© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

বিক্রি না হওয়ায় নদীর পাড়ে ফেলে দেয়া হয়েছে কোরবানির পশুর চামড়া

শেয়ার করুন:
বিক্রি না হওয়ায় নদীর পাড়ে ফেলে দেয়া হয়েছে কোরবানির পশুর চামড়া

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১২:৪০ পিএম | ২৯ মে, ২০২৬
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় পবিত্র ঈদুল আজহায় কোরবানি হওয়া পশুর চামড়া বিক্রি না হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। কোনোভাবেই বিক্রি না হওয়ায় বাধ্য হয়ে চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে।

উপজেলার গাবুরা ইউনিয়ন থেকে আসা চামড়া শুক্রবার (২৯ মে) সকাল ১০টা পর্যন্ত উপকূলীয় প্রেসক্লাবের সামনে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। ঈদের দিন সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এতিমখানা-মাদরাসার লোকজন। কিন্তু দিনভর ঘুরেও আশানুরূপ ক্রেতা না পাওয়ায় অধিকাংশ চামড়া অবিক্রিত থেকে যায়। ছাগল, খাসি, গরুর চামড়ার কোনো ক্রেতা না থাকায় অনেকেই তা ফেলে দেন কিংবা মাটিতে পুঁতে ফেলেন।

স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার চামড়ার বাজার আরও খারাপ। আড়তদাররা কম দামে চামড়া কিনতে চাইলেও পরিবহন খরচ ও লবণের দাম বেড়ে যাওয়ায় তারা লোকসানের আশঙ্কায় চামড়া কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। ফলে সাধারণ মানুষ চরম হতাশায় পড়েছেন।

বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট জামে মসজিদের ইমাম ও বাগে জান্নাত হাফিজিয়া মাদ্রাসার খতিব হাফেজ রেজাউল করিম বলেন, সারাদিন ও সারারাত অপেক্ষা করেও কেউ চামড়া নিতে আসেনি। পরে দুর্গন্ধ ছড়ানোর ভয়ে মাটিতে পুঁতে ফেলতে হচ্ছে। গাবুরা চাঁদনীমূখা মাদ্রাসার সভাপতি আবুও একই অভিযোগ করেন।

স্থানীয় মাদ্রাসা ও এতিমখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিবছর কোরবানির চামড়া বিক্রির অর্থ দিয়ে শিক্ষার্থীদের খরচের একটি অংশ চালানো হয়। কিন্তু এবার চামড়ার দাম না থাকায় তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

এদিকে সরকার কাঁচা চামড়ার দাম নির্ধারণ করলেও মাঠপর্যায়ে তার বাস্তব প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত আড়ত না থাকায় চামড়ার বাজারে বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে।

শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জামান কনক বলেন, কোরবানির আগে এতিমখানার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছিল তারা চামড়াগুলো সংরক্ষণ করে রাখবেন। দুই-একদিন পরে এগুলো বিক্রি করার কথা। কিন্তু এভাবে নষ্ট করার কথা ছিল না। বিষয়টি আমি গুরুত্ব সহকারে দেখছি।

এসএন 

মন্তব্য করুন