পশ্চিমবঙ্গে মমতার ভাতিজা অভিষেকের ওপর হামলা, ডিম ও জুতা নিক্ষেপ
ছবি: সংগৃহীত
০৭:৪৭ পিএম | ৩০ মে, ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গে ভোট-পরবর্তী সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্তদের দেখতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাতিজা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
শনিবার (৩০ মে) চার চাকার গাড়ি থেকে নেমে মোটরসাইকেলে চড়ে সোনারপুরে যাওয়ার পথে এ হামলার ঘটনা ঘটে। উত্তেজিত জনতা তাকে লক্ষ্য করে ডিম ও জুতো নিক্ষেপ করে এবং এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারে। হামলায় তার পরনের শার্ট ছিঁড়ে যায় এবং চোখের চশমা ভেঙে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোনারপুরে নিহত এক তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে ঢোকার মুখে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ সময় তাকে লক্ষ্য করে 'চোর-চোর' স্লোগান দেওয়া হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ক্রিকেট খেলার হেলমেট মাথায় দিয়ে নিহত তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের বাড়ির দিকে এগোতে থাকেন এই তৃণমূল সংসদ সদস্য।
ঠিক তখনই উত্তেজিত জনতা তার ওপর চড়াও হয়। তাকে লক্ষ্য করে ডিম ও জুতো ছোড়া হয়। বিক্ষোভকারীদের টানাহেঁচড়ায় তার পরনের সাদা শার্ট ছিঁড়ে যায় এবং চশমা ভেঙে যায়। এই অবস্থাতেই তিনি হেঁটে এগোতে থাকলে বিক্ষোভকারীরা তার মাথায়, ঘাড়ে ও শরীরে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারে। এ সময় তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও ভাঙচুর করা হয়।
বিধ্বস্ত অবস্থায় নিহত তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে পৌঁছে ছবির সামনে দাঁড়িয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অভিষেক। তিনি পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান বিজেপি সরকার ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে নিশানা করে বলেন, মাথায় হেলমেট থাকায় আমার মাথাটা বেঁচে গেছে। ওরা আমার চশমা ভেঙে দিয়েছে। আমি হয়তো কোনোভাবে এখান থেকে বেরিয়ে যাব, কিন্তু এরপর সঞ্জু কর্মকারের বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ওপর ওরা আবারও চড়াও হবে।
তিনি আরও বলেন, ওরা আমাকে মেরে ফেলতে চায়! মেরে ফেলুক! কিন্তু আমি এখান থেকে যাব না। সঞ্জুর বৃদ্ধ বাবা-মাকে ছেড়ে কোথাও যাব না। আমি কলকাতা হাইকোর্ট এবং রাজ্যপালের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছি।
হামলাকারীরা এখন নিহত কর্মীর বাড়ির দরজা ভাঙার চেষ্টা করছে। অথচ এখানে কোনো পুলিশ নেই। আমি এসপি এবং আইসি-কে জানাতে বলেছি, কিন্তু এখনো কোনো পুলিশ বাহিনী আসেনি।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর তিন সপ্তাহ কেটে গেছে। শনিবার (৩০ মে) প্রথম রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর দক্ষিণ এবং বেলেঘাটার দুই আক্রান্ত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করার কথা ছিল তার।
এদিকে, এই ঘটনার সমসাময়িক সময়ে দুপুর ১টা ২০ মিনিট নাগাদ কলকাতার হরিশ মুখার্জি রোডে অভিষেকের বাসভবন শান্তিনিকেতন-এ যায় রাজ্য সিআইডির একটি দল। তবে তার নিরাপত্তারক্ষী ও কর্মীরা জানান, বাড়িতে তৃণমূল নেতা বা তার পরিবারের কেউ নেই। বিধানসভায় তৃণমূল বিধায়কদের সই-জালিয়াতি'র মামলার তদন্তে সিআইডি এই অভিযান চালিয়েছিল বলে জানা গেছে। প্রায় একই সময়ে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ জানান, দলটির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তখন তার নিজ বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন।
টিজে/টিএ