© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ম্যারাডোনার খেলা দেখেই আর্জেন্টিনার ভক্ত হয়েছিলাম: আশরাফুল

শেয়ার করুন:
ম্যারাডোনার খেলা দেখেই আর্জেন্টিনার ভক্ত হয়েছিলাম: আশরাফুল

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৮:২২ পিএম | ৩০ মে, ২০২৬
একটা মজার ব্যাপার কি জানেন, বেশির ভাগ ক্রিকেটারই ছেলেবেলা কিংবা কৈশোরে ক্রিকেটের চেয়ে ফুটবলে বেশি মনোযোগী ছিলেন। ফুটবলার হওয়ার ইচ্ছেই বেশি পোষণ করতেন তারা।
পৃথিবীতে যত নামি, তারকা ক্রিকেটার আছেন, তাদের বড় অংশের জীবনী ঘেঁটে জানা যায়, অনেকেই ছেলেবেলায় ছিলেন ফুটবল অন্তঃপ্রাণ। প্রথম জীবনে ফুটবলই ছিল তাদের প্রথম পছন্দ। পরে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চিন্তার পরিবর্তন ঘটে। একদম ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটপাগল, ফুটবল নয় ক্রিকেট খেলতে বেশি ভালোবাসতেন- সে সংখ্যা বেশ কম। সেই কম সংখ্যক দলের সদস্য মোহাম্মদ আশরাফুল।

ক্রিকেট তার ধ্যান-জ্ঞান। ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতেন ক্রিকেটার হওয়ার। গুরু ওয়াহিদুল গনির ‘অংকুর ক্রিকেট একাডেমিতে’ কোচিং করার আগে, অর্থ্যাৎ শিশুকাল থেকে কৈশোরে পা রাখার আগেই ক্রিকেটার হওয়ার ইচ্ছেটা ছিল প্রবল।
ফুটবল আশরাফুলকে সেভাবে টানত না। শুনে অবাক হবেন, বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথম তারকা মোহাম্মদ আশরাফুল সেভাবে ফুটবলও খেলতেন না। ছেলেবেলায় পাড়ার খেলার সাথীদের সঙ্গে একটু-আধটু ফুটবল খেলেছিলেন; কিন্তু স্কুল টিম, কলেজ টিমের হয়ে ফুটবল খেলেননি কখনো।

এমনকি আশরাফুল যখন শিশুকাল পেরিয়ে শৈশবে পা রাখেন, তখন সারা বাংলাদেশে ফুটবলের জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া। ঢাকাই ফুটবলের তখন সোনালী সময়। ঢাকা লিগ তখন দক্ষিণ এশীয় ফুটবলের অন্যতম সেরা, আকর্ষণীয় ও জমজমাট।
সে সঙ্গে রাজধানী ঢাকায় তখন কিশোর ফুটবলও অনেক জনপ্রিয়। ঢাকা শহরের সর্বত্র বছরজুড়ে বয়সভিত্তিক ও উচ্চতার মানদণ্ডে আকর্ষণীয় কিশোর ফুটবল টুর্নামেন্ট হতো। ৪ ফুট ৪, ৪ ফুট ৮ আর ৪ ফুট ১০ ইঞ্চি উচ্চতার কিশোরদের নিয়ে শহরের কোথাও না কোথাও জমজমাট ফুটবল আসর বসত।

কোথাও কোথাও মাঠ ছিল না, সেখানে কিশোর ফুটবলের আসর বসত রাস্তায়। গলির ভেতরের সেসব ফুটবল আয়োজন দেখতে হাজার হাজার দর্শকের উপস্থিতিও ঘটত। কিন্তু কিশোর মোহাম্মদ আশরাফুলকে সেসব আসর টানত না। তার মন পড়ে থাকত ক্রিকেটে, ‘ওয়াহিদ স্যারের’ (সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার ওয়াহিদুল গনি) একাডেমির ক্লাসে।

হয়তো ভাবছেন, বাংলাদেশের ক্রিকেটের বড় নাম আশরাফুল বুঝি ফুটবলবিমুখ। না, তাও না। আশরাফুল ফুটবলও পছন্দ করেন এবং বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আশরাফুলের মাঝে ফুটবলপ্রেম জাগ্রত হয়। সেটা মূলত ফুটবলের রাজা, সর্বকালের অন্যতম সেরা প্রতিভা দিয়েগো ম্যারাডোনাকে দেখেই ফুটবলে উৎসাহী হন আশরাফুল। সে সঙ্গে বনে যান আর্জেন্টিনার পাঁড় সমর্থকে।

এবারের বিশ্বকাপ ফুটবলেও আর্জেন্টিনাই আশরাফুলের প্রিয় দল। তার প্রথম পছন্দের ফুটবলার লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে নিজের স্মৃতিচারণের গল্প শোনাতে গিয়ে আশরাফুল দেশের এক গণমাধ্যমকে জানান, ছেলেবেলা থেকেই ক্রিকেটই ছিল তার প্রথম পছন্দ। স্বপ্ন দেখা বহুদূর, জীবনে কখনো ফুটবলার হওয়ার ইচ্ছেও জাগেনি।

কিন্তু যখন প্রশ্ন করা হলে জানালেন কম খেললেও ফুটবল ভালোই খেলতেন, ‘আমি ফুটবল ভালোই খেলতাম। তবে ফুটবলার হওয়ার ইচ্ছে জাগেনি কখনো। সেই বুঝ হওয়ার পর থেকেই ক্রিকেটই আমার ধ্যান-জ্ঞান। আমি ছেলেবেলা থেকে ক্রিকেটারই হতে চেয়েছি। ক্রিকেট নিয়ে মেতে ছিলাম। ফুটবলে আমি কখনো ক্রেজি ছিলাম না।’

