পশু কোরবানির সময় কাটছে হাত-পা, হাসপাতালে আহতদের ভিড়
ছবি: সংগৃহীত
০৪:২৯ পিএম | ২৮ মে, ২০২৬
ঈদুল আজহায় পশু কোরবানি ও মাংস কাটার সময় অসাবধানতায় গুরুতর আহত হয়েছেন অসংখ্য মানুষ। দুপুর পর্যন্ত কোরবানি দিতে গিয়ে দুই শতাধিক আহত রোগী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ করেছেন কিছু রোগী। তবে ঈদের দিনেও চিকিৎসকরা তৎপর রয়েছেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক।
রাজধানীর কেরানীগঞ্জে পশু কোরবানি দিতে গিয়ে হাতের আঙুল কেটে ফেলেছেন ইদ্রিস আলী। একইভাবে কোরবানির সময় গরুর লাথিতে ডান পা ভেঙেছে মেরাদিয়ার আকবর আলীর। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালে (পঙ্গু হাসপাতাল) নিয়ে আসেন স্বজনরা।
একই চিত্র দেখা গেছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে। সেখানে জরুরি বিভাগ ও অপারেশন থিয়েটারের সামনে ছিল রোগী ও স্বজনদের দীর্ঘ লাইন। কেউ রক্ত জোগাড়ে ব্যস্ত, কেউ ওষুধ কিনতে দৌড়াচ্ছেন। রোগী ও স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ।
পবিত্র ঈদুল আজহায় পশু কোরবানি দিতে গিয়ে এমন আহত হওয়ার ঘটনা নতুন নয়। প্রায় প্রতিবছরই অসাবধানতাবশত এ ধরনের অসংখ্য দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের কারও আঙুল কেটেছে, কারও পা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আবার গরুর লাথি ও শিংয়ের আঘাতে মারাত্মক আহত হয়েছেন অনেকে।
এদিকে ঢামেকে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগও করেছেন কেউ কেউ। স্বজনরা বলেন, রোগীর অবস্থা গুরুতর হলেও চিকিৎসা পেতে দেরি হয়েছে। এতে রোগীর অবস্থার অবনতি হয়।
হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা ও পরিচালক জানান, আহত রোগীদের চিকিৎসায় চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ তৎপর রয়েছেন। প্রাথমিক চিকিৎসার পাশাপাশি গুরুতর রোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
কর্তব্যরত এক চিকিৎসক বলেন, গরু কাটতে গিয়ে আঙুল কাটা, রগ কাটা রোগী আসছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বেশিরভাগ রোগীকে ছাড় দেয়া যাচ্ছে, তবে প্রায় ২৯ জন রোগীকে ভর্তি করা হয়েছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, একাধিক চিকিৎসক এবং বিভিন্ন সেগমেন্টে অর্থোপেডিক ক্যাজুয়ালটি আলাদা ডেস্ক হিসেবে কাজ করছেন। ঈদের ছুটিতেও হাসপাতালে রোগীর চিকিৎসায় অবহেলার কোনো সুযোগ নেই। গুরুতর আহতদের অস্ত্রোপচারের পাশাপাশি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
এসএন