ফিক্সিংকে ফৌজদারি অপরাধ ঘোষণায় সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবে বিসিবি
ছবি: সংগৃহীত
০৭:৩৩ পিএম | ২৮ মে, ২০২৬
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অ্যাড-হক কমিটির সদস্য সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ বলেছেন, প্রয়োজনে ম্যাচ ফিক্সিংকে ফৌজদারি অপরাধ (ক্রিমিনাল অফেন্স) হিসেবে ঘোষণা করা যায় কি না, সে বিষয়ে বোর্ড সরকাররের সঙ্গে আলোচনা করবে।
বুধবার (২৭ মে) ক্রিকবাজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাঈদ ইব্রাহিম বলেন, ফিক্সিংয়ের বিষয়ে বোর্ডের 'জিরো টলারেন্স' নীতি রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) ফিক্সিংয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে খেলোয়াড় ও সংগঠকদের নিষিদ্ধ করার ঘটনাকে তিনি সেই কঠোর অবস্থানেরই অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, এটি সবার জন্য একটি সতর্কবার্তা হওয়া উচিত।
সম্প্রতি বিসিবি কিছু খেলোয়াড় ও ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের বিরুদ্ধে আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী নীতি অনুযায়ী অভিযোগ এনেছে।
ইব্রাহিম ক্রিকবাজকে বলেন, 'যদি ফিক্সিংকে সিভিল অপরাধ থেকে ক্রিমিনাল অপরাধে রূপান্তর করা হয়, তাহলে মানুষ অবশ্যই এমন কাজ করার আগে আরও সতর্ক হবে।'
তিনি আরও জানান, বোর্ড ইতোমধ্যে পাঁচজন ব্যক্তিকে ফিক্সিং কেলেঙ্কারির ঘটনায় নোটিশ দিয়েছে, যা তাদের অ্যান্টি করাপশন ইউনিটের রিপোর্টের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, 'আমি আশা করি এটি সবার জন্য একটি সতর্কবার্তা হবে। আমাদের লক্ষ্য খেলাধুলাকে স্বচ্ছ রাখা। প্রয়োজনে আমরা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ফিক্সিংকে অপরাধ হিসেবে ঘোষণার উদ্যোগ নিতে পারি।'

বিসিবির ইন্টেগ্রেটি ইউনিটের আইন উপদেষ্টা মাহিন এম রহমান জানান, তারা ঈদের ছুটির পর এই প্রক্রিয়া শুরু করার পরিকল্পনা করছেন, কারণ বর্তমানে সংসদ কার্যকর রয়েছে। তিনি বলেন, প্রথমে আইন কমিশনের মাধ্যমে খসড়া তৈরি হবে, এরপর আইন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের মাধ্যমে তা এগোবে।
তিনি আরও বলেন, 'আমার জানা মতে এই বিষয়ে একটি আইন খসড়া করা হচ্ছে। ঈদের পর আমি সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করব। ম্যাচ ফিক্সিংকে দেশের আইনে অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।'
তার মতে, শ্রীলঙ্কাসহ বেশ কয়েকটি দেশে ইতোমধ্যে এটি অপরাধ হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে এবং বিশেষভাবে ক্রিকেটকে লক্ষ্য করেই আলাদা আইন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে এমন একটি পৃথক আইন থাকতে পারে যা খেলাধুলায় দুর্নীতি ও ফিক্সিংকে সরাসরি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করবে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) ম্যাচ ফিক্সিং নতুন কিছু নয়। ২০১২ সালে শুরু হওয়া এই লিগে বিভিন্ন সময়ে স্পট ফিক্সিং ও ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগ উঠে এসেছে। ২০১৩ সালের আসরে ফিক্সিংয়ের দায়ে সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুলকে ৮ বছরের (এর মধ্যে ৩ বছর স্থগিত) নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এছাড়া ২০১৪ সালের বিপিএল মৌসুমও এক পর্যায়ে স্থগিত করতে হয়েছিল।
টিজে/টিএ