় এফআইআর করতে যাই, তখন তা গ্রহণ করা হয়নি। আমি শারীরিক ও মানসিক হয়রানির শিকার হয়েছি এবং আমার অভিযোগ নথিভুক্ত না করে দিনের পর দিন ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল।'

তিনি আরও বলেন, 'পরে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ধর্মতলায় হিন্দু ভোটারদের হুমকি দিয়ে আরও বক্তব্য দেওয়া হয়েছিল। একজন হিন্দু এবং একজন সমাজকর্মী হিসেবে আমার মনে হয়েছিল যে আমি বিপদের মধ্যে পড়ে গিয়েছি। আক্রমণের ভয় পাচ্ছিলাম। আমি উস্কানি, হিংসায় প্ররোচনা এবং ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ দায়ের করেছিলাম। প্রথমে পুলিশ ব্যবস্থা নিতে অস্বীকার করলেও পরে আমার অভিযোগ গৃহীত হয় এবং ধারাগুলো প্রয়োগ করা হয়। আমি বিশ্বাস করি, বাকস্বাধীনতারও সীমা আছে।'

এবি/টিএ

মন্তব্য করুন