কিন্তু শোনা যায়, আপনি নাকি ফুটবল ভালোই খেলতেন? ‘হ্যাঁ, খেলতাম। ছোটবেলায় যতটুকুই খেলেছি, ভালোই খেলেছি। আসলে ফুটবল খেলার চেয়ে দেখায় আগ্রহ বেশি আমার মাঝে। এবং সেই আগ্রহটা সৃষ্টি হয়েছে মূলত বিশ্বকাপ থেকে।’
সেটা কিভাবে? বিশ্বকাপ কিভাবে আপনাকে ফুটবল খেলা দেখায় উৎসাহী করল? সে গল্পটা একটু শোনাবেন? আশরাফুল বললেন, ‘আমার এমনিতে সাল, বছর, পরিসংখ্যান ও তথ্য-উপাত্ত ভালোই মনে থাকে। তবে এক্ষেত্রে ঠিক বছরটা মনে নেই (১৯৯৪ বিশ্বকাপ)। এটুকু মনে আছে, রবার্তো ব্যাজিওর খেলা দেখে মুগ্ধ হয়েছি। আমি প্রথমবার যখন টিভিতে বিশ্বকাপ দেখি, সেবার রবার্তো ব্যাজিও খুব ভালো খেলছিলেন। তার প্রায় একার নৈপুণ্যে ইতালি ফাইনালে উঠেছিল; কিন্তু ফাইনালে ইতালির রবার্তো ব্যাজিও পেনাল্টি মিস করেছিলেন। তা দেখে খুব মন খারাপ হয়েছিল।’

‘ব্যাজিও ফাইনালে যে পেনাল্টি কিক নিয়েছিলেন, তা ক্রসবারের ওপর দিয়ে বাইরে চলে যায়। সেই পেনাল্টি মিসের ঘটনাটা আমার মনে দাগ কেটে আছে। আমি খুবই শকড হয়েছিলাম। কারণ, ওই বিশ্বকাপে ব্যাজিওর খেলা দেখে দেখেই আমি ইতালিকে সাপোর্ট করেছিলাম। বলতে পারেন, শিশুকাল পেরিয়ে কৈশোরে পা রাখার আগে আমার প্রিয় দল বনে গিয়েছিল ইতালি। আমি তখন ইতালির সাপোর্টার ছিলাম। কিন্তু ব্যাজিওর পেনাল্টি মিসে ইতালি হেরে যাওয়ায় মনটা খুব খারাপ হয়ে পড়েছিল। একা ফাইনালে নিয়ে এসেছিল। পরে তার মিসেই হেরে গেল। আমার যতটুকু মনে পড়ে, ওই বিশ্বকাপটাই আমি মন দিয়ে দেখেছি। ইতালিকে সাপোর্ট করেছিলাম।’ আপনি যে বিশ্বকাপের ঘটনা বলছেন, সেটা ১৯৯৪ সালের ওয়ার্ল্ডকাপ। আপনার বয়স তখন কত? ‘আমার বয়স তখন ১০।’ কিন্তু আপনি বুঝে বিশ্বকাপ ফুটবল দেখতে শুরু করেন কবে থেকে? ‘সেটা ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপ। ততদিনে আমি পুরোদস্তুর আর্জেন্টিনার সাপোর্টার হয়ে গেছি।’

সেটা কিভাবে? ‘আসলে ছেলেবেলা থেকে দিয়েগো ম্যারাডোনার কথা শুনতাম সবার মুখে। পত্রিকার খেলার পাতায় ম্যারাডোনার ছবি ছাপা হতো। আর টিভিতে খেলা দেখাত। ওসব খেলা দেখে দেখেই ম্যারাডোনার ভক্ত হয়ে পড়েছিলাম। ম্যারাডোনার অসামান্য ফুটবল স্কিল দেখে অভিভূত হতাম। মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে থাকতাম, কারো পায়ের কাজে এত যাদু থাকতে পারে!’

‘দেখতাম ম্যারাডোনা একাই চার-পাঁচজনকে কাটিয়ে প্রতিপক্ষ দলকে নাস্তানাবুদ করে ছাড়তেন। কি অসাধারণ দক্ষতায় কয়েকজনকে কাটিয়ে একটি মাপা সেন্টার বা নিপুণ থ্রু ঠেলতেন! ওসব দেখে খুব মুগ্ধ হতাম। ভক্ত হয়ে গিয়েছিলাম। ম্যারাডোনার পর লিওনেল মেসির খেলাও খুব ভালো লাগে। আমি তার ফ্যান।’

এবারের বিশ্বকাপে আপনার প্রিয় দল আর্জেন্টিনাকে নিয়ে প্রত্যাশা কী? ‘আমি এবারও আর্জেন্টিনাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখছি। আশা করব আর্জেন্টাইনরা ভালো খেলবে ‘

‘তবে সত্যি কথা বলতে কি, আর্জেন্টিনার বর্তমান দল সম্পর্কে আমাদের ধারণা তুলনামূলক কম। আমি মাঝে কিছুদিন সেভাবে ফলো করিনি। নিজের ক্রিকেটীয় কর্মকাণ্ড নিয়েই ব্যস্ত ছিলাম বেশি। তবে বিশ্বকাপ মাঠে গড়ালে ঠিক দেখব। আশা করি আর্জেন্টিনা ঠিক ভালো করবে। মেসির জাদুকরি ফুটবল প্রতিভায় মেতে উঠবে বিশ্বকাপের মাঠ।’

এবি/টিএ

মন্তব্য করুন