© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ঢাবিকে ‘কোচিং সেন্টার’ বলায় ববি হাজ্জাজের বক্তব্যে সাদা দলের ক্ষোভ

শেয়ার করুন:
ঢাবিকে ‘কোচিং সেন্টার’ বলায় ববি হাজ্জাজের বক্তব্যে সাদা দলের ক্ষোভ

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৪:৪৬ পিএম | ২৯ মে, ২০২৬
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘কোচিং সেন্টার’-এর সঙ্গে তুলনা করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের দেওয়া বক্তব্যের তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল।

শুক্রবার (২৯ মে) সাদা দলের আহ্বায়ক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান, যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আবদুস সালাম এবং ড. মো. আবুল কালাম সরকার স্বাক্ষরিত এক যৌথ বিবৃতিতে সাদা দলের নেতারা বলেন, সম্প্রতি প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে যে “চরম অবমাননাকর ও দায়িত্বজ্ঞানহীন” মন্তব্য করেছেন, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তারা বলেন, গবেষণা ও প্রকাশনায় দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। টাইমস হায়ার এডুকেশন এশিয়া র‍্যাংকিং অনুযায়ীও এটি দেশের অন্যতম শীর্ষ গবেষণা প্রতিষ্ঠান।

বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান, কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধীনে প্রায় ৫৬টি সক্রিয় ও বিশেষায়িত গবেষণা ব্যুরো ও কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে উচ্চতর বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র (সিএআরএস) এবং সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র (সিএসএসআর) উল্লেখযোগ্য। প্রতি বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা স্কোপাস ও ওয়েব অব সায়েন্স ইনডেক্সড আন্তর্জাতিক জার্নালে অসংখ্য গবেষণাপত্র প্রকাশ করছেন বলেও উল্লেখ করা হয়।

সাদা দলের নেতারা দাবি করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রম সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী অসত্য তথ্যের ভিত্তিতে দুটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তুলনা করেছেন, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়; বরং স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম, বিকাশ ও রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত একটি প্রতিষ্ঠান। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক।

এ ছাড়া, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, নব্বইয়ের এরশাদবিরোধী আন্দোলন, ১/১১-পরবর্তী সময়ে অগণতান্ত্রিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ এবং ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দিয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

সাদা দল আরও বলে, বাঙালির কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার অন্যতম ধারক হিসেবে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের ঐতিহ্যের অগ্রভাগেও রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। সীমিত বাজেট ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও শিক্ষা ও গবেষণায় বিশ্ববিদ্যালয়টির অবদান বিশ্বব্যাপী সমাদৃত।

বিবৃতিতে বলা হয়, “বাংলাদেশ মানেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।” এমন একটি ঐতিহ্যবাহী ও আবেগঘন প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে একজন দায়িত্বশীল প্রতিমন্ত্রীর মুখে “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হলো কোচিং সেন্টার” ধরনের মন্তব্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।

নেতারা আরও বলেন, এ ধরনের বক্তব্য কোনো সুস্থ ও ইতিহাস-সচেতন মানুষের বক্তব্য হতে পারে না; বরং এটি “অজ্ঞতাপ্রসূত প্রলাপ” বলেই প্রতীয়মান হয়েছে। একজন মন্ত্রীর কাছ থেকে এমন মন্তব্য বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার ও দেশবাসীকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, এ মন্তব্যের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাবেক শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবময় ইতিহাসকে চরমভাবে অপমান করা হয়েছে।

সাদা দল অবিলম্বে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলে, অন্যথায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান রক্ষায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।

এমআই/এসএন

মন্তব্য করুন