© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

অবসরে যাচ্ছেন পাকিস্তান ক্রিকেটের বিখ্যাত সমর্থক ‘জলিল চাচা’

শেয়ার করুন:
অবসরে যাচ্ছেন পাকিস্তান ক্রিকেটের বিখ্যাত সমর্থক ‘জলিল চাচা’

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৬:১৮ পিএম | ২৯ মে, ২০২৬
খেলোয়াড়দের তো একটা সময় অবসর নিতেই হয়। তবে সমর্থকদের অবসরে যাওয়ার খবর শোনা যায় না বললেই চলে।

কিন্তু সেই সমর্থক যদি হন একনিষ্ঠ কেউ, আনন্দ-বেদনার হাজারো স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে যায় তার নাম, তাহলে ব্যাপারটি হয়ে ওঠে গুরুত্বপূর্ণ।

জলিল চাচা তেমনই একজন। ৫৭ বছর ধরে গ্যালারি থেকে পাকিস্তান দলকে সমর্থন জানিয়ে বিখ্যাত হয়েছেন উঠেছেন তিনি। আসল নাম চৌধুরী আবদুল জলিল হলেও সবার কাছে তিনি জলিল চাচা নামে পরিচিত।

সেই মানুষটা এবার অবসরে যাচ্ছেন।

বিশ্বের নানা প্রান্তে পাকিস্তানের খেলা মানেই গ্যালারিতে তার সরব উপস্থিতি। শরীরে পাকিস্তানের পতাকার আদলে গাঢ় সবুজ কুর্তা, মাথায় টুপি, হাতে জাতীয় পতাকা—স্বতন্ত্র এই স্টাইলে গ্যালারি থেকে দলকে সমর্থন দিয়ে আসছেন তিনি যুগ যুগ ধরে। কিন্তু এই দৃশ্য আর বেশি দিন দেখা যাবে না।

আগামীকাল শুরু হবে পাকিস্তান-অস্ট্রেলিয়া ওয়ানডে সিরিজ। এই সিরিজের শেষ ম্যাচ দিয়ে দেশের মাঠে শেষবার গ্যালারিতে থাকবেন জলিল চাচা। আগামী আগস্ট-সেপ্টেম্বরে ইংল্যান্ড সফরে পাকিস্তানের টেস্ট সিরিজে শেষবার তাকে দেখা যাবে গ্যালারি থেকে পতাকা নাড়তে।

সেই ১৯৬৮-৬৯ মৌসুমে ইংল্যান্ডের পাকিস্তান সফরে লাহোরে একটি ম্যাচে প্রথমবার জলিল চাচা গ্যালারি থেকে খেলা দেখেন। এরপর সেটিই হয়ে ওঠে তার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

বিশ্বজুড়ে জলিল চাচা পরিচিতি পেতে শুরু করেন গত শতাব্দীর আশি ও নব্বইয়ের দশকে। শারজায় নিজের স্বতন্ত্র পোশাকে গ্যালারি থেকে সমর্থন জানিয়ে নজর কাড়েন সবার। ক্রমেই হয়ে ওঠেন তারকা সমর্থক ও ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে চেনা মুখগুলোর একজন।

তখনো পর্যন্ত জলিল চাচা সংযুক্ত আরব আমিরাতে চাকরি করতেন। এক পর্যায়ে চাকরি ছেড়ে দিয়ে পাকিস্তান দলের পূর্ণকালীন সমর্থক হয়ে যান। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে সহায়তা ছুটে গেছেন এক স্টেডিয়াম থেকে আরেক স্টেডিয়ামে।

এখন ৭৭ ছুঁই ছুঁই বয়সে সেই পথচলা থামিয়ে নিজ শহর শিয়ালকোটের উপকণ্ঠে একটি রেস্তোরাঁ ও জাদুঘর খোলার স্বপ্ন পূরণ করতে চান জলিল চাচা।



ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফোকে তিনি শুনিয়েছেন সেই স্বপ্নের কথা, ‘আমি বছরের পর বছর ধরে সংগ্রহ করা সব স্মৃতিচিহ্ন জাদুঘরে প্রদর্শন করব। আমার লক্ষ্য ছিল ৫০০ ম্যাচে পাকিস্তানকে সমর্থন করা, যা আমি অর্জন করেছি।’

তারকাদের জন্য গলা ফাটিয়ে জলিল চাচা নিজেই পাকিস্তানে হয়ে ওঠেন বড় তারকা। স্থানীয় বিভিন্ন ক্রিকেট ম্যাচ, টেপ টেনিস ক্রিকেট থেকে শুরু করে বিভিন্ন টুর্নামেন্টে, বিয়ের অনুষ্ঠান বা সামাজিক বিভিন্ন আয়োজনে তার উপস্থিতি থাকে প্রবলভাবে কাম্য। তিনি এখন এই সুযোগটি অন্যদের উপকারে ব্যবহার করতে চান।

জলিল চাচা এ ব্যাপারে বলেছেন, ‘খেলা এবং আমার দেশের প্রতি নিছক ভালোবাসার জন্য সবকিছু করেছি আমি। আমার লক্ষ্য ছিল দেশের একজন মহান দূত হওয়া এবং সব দলের সমর্থকদের খুশি করা। এখন অবসরের পর কিছু জনকল্যাণমূলক কাজ করার কথা ভাবছি।’

দর্শক হিসেবে স্মরণীয় দুটি ম্যাচের কথাও বলেছেন জলিল চাচা, ‘জাভেদ মিয়াঁদাদ যখন শেষ বলে চেতন শর্মাকে ছক্কা মেরেছিলেন (১৯৮৬ সালে শারজায়), আমি মাঠেই ছিলাম। স্পষ্ট মনে পড়ে মিয়াঁদাদ চেতনকে ডিপ মিডউইকেটের ওপর দিয়ে মেরেছিলেন। আমার জন্য আরেকটি স্মরণীয় ম্যাচ ছিল যখন আমরা ২০১৭ সালে ওভালে ভারতকে হারিয়েছিলাম (চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালে)।’

পাকিস্তান জাতীয় দল খুব বাজে সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ২০২৩ সালের পর থেকে দেশের বাইরে কোনো টেস্ট জিততে পারেনি তারা। বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বশেষ দুটি টেস্ট সিরিজে ধবলধোলাই হয়েছে। আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের গত চক্রে পয়েন্ট তালিকার তলানিতে ছিল এবং সাদা বলে সর্বশেষ চারটি আইসিসি টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বে উঠতে পারেনি।

জলিল চাচাও এতে হতাশ। তবে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা ছাড়ছেন না, ‘এ রকম হয়েই থাকে ভাই। পরাজয় খেলারই অংশ। কখনো আপনি প্রতিপক্ষের চেয়ে এগিয়ে থাকবেন, কখনো পিছিয়ে থাকবেন। এর মধ্যে সুখ-দুঃখের মুহূর্তও থাকে। কখনো তারা জিতবে, কখনো আমরা।’

টিজে/টিএ 

মন্তব্য করুন